কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল (Youtube Channel) তৈরি এবং কাস্টমাইজ করবো

youtube

ইউটিউব হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও ডিসপ্লে প্লাটফর্ম।বর্তমানে Youtube Channel এ সকল ধরনের ভিডিও দেখা যায়। প্রতিদিন আনন্দ পিয়াসীরা বা জ্ঞান পিপাসুরা কিছু না কিছু জানার জন্য গুগুল এবং ইউটিউব চ্যানেলে সার্চ করে চলেছে। গুগুল এবং ইউটিউব চ্যানেল তাদের সার্চ অনুযায়ী তথ্য দিয়ে চলেছে। কিন্তু বেশীর ভাগ ভিজিটর এখন গুগুলে র্আটিকেল পড়ার চেয়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে। কারন ইউটিউব প্রয়োজন অনুযায়ী বিনোদন থেকে শুরু করে সব কিছুই একটি মজাদার পরিবেশনের মাধ্যমে ভিজিটরদেরকে তৃপ্তি দান করছে।তাই ইউটিউবের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে বর্তমানে ইউটিউবে ক্যারিয়ার গড়ার দারুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল (Youtube Channel ) তৈরি এবং কাস্টমাইজ করবো।

ইউটিউব কি :

ইউটিউব হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সফটওয়ার। ইউটিউব গুগুলের একটি প্রডাক্ট। যেমন গুগুল ম্যাপস, জিমেইল, গুগুল ড্রাইভ, গুগুল প্লাস এগুলো গুগুলের প্রডাক্ট। তেমনি ইউটিউবও গুগুলের একটি পার্ট। গুগুল ইউটিউবকে ২০০৬ সালে ক্রয় করে নিয়ে সবার জন্য ফ্রিতে ওপেন করে দেয়। এখানে যে কেউ ভিডিও আপলোড করতে পারে। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ৩০০ ঘন্টার ভিডিও আপলোড হয় এই প্লাটর্ফমে।তাই ইউটিউব হচ্ছে ভিডিও আপলোড বা ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করার একটি অন্যতম সফটওয়ার।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল ( Youtube Channel ) তৈরি করবো :

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ না।তবে একেবারে সহজ তাও বলবো না।চেষ্টা করলে আপনিও পারবেন। এই র্আটিকেলটি নতুনদের জন্য, প্রফেশনালদের জন্য না।তার তো আগে থেকেই সব জানেন।নতুনদের জন্য কিভাবে একটি প্রফেশনাল মানের ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারবেন সে বিষয়ে আলোকপাত করবো।ইউটিউব চ্যানেল দুই ধরনের তৈরি করা যায়। এক পার্সোনাল ইউটিউব চ্যানেল, দুই কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নামে (Brand) ইউটিউব চ্যানেল। যে কোন ধরনের ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেন না কেন নিয়ম প্রায় একই।ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে গেলে গুগুল একাউন্ট যে নামে থাকেবে সে নামেই চ্যানেলটি হবে। আর ব্যান্ড চ্যানেল তৈরি করলে আপনি ইচ্ছা মত নাম দিয়ে চ্যানেল খুলতে পারবেন। এবার আসুন চ্যানেল তৈরি করার নিয়ম জেনে নেই।

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে গেলে প্রথমে দরকার পড়বে একটি জিমেইল একাউন্ট। আপনার যদি আগে থেকে কোন জিমেইল একাউন্ট থাকে সে জিমেইল দিয়ে চ্যানেল খুলতে পারবেন। আর যদি না থেকে থাকে তবে এই লিংকে ক্লিক করে জিমেইল একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন। লিংকটি হলো –https://www.ictcorner.com/email/ এই লিংকে ক্লিক করলে একটি র্আটিকেল দেখতে পাবেন। সে নিয়ম ফলো করে একটি জিমেইল আইডি খুলে নিন।

তারপর যে কোন একটি ব্রাউজার ওপেন করুন।তাতে www.youtube.com লিখে ক্লিক করুন।একটা ইন্টারফেস আসবে। তাতে আপনার উক্ত জিমেইল আইডি দিয়ে সাইন ইন করুন।তারপর উপরে কর্ণারে গোলাকার অংশে ক্লিক করুন।দেখবেন একটি ড্রপ ডাউন বক্স আসবে। তাতে Create a Channel এ ক্লিক করুন। তারপর Get Started এ ক্লিক করুন। দুটি অপশন পাবেন। প্রথমটা বা বামেরটা ব্যক্তিগত চ্যানেল খুলতে চাইলে ক্লিক করুন। দ্বিতীয়টা বা ডানেরটা Barand চ্যানেল খুলতে চাইলে ক্লিক করুন। আমি সাজেস্ট করবো দ্বিতীয়টা অর্থৎ ব্রান্ড চ্যানেল খুলুন। প্রথমটা বা ব্যক্তিগত চ্যানেল খুলতে চাইলে আপনার নাম দিন তারপর টিক চিহ্ন দিন এবং Create বাটনে ক্লিক করুন। আপনার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল তৈরি হয়ে গেল।এবার কাস্টমাইজ করতে হবে। আপনার একটি প্রোফাইল পিকচার দিন, কভার ফটো যুক্ত করুন এবং আপনার ওয়েবসাইট লিংকসহ বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ার লিংক যুক্ত করুন। তারপর Save and Continue তে ক্লিক করুন।আপনার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল তৈরি হয়ে যাবে। ‍

দ্বিতীয়ত, আপনার যদি পূর্বে কোন চ্যানেল খোলা থেকে থাকে তাহলে আরেকটি চ্যানেল খোলার ক্ষেত্রে Brand Account ব্যবহার করে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে।একাধিক চ্যানেল খোলার ক্ষেত্রে প্রথমে ইউটিউব চ্যানেলে লগিন করুন।তারপর উপরের কর্ণারে প্রোফাইল পিকচার বা লগো থাকলে তাতে ক্লিক করুন। নিচের মতো একটা ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

এখানে Settings এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটা ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

এখানে Add or manage your channel (s) ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটা ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

এখানে আগের চ্যানেল গুলোও দেখতে পাবেন।এখন উপরে + চিহ্ন গোলাগারে Create a new channel এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

এখানে Brand Account name এর জায়গায় আপনার পছন্দ মতো একটি চ্যানেলের নাম লিখুন। তাপর Create বাটনে ক্লিক করুন। বাছ হয়ে গেল আপনার ইউটিউব চ্যানেল।এখন আপানর ইউটিউব চ্যানেল কাস্টমাইজ করে চ্যানেলটি রান করতে হবে।

কিভাবে ইউটিউব Profile Picture ও channel Art যুক্ত করবো :

ইউটিউব চ্যানেল Create করার পর আপনার চ্যানেলকে কাস্টমাইজ করতে হবে। চ্যানেল Create এর পর নিচের মতো একটা ইন্টারফেস আসবে।সেখানে CUSTOMIZE CHANNEL ক্লিক করুন।

তারপর ‍নিচের মতো ইন্টারফেস আসবে। এখানে লাল গোলাকার এম চিহ্ন স্থানে ক্লিক করে আপনার প্রোফাইন ছবি বা লোগো সেট করুন। Basic info এর জায়গায় আপনার চ্যানেলের Description লিখুন, Add Language এর জায়গার ভাষা সেট করুন, Link এর জায়গায় আপনার ওযেবসাইট লিংক, বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ার লিংক সেটাপ করে দিন। ইমেইলের জায়গার আপনার ইমেইল দিন।Branding থেকে ব্যানার ইমেজ সেট করে দিতে পারেন বা পরর্বতীতেও ইডিট করে সেট করতে পারবেন। তারপর Publish এ ক্লিক করুন।ok.

এখানে উল্লেখ্য আপনার লোগো সাইজ 800 x 800 px সাইজের হতে হবে। চ্যানেল আর্ট বা ব্যানার সাইজ 2460 x 1440 px সাইজের হতে হবে।

কিভাবে ভিডিও আপলোড করবো :

ভিডিও আপলোড করার আগে আপনাকে ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে হবে। ভিডিও তৈরি করার জন্য আপনি দুটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন। প্রথমত হলো ভিডিও ক্যামেরা বা স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন এবং দ্বিতীয়ত হলো কম্পিউটার বা মোবাইলের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের টিউটরিয়াল ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে পারেন। ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে আপনাকে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।আপনাকে প্রথমে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে নিতে হবে।আপনি যে ক্যাটাগরির ভিডিও বানান না কেন, তা হতে হবে মজাদার, আনন্দদায়ক ও শিক্ষনীয়। সবসময় মনে রাখবেন আপনি যে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করেন না কেন তা যেন মানুষের কাজে লাগে বা উপকারে আসে।আর একটা কথা মনে রাখাবেন কখনো কারো ভিডিও নকল করবেন না। তাহলে কিন্তু কপিরাইট আইনে ফেঁসে যাবেন। আপনার চ্যানেল ব্যান্ড হয়ে যাবে। এখন আসুন কিভাবে ভিডিও আপলোড করবেন্।চ্যানেল Create করার পর উপরে দেখুন Upload a video to get started এর নিচে নীল কালির মধ্যে Upload video লেখা রয়েছে তাতে ক্লিক করুন।তখন আপনাকে আপনার কম্পিউটারের ডাউনলোড ফল্ডারে নিয়ে যাবে। সেখানে থেকে আপনার ভিডিও চয়েছ করে আপলোড করুন। অথবা একেবারে উপরে দেখতে পাবেন + চিহ্ন আছে। সেখান থেকেও ভিডিও আপলোড করতে পারবেন।

কিভাবে ইউটিউট চ্যানেল (Youtube Channel) ভেরিফাই করবো :

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পর তা ভেরিফাই করতে হবে। তানাহলে আপনার চ্যানেলে ৫ মিনেটের বেশি ভিডিও আপলোড করতে পারনেন না। আপনার চ্যানেলটি মনিটাইজ করতে পারবেন না। আপনার চ্যানেল থেকে টাকা আয় করতে পারবেন না।তাই ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পর ভেরিফাই করা আবশ্যক।ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করতে হলে আপনার চ্যানেলে যেতে হবে। চ্যানেল থেকে Sattings এ যেতে হবে।সেটিংসে ক্লিক করলে নিচের মতো একটা ইন্টারফেস আসবে।

এই ইন্টারফেসে লাল গোল চিহ্ন দেওয়া Channel status and features এ ক্লিক করুন।তারপর নিচের মতো একটা ইন্টারফেস আসবে।

উপরে ইন্টারফেসে লাল গোল চিহ্ন দেওয়া Verify এর উপর ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটা ইন্টারফেস আসবে।

এখানে Select your country এর জায়গার আপনার দেশের নাম সিলেক্ট করে দিন।তারপর Text me the verification code এর জায়গায় বিত্তটি ভরাট করুন।অর্থাৎ ক্লিক করুন। তারপর What is your phone number এর জায়গায় আপনার সঠিক ফোন নম্বার বসে Submit করুন। সাবমিট করার পর আপনার ফোনে একটি ভেরিফেকেশন কোড আসবে। সেই কোডটি ফাঁকা ঘরে পূরুন করুন।তারপর Submit বাটনে ক্লিক করুন।এবার দেখুন লেখা আসছে Congratulations ! Your youtube account is now verified. বাছ আপনার একাউন্ট ভেরিফাই হয়ে গেল।

ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চাইলে লিংকে ক্লিক করুন – https://www.ictcorner.com/online-income/

পরিশেষে উল্লেখ্য যে ইউটিউব চ্যানেল Create, Logo & Banner ad, video upload, Channel verified ইত্যাদি সম্পর্কে বুঝতে পারলেন।এখন আপনাদের ভিডিও আপলোডের পালা। আপনারা যখন ভিডিও আপলোড করবেন তখন ভিডিও টাইটেল, ডিসক্রেপশন ও ট্যাগ ঠিক ভাবে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন।বিশেষ করে টাইটেল ও ট্যাগ খুবই গুরুত্বপূর্ন। টাইটেল ভিজিটরদের আকর্ষন করে আর ট্যাগের মাধ্যমে সহজে খোজে পাওয়া সম্ভব হয়। একটি ইউটিউব চ্যানেল ( Youtube Channel ) তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক দৃষ্টি দিতে হয় উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো ছাড়াও আরো অনেক বিষয় রয়েছে সে গুলো সম্পর্কে আপনারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন। আমি ব্যাসিক বিষয় গুলো তুলে ধরলাম। যা নতুনদের জন্য অনেক হেলপফুল হিসাবে কাজে দিবে।কোথাও যদি বুঝতে সমস্যা হয় কমেন্টে জানাবেন।আশা করি সহযোগিতা পাবেন।

Related posts

Leave a Comment