অনলাইনে স্টুডেন্ট ইনকাম (Student Income) করার সেরা 10টি উপায়

Student Income

আপনি কি ছাত্র জীবনে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান ? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনি যদি ইন্টারমেডিয়েট, ডিগ্রী বা অনার্সে লেখাপড়া করেন তাহলে লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। অনলাইনে অনেক ইনকাম করার উপায় আছে তার মধ্যে থেকে ছাত্রদের জন্য লেখাপড়ার পাশাপশি ইনকাম করার উল্লেখযোগ্য 10টি উপায় নিয়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। অনলাইনে স্টুডেন্ট ইনকাম (Student Income) করার জন্য অনেকে আগ্রহী কিন্তু সঠিক পথ জানা না থাকার কারনে অনেকে ইনকাম করতে পারেন না। ছাত্র জীবনে হাত খরচা বা লেখাপড়ার খরচের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। অনেকের বাবা-মা অর্থের যোগান দিতে হিমসীম খেয়ে যান। তাই আপনি যদি একটু চেষ্টা করে অনলাইনে সময় দিতে পারেন তাহলে আপনার ইনকাম আসবেই। কিন্তু কিভাবে ? জানতে হলে এই আর্টিকেলটি ধর্য্য ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আশা করি সঠিক ভাবে ইউটিলাইজ করতে পারলে আপনার ইনকাম আসবেই।

অনলাইনে ইনকাম করার যোগ্যতা :

অনলাইনে ইনকাম করতে হলে আপনাকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। সেটা হচ্ছে কম্পিউটারের বেসিক নলেজ এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা থাকতে হবে। পাশাপাশি একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। আপনার যদি ইন্ড্রয়েড মোবাইল থাকে সেটা দিয়েও ইনকাম করতে পারবেন তবে একটু কষ্টকর হবে। মোটকথা ইন্টারনেট সম্পর্কে বেসিক নলেজ এবং কিছু ইংরেজী জানা থাকলে যে কোন একটি ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। ভাবছেন এত কিছু পাবো কোথায় ? না চিন্তার কিছু নেই। আপনার যদি একটি এড্রয়েড মোবাইল থাকে তাও ইনকাম করতে পারবেন। আপনি কি ফেসবুক চালাতে পারেন ? তাহলে ফেসবুক আইডির মাধ্যমে একটি ফেসবুক পেজ খোলে সেখান থেকেও ইনকাম করতে পারেন। একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলে আপনার মোবাইল দিয়ে ভিডিও তৈরি করে আপলোড দিয়েও ইনকাম করতে পারেন। ফেসবুক থেকে এবং ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করবেন জানতে হলে আমাদের সংগেই থাকুন।

স্টুডেন্ট লাইফে ইনকাম (Student Income) করার সেরা 10টি উপায় :

স্টুডেন্ট লাইফ বড় আনন্দের জীবন। যদি না থাকে অর্থের অভাব। অর্থ ছাড়া পৃথিবীতে কোন কিছু অর্জন করা বা পাওয়া সম্ভব না। তাই আপনাকে আগে অর্থের সন্ধান করতে হবে। আর এই অর্থ এমনি এমনি আপনাকে কেউ দিবে না। অর্থ ইনকাম করতে হলে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। তার জন্য আপনাকে সময় ও ধর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। আপনাকে নিচের 10টি উপায়ের মধ্যে থেকে যে কোন একটি উপায় বেছে নিতে হবে তাহলে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। আসুন জেনে নেই কিভাবে বা কি পথ অনুসরন করলে ইনকাম করতে পারবেন।

ইউটিউবিং করা :

ইউটিউবিং করা হচ্ছে আপনাকে একজন সফল ইউটিউবার হতে হবে। একজন ইউটিউবার হতে হলে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলতে হবে। চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে হবে। আপনার ভিডিও দেখার টাইম যখন 4000 ঘন্টা হবে এবং 1000 সাবস্ক্রাইবার হবে তখন ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজ করার সুযোগ পাবেন। আপনার চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারলে আপনার চ্যানেলে এডসেন্সের এড শো হতে থাকবে। এই এড গুলোতে যখন কেউ ক্লিক করবে তখন আপনার একাউন্টে ডলার জমা হতে থাকবে। এভাবে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারবেন। ভাবছেন কিভাবে করবো। চিন্তার কোনো কারন নেই নিচের লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিন কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খোলতে হবে।

পড়ুন : কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খোলতে হয়।

ভিডিও এডিটিং করা :

ভিডিও এডিটিং করা হচ্ছে আপনি যখন একটি ভিডিও তৈরি করবেন তখন তাকে পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে হলে এডিটিং করার প্রয়োজন হয়। ভিডিওকে কেটে কিছু অংশ বাদ দিতে হয় আবার কিছু অংশ সংযোজন করতে হয়। এই সংযোজন বা বিয়োজন করে যখন কোন ভিডিওকে পূর্নাঙ্গ রূপদান করা হয় তখন একটি সঠিক ভিডিও তৈরি হয়। মাঝখানে যে সংযোজন বা বিয়োজন করলেন অর্থাৎ যে কাটা ছেড়া করলেন এটাকে ভিডিও এডিটিং করা বলা হয়ে থাকে। ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ সঠিক ভাবে শিখতে পারলে আপনার ইনকাম নিশ্চিত। অনলাইনে ভিডিও এডিটিং কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই কাজ শিখতে হলে ইউটিউবে অনেক ভিডিও দেখতে পাবেন। ইউটিউবে সার্চ করে শিখে নিতে পারবেন।

ফেসবুক পেজ খোলা :

ফেসবুক চিনে না এমন মানুষ খোজে পাওয়া বড় কঠিন। ফেসবুক আমরা সবাই কম বেশি ব্যবহার করে থাকি। ফেসবুক স্টুডেন্ট ইনকামের (Student Income) জন্য উপযুক্ত মাধ্যম। আপনি জানেন কি এই ফেসবুক থেকে ইনকাম করা যায়। হ্যা আপনি ঠিকই শুনেছেন এই ফেসবুক থেকে ইনকাম করা যায়। হয়তো বলবেন কিভাবে। আপনার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলতে হবে। এই ফেসবুক বিজনেস পেজে আপনার প্রোডাক্ট প্রমোট করে সেল দিয়ে ইনকাম করতে পারেন। এছাড়া এই ফেসবুক পেজে আপনার ভিডিও আপলোড দিয়েও ইনকাম করতে পারেন। ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও পেজ মনিটাইজ করে ইনকাম করতে পারেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ফেসবুক পেজ কিভাবে খোলবেন। ফেসবুক পেজ খোলতে হলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

পড়ুন : কিভাবে ফেসবুক পেজ খোলবেন।

লোগো ডিজাইন করা :

লোগো একটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর প্রতিকী চিহ্ন। এই প্রতিক দেখে যে কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানকে চেনা যায়। যেমন : আর এফ এল কোম্পানী লোগো, সিঙ্গার কোম্পানীর লোগো, ওয়ালটন কোম্পানীর লোগো ইত্যাদি। লোগো হচ্ছে একটি কোম্পানীর ব্র্যান্ড তার পরিচিতি বৃদিধ করে। সবাই চায় তার পরিচিতি বৃদ্ধি করার। পরিচিতি বৃদ্ধির জন্য হাজারো কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান তারা লোগো বানাতে চায়। আপনি এই সমস্ত কোম্পানীর লোগো তৈরি করে দিয়ে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। লোগো তৈরি করার কাজ কিভাবে শিখবেন ইউটিউবে সার্চ করে দেখে দেখে শিখে নিতে পারেন।

টিউশনি করা :

আপনি যদি উপরের কোন কাজও নাও করতে পারেন অন্তত টিউশনি করে ইনকাম করতে পারেন। টিউশনি আপনি অনলাইনে এবং অফলাইনে দুইভাবেই করতে পারেন। আপনাকে জীবনে চলতে হলে অর্থের প্রয়োজন। সে অর্থ ইনকাম হোক সম্মানের সহিত। টিউশনি একটি সম্মানিত পেশা। আপনি এই কাজ করেও হাত খরচ বা পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারেন। অফলাইনে ছাড়াও অনলাইনেও টিউশনির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি অনলাইনেও টিউশনি করে ইনকাম করতে পারেন।

ছবি বিক্রি করে ইনকাম :

আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে ছবি বিক্রি করেও ইনকাম করতে পারেন। ভালো ফটোগ্রাফারের চাহিদা রয়েছে। ফটো বা ছবি তুলতে আমরা সবাই ভালোবাসি। বিভিন্ন লেকে , পার্কে, বিচে টুরেস্টরা আসে ভ্রমন করতে তাদের ছবি তোলে ডেলিভারি দিয়ে ইনকাম করতে পারেন। আমরা সবাই সুন্দরের পুজারী্। সুন্দরকে সবাই ভালোবাসি। তাই সুন্দর সুন্দর ছিনারি বা দৃশ্য তুলে অনলাইনে আপলোড দিয়েও ইনকাম করতে পারেন।

আর্টিকেল রাইটিং করা :

আপনার যদি লেখালেখি করার অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে আর্টিকেল রাইটিং করে ইনকাম করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনে আর্টিকেল রাইটিং এর প্রচুর কদর রয়েছে। আপনার যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভালো দক্ষতা থাকে সে বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখতে পারেন। অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে আর্টিকেল রাইটারদের হায়ার করে। প্রতিটি আর্টিকেলের জন্য ভালো পরিমান এমাউন্ট দিয়ে থাকে। তাই আপনি আর্টিকেল রাইটিং করে ইনকাম করতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করা :

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানীর প্রোডাক্ট সেল করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা বলা হয়ে থাকে। অনলাইনে অনেক এফিলিয়েট সাইট রয়েছে। সে সাইট গুলোতে রেজিষ্ট্রেশন করে তাদের লিংক নিয়ে প্রমোট করে ইনকাম করতে পারেন। এফিলিয়েট সাইট গুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে আমাজন এফিলিয়েট সাইট , আলীবাবা এফিলিয়েট সাইট, ইবে এফিলিয়েট সাইট, দারাজ ডট কম, বিডি শপ ডট কম ইত্যাদি। এই সাইট গুলো থেকে প্রোডাক্ট লিংক নিয়ে প্রোমোট করে ইনকাম করতে পারেন। স্টুডেন্ট ইনকামের (Student Income) জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং অন্যতম পন্থা। বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করে পড়ুন।

পড়ুন : কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন।

ড্রপশিপিং করা :

ড্রপশিপিং করা হচ্ছে কোন প্রোডাক্ট সেল করে দেওয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা। যাকে ব্রোকার বলা হয়ে থাকে। ধরুন, আপনি আলু উৎপাদনকারীর সাথে 100 মন আলু ক্রয় করবেন হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হলেন। আলুর মূল্য ধার্য্য হলো 500 টাকা মন। এখন আপনি অন্য কোনো পার্টির কাছে তা 600 টাকা মন মূল্যে বিক্রি করলেন। এই বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে আপনার 10,000 টাকা লাভ হলো। এই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সেল করে দেওয়াই হচ্ছে ড্রপশিপিং করা। এই ধরনের যে কোন প্রোডাক্ট বিক্রি দেওয়ার মাধ্যমে ভালো পরিমন ইনকাম করতে পারেন। এটা আপনি অনলাইনেও করতে পারেন বা অফলাইনেও করতে পারেন।

ডাটা এন্ট্রি কাজ করা :

ডাটা এন্ট্রি বলতে কোন ডাটা বা তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এন্ট্রি বা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে ডাটা এন্ট্রি করা। ডাটা এন্ট্রি কাজ তুলনামূলক ভাবে অন্য কোন কাজ থেকে সহজ। তাই ছাত্রদের জন্য ডাটা এন্ট্রি কাজ করা একটি সহজ মাধ্যম। আপনি এই ডাটা এন্ট্রি কাজ করেও অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। এছাড়া কপি পেষ্ট করেও ডাটা এন্ট্রি কাজ করা যায়। ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে হলে আপনাকে প্রচুর ধর্য্যশীল হতে হবে। ডাটা এন্ট্রি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

পড়ুন : কিভাবে ডাটা এন্ট্রি কাজ করবেন

পরিশেষে কথা হচেছ স্টুডেন্ট লাইফে ইনকাম (Student Income) করতে হলে আপনাকে পরিশ্রমী হতে হবে। আপনাকে কাজের প্রতি একটিভ হতে হবে। আপনার ধর্য্য ও ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। উপরে উল্লেখিত কাজ গুলো থেকে কমপক্ষে যে কোন একটি কাজে যথেষ্ঠ স্কীল থাকতে হবে। মনে রাখবেন কোনো কাজকে ছোট ভাববেন না। কাজের প্রতি যত্নশীল হন সফলতা একদিন বয়ে আসবেই। এতক্ষন সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment