ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট কি এবং Virtual Assistant কাজে কি কি যোগ্যতার প্রয়োজন

Virtual Assistant

ভার্চুয়াল জগতে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের (Virtual Assistant) প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। অনলাইন সেক্টরে দিন দিন কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রতিটি সেক্টরে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট নিয়োগের প্রয়োজন পরছে। ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের কাজ হচ্ছে ভার্চুয়ালী ভাবে অফিসের বসকে বা বায়ারকে কাজে সহায়তা করা বা ভার্চুয়াল ভাবে সহকারী হিসাবে কাজ করা। ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট একটি অনলাইন সেবা মূলক কাজ। যা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানকে এই সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। আজকে আমরা ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। প্রশ্ন হচ্ছে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট কি এবং Virtual Assistant কাজে কি কি যোগ্যতার প্রয়োজন হয়।

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট (Virtual Assistant) কি :

ভার্চুয়াল শব্দের অর্থ ফলত: বটে কিন্তু বাহ্যত নয় এমন। আর এসিস্টেন্ট অর্থ সহকারী। মূলত: ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট হচ্ছে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে অফিসের বসকে বা বায়ারকে কাজে সহায়তা করাকে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট বলে। এখানে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টগন এডমিনিস্টেটর কাজে সহকারী হিসাবে কাজ করে থাকেন। আবার ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টগন কোন প্রোমট এলাকায় থেকে ব্যবসায়ীকে বা কোন ব্যক্তিকে অনলাইনের মাধ্যমে কাজে সহায়তা করাকে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট বা ভিএ বলে। বিস্তার র্অথে বলা যায় অনলাইনে কোন কম্পিউটার স্কীন শেয়ার সফটওয়ারের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে অফিসিয়াল কাজে বা ব্যবসায়িক কাজে সহকারী হিসাবে কাজ করে দেওয়াকে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট বলে। সাধারনত: এ সমস্ত কাজ গুলো জুম সফটওয়ার বা টিম ভিউয়ার সফটওয়ারের মাধ্যমে করা হয়ে থকে।

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট কাজে যোগ্যতার প্রয়োজন :

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট মানে ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করা। এক্ষেত্রে কোন কাজটি ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের কাজের মধ্যে পড়ে তার বাঁধা ধরা কোন নিয়ম নেই। তবে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের কাজ করতে হলে আপনাকে এম এস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট এবং একসেস সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা থাকেতে হবে। আর ইংরেজী ভাষা জানা থাকতে হবে। সেই সংগে ওয়েব রিসার্চ সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকেতে হবে। বিশেষ করে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট হিসাবে কাজ করতে হলে আপনাকে নিচের বিষয় গুলো সম্পর্কে মোটামুটি জানা থাকতে হবে।

১. স্কীন শেয়ার সফটওয়ার :

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট হিসাবে কাজ করতে হলে প্রথমত আপনাকে স্কীন শেয়ার সফটওয়ার সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। যেমন : জুম সফটওয়ার, টিম ভিউয়ার, এনিস্কীন ও জিপার.কম ইত্যাদি সফটওয়ার সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। এই সমস্ত সফটওয়ারের যে কোন একটি সফটওয়ারের মাধ্যমে ক্লায়েন্টের সাথে সংযোগ স্থাপন করে কাজ করতে হবে। এর জন্য আপনার থাকতে হবে একটি কম্পিউটার বা লেপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ। যার মাধ্যমে বায়ার বা ক্লায়ান্টের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে পারবেন।

২. ওয়েব রিসার্চ করা :

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট হিসাবে কাজ করতে হলে আপনাকে ওয়েব রিসার্চ সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। যেমন: গুগুল এডভান্স সার্চ, গুগুল ট্রেন্ডস, গুগুল নিউজ, গুগুল এলার্ট, গুগুল এনালাইটিক্স, গুগুল ম্যাপ, ইয়লো পেজেস, সার্চ ইন্জিন ও সোসাল মিডিয়া সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংক ফলো করুন। https://www.ictcorner.com/web-research/

৩. ডাটা এন্ট্রি কাজ :

Virtual Assistant হিসাবে কাজ করতে হলে আপনাকে ডাটা এন্ট্রি সম্পর্কে কাজ জানতে হবে। যেমন : অফলাইন ডাট এন্ট্রি, অনলাইন ডাটা এন্ট্রি। ডাটা স্কৃীপিং, ডাটা মাইনিং, ডাটা রিসার্চ, ফটো এডিটিং, এ্যনিমেশন, ব্যাসিক গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি বিষয়ে আপনকে কাজ জানতে হবে। এ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংক ফলো করতে পারেন। https://www.ictcorner.com/data-entry/

৪. এডমিন সাপোর্ট :

এডমিন সাপোর্ট হচ্ছে বায়ারের বা ক্লায়েন্টের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করা। অর্থাৎ বায়ার যে যে ভাবে কাজ গুলো করতে বলবে সে মোতাবেক কাজ গুলো করে দিলেই হলো্। এর জন্য আপনাকে ভিন্ন কোন কাজ শিখতে হবে না। এম এস ওয়ার্ড, এক্সেল জানা থাকলেই হবে। আর আপনার অনলাইন সম্পর্কে সাধারন বিষয় গুলো জানা থাকলেই হবে।

৫. গুগুল ক্যালিন্ডার :

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের গুরুত্বপূর্ন কাজ হচ্ছে গুগুল ক্যালিন্ডার ফলো করা। গুগুল ক্যালিন্ডার হচ্ছে ধরুন, বায়ার আপনাকে অসংখ্য কাজের নির্দেশনা দিল বা এক মাসের কাজের তালিকা ধরে দিল। তখন আপনাকে এক সংগে এত গুলো কাজ মনে রাখা অসম্ভব। তাই আপনাকে কি করতে হবে গুগুল ক্যালিন্ডারের সাহায্য নিতে হবে। গুগুল ক্যালিন্ডারে এই সমস্ত কাজ গুলো তারিখ অনুসারে সাজিয়ে লিখে রাখতে হবে। সেটিংস থেকে সেট করে দিতে হবে কোন তারিখে কোন কাজ করতে হবে। সেটিং অনুসারে গুগুল আপনাকে নির্ধারিত তারিখে এলার্ম দিয়ে জানিয়ে দিবে বা মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে দিবে।

৬. চেটিং সফটওয়ার :

অনলাইনে চেটিং সফটওয়ার সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। কারন যে কোন সময় আপনাকে বায়ার বা ক্লায়েন্ট আপনাকে স্মরন করতে পারে বা কল করতে পারে। সফটওয়ার গুলো হচ্ছে স্কাইফিং, হেংক আউট, হোটসএ্যাপ, ম্যাসেন্জার ইত্যাদি সফটওয়ার সম্পর্কে সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। এই সমস্ত সফটওয়ারের মাধ্যমে বিনা খরচায় কথা বার্তা আদান প্রদান করতে পারেন।

৭. ইমেইল হেন্ডিলিং এবং রিস্পন্স করা :

Virtual Assistant কাজে ইমেইলের ব্যবহার জানা থাকা আবশ্যক। কারন ইমেইলের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। ইমেইল হেন্ডেলিং করা , ইমেইল রিস্পন্স করা, ইমেইল আদান প্রদান করা দরকার হয়ে পড়ে। বায়ারের কাছে অসংখ্য ইমেইল আসতে পারে। সে গুলো রিসিপ করতে হবে এবং সেগুলো উত্তর বা ফিরতি ম্যাসেজ লিখে পাঠাতে হবে। এক কথায় ইমেইলের সঠিক ব্যবহার জানা থাকতে হবে।

৮. ইংলিশ স্পিকিং এন্ড রাইটিং :

ইংলিশ স্পিকিং এন্ড রাইটিং জানা থাকতে হবে। অর্থাৎ ইংরেজী ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে হবে এবং ইংরেজী ভাষায় লিখায় পারদর্শী হতে হবে। কারন বায়ার সাধারনত আমিরেকা, কানাড, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি দেশের হয়ে থাকে। তারা ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করে থাকে। তাদের সাথে কথা বার্তা বলতে হলে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে হবে।

৯. জেনারেল নলেজ এবং আর্টিকেল রাইটিং :

জেনারেল নলেজ বা সাধারন জ্ঞান থাকতে হবে। কারন ওয়েস্টার্ন কান্ট্রি সম্পর্কে কাজ করতে গেলে তাদের সম্পর্কে ধারনা থাকা দরকার। আর মোটামুটি ইংরেজীতে আর্টিকেল লিখা জনাতে হবে। বায়ার যে নির্দেশনা দেয় সে মোতাবেক সাধারন ভাবে কন্টেন্ট লিখতে হতে পারে। মোটামুটি ইংরেজী ভাষা জানা থাকলেই হবে। গুগুলে ট্রান্সিলিট করেও কন্টেন্ট গুলো লিখতে পারবেন।

১০. ইমেজ এডিটিং এবং ভিডিও এডিটিং করা :

ইমেজ এডিটিং এবং ভিডিও এডিটিং সম্পর্কে ব্যাসিক ধারনা থাকতে হবে। অনেক সময় ছবি বা কোন ভিডিও এডিটিং করা লাগতে পারে। যদিও এ কাজ গুলোর তেমন দরকার নেই। তবুও প্রয়োজনে ব্যবহার করা লাগতে পারে। তাই ব্যাসিক ধারনা থাকতে হবে। বিশেষ করে ছবি এডিটিং করতে হতে পারে। এই কাজ গুলো জানার জন্য গ্রাফিক্স জানতে হবে না। ক্যানভা নামক সফটওয়ার দিয়ে করতে পারবেন।

সর্বপরি কথা হচ্ছে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট (Virtual Assistant) কাজ খুব একটা কঠিন না। মোটামুটি এম এস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং ইন্টারনেট সার্চ সম্পর্কে ধারনা থাকলেই এই কাজটি করতে পারবেন। এই লেখায় মনে হতে পারে কঠিন কোন কাজ। আসলে ততো কঠিন না। আপনি শুরু করে দেখতে পারেন। ডাটা এন্ট্রি এবং ওয়েব রিসার্চ কাজ জানা থাকলে আপনি অনায়াসে সব কাজ করতে পারবেন। বায়ার বা ক্লায়েন্টের ইনেস্ট্রাকশন মোতাবেক কাজ গুলো করে দিতে পারলেই সাফেসিয়ান। ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের কাজ ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সিং সাইটে প্রচুর পাওয়া যায়। এই কাজের চাহিদা প্রচুর। আপনিও ইচ্ছ করলে এই কাজটি করে আয় করতে পারেন।

Related posts

Leave a Comment