টিন সার্টিফিকেট (Tin Certificate) তৈরি করার নিয়ম

Tin Certificate

বাংলাদেশে আয়কর দাখিল করতে হলে টিন সার্টিফিকেটের (Tin Certificate) প্রয়োজন হয়। এছাড়া টিন সার্টিফিকেট ছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায় না। বাংলাদেশে নিয়মিত করদাতাদের জন্য টিন সার্টিফিকেট থাকা আবশ্যক। এই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে একজন করদাতাকে বিভিন্ন সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন অফিসে দৌড় ঝাপ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে টিন সার্টিফিকেটের জন্য এনবিআর এর অফিসে যেতে হয় না। আপনি ইচ্ছা করলে ঘরে বসে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারবেন। টিন সার্টিফিকেট কিভাবে তৈরি করবেন তা জানতে হলে এই আর্টিকেলটি ভালো ভাবে পড়ুন। তাহলে টিন সাটিফিকেট তৈরি করার নিয়ম জানতে পারবেন।

টিন সার্টিফিকেট কি :

টিন সার্টিফিকেট (‘Tin’ Certificate) একটি ইংরেজী শব্দ। ইহার এভরিভিশন হচ্ছে ‘Tax Identification number’ Certificate. অর্থাৎ টেক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের মাধ্যমে যে সনদ প্রদান করা হয় তাকে টিন সার্টিফিকেট বলা হয়ে থাকে। ইহার মাধ্যমে করদাতার কর অঞ্চল, করদাতার পদমর্যাদা এবং করদাতার পরিচিতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে টিন সার্টিফিকেটের নম্বার 12 ডিজিটের হয়ে থাকে। টিন সার্টিফিকেট মূলত: করদাতার নম্বারটি বহন করে থাকে। টিন সার্টিফিকেট বা টিন নম্বার করা মানেই আপনাকে কর দিতে হবে এমন কিন্তু নয়। আপনার আয় করসীমার মধ্যে আসলেই কেবল আপনাকে আয়কর দিতে হবে।

টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স সার্টিফিকেট কি কি কাজে প্রয়োজন পড়ে :

অর্থ আইন – 2022 এর মাধ্যমে আয়কর আইনের “ধারা 184 এ” পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রায় 40 ধরনের সেবা নিতে ই-টিনের পরিবর্তে ‘ট্যাক্স রিটার্ন জমার রশিদ বা ট্যাক্স পরিশোধের সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু খাতসমূহ তুলে ধরা হলো।

  1. সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করতে।
  2. মোটরগাড়ির রেজিষ্ট্রেশন বা মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন করতে।
  3. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে 500000 টাবার বেশি লোন আবেদন করতে।
  4. ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আবেদন করতে বা ক্রেডিট কার্ড চালু করতে।
  5. ব্যাংক হিসাবে 1000000 টাকার অধিক অর্থ জমা রাখতে অথবা আ্যাকাউন্ট চালু রাখতে।
  6. 500000 টাকার অধিক সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে অথবা পোস্টাল সঞ্চয় হিসাব খুলতে।
  7. আমদানির জন্য এলসি খুলতে এবং আমদানি/রপ্তানির লাইসেন্স পেতে।
  8. আমদানি/রপ্তানির জন্য বিল অফ এন্ট্রি/বিল অফ এক্সপোর্ট দাখিল করতে।
  9. পন্য বা সেবা সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি কাজের জন্য দরপত্র জমা দিতে।
  10. সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় বিল্ডিং নির্মানের নকশা অনুমোদনের আবেদন করতে।
  11. যে কোন এলাকায় বানিজ্যিক/শিল্প কাজে গ্যাস সংযোগ পেতে কিম্বা চালু করতে।
  12. সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আবাসিক ভবনে গ্যাস সংযোগ পেতে।
  13. কোন কোম্পানীর পরিচালক হতে।
  14. ডিজিটাল প্লাটফর্মে কোন পন্য/ সেবা বিক্রি করতে।
  15. সিটি কর্পোরেশন এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় বিদ্যূত লাইন পেতে।
  16. সিটি কর্পোরেশন , জেলা সদর. পৌরসভা এলাকায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সন্তান ভর্তি করতে।
  17. কোন প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে চাকুরিরত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা পেতে।
  18. সরকারী/আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানে 16000 টাকার বেশি বেসিক বেতন প্রাপ্তদের বেতন পেতে।
  19. এমপিও ভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারের নিকট থেকে মাসিক 16000 টাকার বেশি বেতন পেতে।
  20. সিটি কর্পোরেশন, জেলা পৌরসভা এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় 10 লাখ টাকার অধিক মূল্যের জমি, দালান, ফ্লাট ইত্যাদি ক্রয়ের রেজিষ্ট্রেশন করতে।

উল্লেখ্য, যে সকল ব্যক্তি উপরোক্ত বিষয় বা সেবা গুলো প্রদান বা অনুমোদনের দায়িত্বে থাকবেন তিনি বা তারা যদি উক্ত রিটার্ন জমার রশিদ বা ট্যাক্স সার্টিফিকেট যাচাই না করেন তাহলে তাকে ম্যাক্সিমাম 10 লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।

যে সমস্ত লোকের জন্য টিন সার্টিফিকেট দরকার :

বাংলাদেশে যাদের করয়োগ্য আয় আছে কেবল তাদেরকেই কর দিতে হবে এবং তাদেরকে টিন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। বাংলাদেশে কর যোগ্য আয় কি পরিমান থাকতে হবে তা হলো :

1. যাদের বাৎসটিক আয় 300000 টাকার বেশি তাদের আয়কর দিতে হবে।

2. 65 বছর বয়সের উর্ধে যে সব মহিলার আয় 350000 টাকার বেশি হবে তাদেরকে আয়কর দিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, কর প্রদান করা ছাড়াও কারো কারো টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়তে পারে। তাই ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজনে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করা লাগতে পারে।

টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম :

বর্তমানে টিন সার্টিফিকেট অনলাইনে তৈরি করা যায়। আপনার যদি একটি ল্যাবটপ বা কম্পিউটার থাকে তাহলে ঘরে বসে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবেন। প্রথমে যে কোন একটি ব্রাউজার ওপেন করুন। তাতে এই লিংক লিখে সার্চ করুন https://www.incometax.gov.bd/Registration/ . তাহলে নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Tin Registration :

Tin Registration

এই ইন্টারফেসে Registration করার একটি ফর্ম দেখতে পাচ্ছেন। এক, নম্বার ঘরে আপনার ইউজার আইডি বসাতে হবে। ইউজার আইডি আপনার নাম অথবা নামের সাথে কিছু সংখ্যা যোগ করতে পারেন। যেমন : Rahim1971. দুই, নম্বার ঘরে পাসওয়ার্ড বসাতে হবে। পাসওয়ার্ড কমপক্ষে আট ক্যারেক্টারের হতে হবে। তিন, নম্বার ঘরে পুনরায় আগের পাসওয়ার্ড হুবহু বসাতে হবে। চার, নম্বার ঘরে যে কোন একটি প্রশ্ন সিলেক্ট করতে হবে। যেমন : What is the name of your village. or What is your favorite color. পাচ, নম্বার ঘরে উপরে সিলেক্টকৃত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ছয়, নম্বার ঘরে আপনার কান্ট্রি সিলেক্ট করে দিতে হবে। আপনি যে দেশের অধিবাসী সে দেশের নাম সিলেক্ট করুন। সাত, নম্বার ঘরে আপনার সচল মোবাইল নম্বার বসাতে হবে। ঐ নম্বারে একটি কোড যাবে। আট, নম্বার ঘরে আপনার ইমেল নম্বার বসাতে হবে। নয়, নম্বার ঘরে উপরের ক্যাপচা দেখে হুবহু বসাতে হবে। তারপর রেজিষ্টার বাটনে ক্লিক করুন। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Active :

Active

এই ইন্টারফেসে আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বারে একটি কোড যাবে তা বসাতে হবে। তারপর Activate বাটনে ক্লিক করুন। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Log in :

Log in

এই ইন্টারফেসে লাল আয়তাকার ‍বৃত্তে দেখতে পাচ্ছেন আপনার রেজিষ্ট্রেশন কম্পিলিট হয়েছে। এবার লগইন করতে হবে। আপনার দেওয়া ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলে নিচের মতো একটি ইন্টরফেস দেখতে পাবেন।

Tin Application :

Tin Application

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো আয়াতাকার ঘরে Tin Application এ ক্লিক করুন। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

1st step :

1st step

এই ইন্টারফেসে প্রতিটি লাল স্টার বা লাল তীর চিহ্ন দেওয়া ঘর গুলো পুরুন করতে হবে। তারপর Go to Next বাটনে ক্লিক করুন। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

2nd Step :

2nd Step

এই ইন্টারফেসে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আপনার (NID) এন আই ডি কার্ড অর্থাৎ ন্যাশনাল আইডি কার্ড অনুযায়ী সকল তথ্য পূরুন করতে হবে। আপনার নাম, লিঙ্গ, ন্যাশনাল আইডি নম্বার, জন্ম তারিখ, পিতার নাম , মাতার নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সঠিক ভাবে পুরুন করতে হবে। তারপর Go to Next বাটনে ক্লিক করুন। তখন নিচের মতো ইন্টরফেস দেখতে পাবেন।

Final preview :

Final preview

এই ইন্টারফেসে আপনার দেওয়া সকল তথ্য দেখতে পাবেন। যদি সঠিক থাকে তাহলে বড় তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো ঘরে টিক মার্ক দিন। তারপর Submit Application বাটনে ক্লিক করুর। বাছ হয়ে গেল আপনার টিন সার্টিফিকেট। বাম পার্শে মিনু লিষ্ট থেকে View Tin Certificate এ ক্লিক করে আপনার টিন সার্টিফিকেট দেখতে পাবেন এবং আপনি চাইলে প্রিন্ট করে বের করতে পারবেন। তখন আপনার টিন সার্টিফিকেট নিচের ছবির মতো দেখতে পাবেন।

Sample e-TIN Certificate :

Sample e-TIN Certificate

পড়ুন :

আপনি কি মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান ।

আপনি কি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান।

পরিশেষে কথা হচ্ছে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব কর পরিশোধ করা। আর আপানার আযকর পরিশোধ করতে হলে টিন সার্টিফিকেটের (Tin Certificate) প্রয়োজন। আপনি ইচ্ছা করলে উপরের নিয়ম ফলো করে একটি প্রফেশনাল মানের ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করে নিতে পারেন।

Related posts

2 Thoughts to “টিন সার্টিফিকেট (Tin Certificate) তৈরি করার নিয়ম”

  1. Lovely info, Thank you. introduction to college essay doctoral dissertations custom papers

  2. You actually mentioned this terrifically! dissertation how to write an autobiographical essay

Leave a Comment