আপওয়ার্ক (Upwork) কি ? আপওয়ার্কে কি কি কাজ পাওয়া যায় এবং কিভাবে বিড করবেন

Upwork

আপওয়ার্ক (Upwork) বর্তমানে অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস। আপওয়ার্কের পূর্ব নাম ছিল ওডেস্ক। ২০১৩ সালে ওডেস্ক ও ইল্যান্স মিলে আপওয়ার্ক হয়েছে। আপওয়ার্কে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কাজ পাওয়া যায়। যেমন : ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডিভোলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এস ই ও, ভিডিও মার্কেটিং ইত্যাদি। আপনি যদি অনলাইন বিষায়ক কোন একটি কাজ সম্পর্কে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপওয়ার্কে কাজ করতে পারবেন। আজকে আমরা জানবো আপওয়ার্ক (Upwork) কি ? আপওয়ার্কে কি কি কাজ পাওয়া যায় এবং কিভাবে বিড করবেন।

আপওয়ার্ক (Upwork) কি :

আপওয়ার্ক হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। শুরুতে এটি ওডেক্স নামে পরিচিত ছিল। যা পরবর্তীতে ইল্যান্সের সাথে একত্রিত হয়ে আপওয়ার্ক নামে আত্মপ্রাকাশ করে। অনলাইনে যারা কাজ করে তাদের স্বপ্ন থাকে আপওয়ার্কের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করা। আপওয়ার্কে দুই ধরনের ব্যক্তি রেজিষ্ট্রেশন করে থাকে। এক, ক্লাইন্ট অর্থাৎ যে কাজ দিবে। দুই, কন্টাক্টর অর্থাৎ যে কাজ করে দিবে। আপওয়ার্ক এমন একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেখানে সারা পৃথিবীর প্রায় ১ কৌটি ফ্রিল্যান্সারগন কাজ করে থাকে। মোটকথা আপওয়ার্ক হচ্ছে অনলাইন ইনকামের অন্যতম সফটওয়ার। এখানে প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। তারপর কাজের জন্য বিড করতে হয়। বিডের মাধ্যমে ক্লাইন্ট থেকে কাজ পেলে তা সঠিক ভাবে সম্পূন্ন করে জমা দিতে হয়। বিনিময়ে যে ডলার বা টাকা পান তার ২০% কেটে নিয়ে আপনাকে ৮০% পেমেন্ট করে থাকে।

আপওয়ার্কে কাজের ধরন :

আপওয়ার্কে দুই ধরনের কাজ পাওয়া যায়। ১. ফিক্সড প্রাইজ কাজ ও ২. ঘন্টা চুক্তি কাজ।

১. ফিক্সড প্রাইজ কাজ :

ফিক্সড প্রাইজের কাজ হচ্ছে কোন কাজ পোস্ট করার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমান এমাউন্ট উল্লেখ করা থাকে। যে এত ডলারের বিনিময়ে এই এই কাজ করতে হবে। নির্দিষ্ট এমাউন্ট বা ডলারের বিনিময়ে যে নির্দিষ্ট কাজ করে দেওয়া হয়ে থাকে তাকে ফিক্সড প্রাইজ কাজ বলা হয়ে থাকে। কাজের তালিকায় দেখবেন হেডলাইনের নিচে বা পাশে কোন জায়গায় ফিক্সড প্রাইজ বা ঘন্টা চুক্তি তা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুনদের জন্য ফিক্সড প্রাইজের কাজ ঝুকিপূর্ন। কারন ধরুন আপনি ১০০ ডলারের একটি কাজ করে জমা দিলেন। কিন্তু বায়ার বা ক্লাইন্ট বলছে আপনার কাজ ঠিক মতো হয় নাই। তখন পেমেন্ট দেবে না। হয়তো আপওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যস্ততা হবে তা আপনার পক্ষে না আসার সম্ভাবনা বেশি। কারন তারা ক্লাইন্টকে প্রধান্য বেশি দিয়ে থাকে। তারা ক্লাইন্ট হারাতে চায় না। আপনি না থাকেলেও তাদের কোন সমস্যা নাই। ফলে কি হবে আপনার একাউন্টের পাশে one dispute সৃষ্টি হবে। পরবর্তীতে কোন বায়ার আর সহজে কাজ দিতে চাইবে না। আমি বলছি না যে ফিক্সড প্রাইজের কাজ করবেন না। আমি বলতে চাইছে যে আপনি বুঝে শুনে কাজে বিড করবেন। যে কাজ আপনি সঠিক ভাবে করতে পারবেন কেবল সেই কাজ গুলোতে বিড করবেন। তাতে ঝুকিমুক্ত থাকবেন।

২. ঘন্টা চুক্তি কাজ :

ঘন্টা চুক্তি কাজ হচ্ছে প্রতি ঘন্টায় একটি নির্দিষ্ট পরিমান এমাউন্ট নির্ধারিত থাকে। যত ঘন্টা কাজ করবেন ততো ঘন্টার মূল্য পাবেন। নতুনদের জন্য ঘন্টা চুক্তি কাজ সুবিধাজনক। কাজের রেট অবশ্য কম। তবে কাজে তেমন কোন ঝুকি নেই। অল্প কিছু ভূল হলেও ঠিকই তারা পেমেন্ট করে থাকে। পুরাতনরা সাধারনত ঘন্টা চুক্তি কাজ করতে চায় না। কারন রেট কম থাকে। তারা ফিক্সড প্রাইজের কাজ বেশি করে থাকে। আর নতুনরা ঘন্টা চুক্তি কাজ বেশি করে থাকে। আমার কথা হচ্ছে কাজ কাজই। যে কাজ আপনি সঠিক ভাবে করতে পারবেন বলে মনে করেন আপনি সেই কাজই করবেন। ফিক্সড হোক বা ঘন্টা চুক্তিই হোক।

পড়ুন : কিভাবে ডাটা এন্ট্রি কাজ করবেন

আপওয়ার্কে (Upwork) কি কি কাজ পাওয়া যায় :

ফ্রিল্যান্সিং জগতে আপওয়ার্কে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কাজ পাওয়া যায়। আপওয়ার্কে যে সমস্ত কাজ পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম কাজ গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

১. ওয়েব ডিজাইন

২. ওয়েব ডিভোলপমেন্ট

৩. গ্রাফিক্স ডিজাইন

৪. সার্চ ইন্জিন অপটেমাইজেশন ( SEO )

৫. ভিডিও প্রডাকশন

৬. সোসাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

৭. প্রোগামিং

৮. সফটওয়ার ডিভোলপমেন্ট

৯. লেটারেচার

১০. এডভ্যাটাইজিং

১১. টিচিং

১২. অনুবাদ করা

১৩. আর্ট ডিরেকশন

১৪. ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট

১৫. ফটোগ্রাফি এবং এডিটিং

১৬. ডাটা এন্ট্রি করা

১৭. মার্কেটিং

১৮. লিডস জেনারেশন

Upwork কিভাবে বিড করবেন :

আপওয়ার্কে বিড করার আগে আপনার প্রোফাইল ঠিক মতো সাজাতে হবে। প্রথমত আপওয়ার্কে রেজিস্ট্রেশন করে ভেরিফাই করুন। তারপর আপওয়ার্কে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ধাপ গুলো সাঠিক ভাবে পূরুন করে সুন্দর একটি প্রোফাইল তৈরি করুন। তারপর কাজের জন্য অনুসন্ধান করুন। যে কাজটি আপনি সঠিক ভাবে করতে পারবেন বলে মনে করেন সেই কাজে বিড করুন। অন্যথাই বিড করবেন না। এতে আপনার হিতে বিপরিত হবে। কিভাবে বিড করবেন সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করছি।

যখন আপনার কোনো কাজ পছন্দ হবে। তার টাইটেলের উপর ক্লিক করে তা ভালো ভাবে পড়ে নিন। তারপর Submit a Proposal এ ক্লিক করুন। একটি নতুন পেজে আসবে। এই পেজে টারমস ঠিক করে দিন। ডিসক্রেপশন বক্সে কিছু লিখুন, তারিখ ও এমাউন্ট নির্ধারন করে দিন। প্রোজেক্টের সময় নির্ধারন করুন। এবার আসুন কভার লেটার লিখতে হবে। কভার লিটার লেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কভার লেটার লেখার সময় অতিরিক্ত কিছু লেখার চেষ্টা করবেন না। ক্লাইন্ট যে বিষয়ে পোস্ট করেছে সে বিষয় সম্পর্কে ২০০ থেকে ৩০০ ক্যারেক্টারের মধ্যে লিখবেন। প্রথমে Hi অথবা Hello দ্বারা শুরু করবেন। তারপর আপনি কিভাবে কাজটি করতে পারবেন। আপনার স্কিল কি আছে। তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ননা লিখবেন। শেষে Thanks লিখে আপনার নাম লিখবেন। তারপর Attachments এ আপনার কাজের পোর্টফলিও সম্পর্কিত ফাইল আপলোড করে দিন। তারপর Submit a Proposal এ ক্লিক করে বিডের কাজ শেষ করুন।

পড়ুন :

পরিশেষে কথা হচ্ছে আপওয়ার্কে ( Upwork ) কাজ করতে হলে ক্লাইন্ট কি বিষয়ে পোস্ট করেছে তা ঠান্ড মাথায় ভালো ভবে পড়ুন। কখন পোস্ট করেছে, সে কি বিষয়ে কাজ করে নিতে চাচ্ছে। সে বিষয়ে আপনি এক্সপার্ট হলেই কেবল বিড করবেন। তাতে আপনার ক্লাইন্টের প্রশ্নের উত্তর দিতে বা কাজ বুঝে দিতে সুবিধা হবে। বিশেষ করে কভার লিটারের প্রতি গুরুত্ব বেশি দিবেন। তাতে কাজ পেতে সহায়ক হবে। পোস্টে যদি কোন শব্দ উল্লেখ থাকে যে কভার লিটারে লিখতে হবে। তা উল্লেখ করুন নচেৎ কাজ পাবেন না। তাই কভার লিটার সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আজ এই পর্যন্ত। লেখাটি ভালো লা্গলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Related posts

One Thought to “আপওয়ার্ক (Upwork) কি ? আপওয়ার্কে কি কি কাজ পাওয়া যায় এবং কিভাবে বিড করবেন”

Leave a Comment