পাওয়ার পয়েন্ট (Power Point) কি এবং কিভাবে প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়

Power Point

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (Power Point) সফটওয়ার হচ্ছে মাইক্রোসফট ওয়েন্ডজ এপ্লিকেশনের একটি পার্ট। ইহা ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে। ইহা মূলত প্রেজেন্টেশন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি স্লাইড শো তৈরি করে ভিডিও আকারে বা PDF আকারে কনভার্ট করে উপস্থাপন করা যায়। এটি প্রেজেন্টেশন কাজ ছাড়াও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইহার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট একদিনে শিখার কাজ নয়। ইহা শিখতে হলে আপনাকে মোটামুটি বেশ সময় দিতে হবে। এই আর্টিকেলটি বিগিনারদের জন্য খুব হেলপফুল হবে। আপনারা ধর্য্য সহকারে পড়ুন অনেক কিছু জানতে পারবেন। আজকে আমরা আলোচনা করবো পাওয়ার পয়েন্ট ( Power Point ) কি এবং কিভাবে প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়।

পাওয়ার পয়েন্ট ( Power Point ) কি :

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট একটি এপ্লিকেশন সফটওয়ার। এ সফটওয়ারের সাহায্যে বিভিন্ন স্লাইড শো তৈরি করে উপস্থাপন করা যায় বলে একে প্রেজেন্টেশন সফটওয়ারও বলা হয়ে থাকে। ইহার মাধ্যমে কোনো বক্তব্য, ব্রিফিং প্রদান, বিজ্ঞাপন, মিটিংয়ের আলোচ্য বিষয়, ডাটা, গ্রাফ, চার্ট, ইমেজ প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের এ্যানিমেশন, ট্রান্জেকশন বা ইফেক্ট প্রদান করে প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়। এখানে বিভিন্ন ধরনের স্লাইড শো তৈরি করা যায়। 2D & 3D সেপস, আইকোন এবং স্মার্ট আর্ট এর মাধ্যমে কোনো কাজকে ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারা যায়। মোট কথা মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে আমরা কোন বক্তব্যকে বা বিজ্ঞাপনকে সুন্দর ও আকর্ষনীয় ডিজাইন করে প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপন করতে পারি।

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের সাহায্যে কি কি কাজ করা যায় :

  • বস্তুনিষ্ঠ সুন্দর প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়।
  • বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা স্লাইড তৈরি করা যায়।
  • স্লাইড গুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজাইন করা যায়।
  • স্লাইডে চার্ট, গ্রাফ, ছবি, সাউন্ড, ইফেক্ট প্রদান করা যায়।
  • স্লাইড গুলোতে বিভিন্ন ধরনের এ্যানিমেশন দেওয়া যায়।
  • প্রেজেন্টেশন গুলোকে প্রয়োজনে ইন্টরনেটের সাহায্যে ইমেইল করে অন্য জায়গায় পাঠানো যায়।
  • স্লাইড গুলোকে ভিডিও আকারে কনভার্ট করে উপস্থান করা যায়।
  • স্লাইড গুলোকে পিডিএফ আকারে কনভার্ট করা যায়।
  • পাওয়ার পয়েন্টে বহু রঙের প্লেট রয়েছে। দৃশ্যগত সুন্দর উপস্থাপনার জন্য রঙের ব্যবহার করা যায়।
  • স্লাইড গুলি একত্রে একটি ফাইলে স্টোর করা যায়।

কিভাবে প্রেজন্টেশন তৈরি করা যায় :

প্রেজেন্টেশন শব্দের অর্থ হচ্ছে উপস্থাপন। কোনো বিষয়ের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই হচ্ছে প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপন করা। মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে জানা থাকতে হবে। মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের ইন্টারফেসে প্রবেশ করে টাইটেল বা রিবন বারে কিছু মেনু দেখতে পাবেন। এখান থেকে Home, Insert, Design, Animations, Slide show, View, Format ইত্যাদি টপিক গুলো সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে হবে। তাহলে আপনি যে কোনো প্রেজেন্টেশনের কাজ সঠিক ভাবে করতে পারবেন। এ গুলো সম্পর্কে নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১. Home ( হোম ) :

স্ক্রিনসর্ট 1. Screenshot_1

হোমের মাধ্যমে জানতে পারবেন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে যে সমস্ত কাজ গুলো করা হয় সে গুলোই রয়েছে। এখান থেকে যে কোন লেখা বড় ছোট, ব্লড করা, ইটালিক করা, লেফট, সেন্টার, রাইটে নেয়া। যে কোন সেফট নেয়া ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন। এখান থেকে শুধু অতিরিক্ত কাজ জানতে হবে, কিভাবে নিউ স্লাইড নিতে হয়। চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন লাল তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হচ্ছে নিউ স্লাইড। এখান থেকে যত গুলো স্লাইড নিতে ইচ্ছা হয় ক্লিক করে করে নিতে পারবেন। অথবা কিবোর্ড থেকে কন্ট্রোল +m চেপেও নতুন নতুন স্লাইড নিতে পারবেন। এই স্লাইডের মাধ্যমে আপনার সকল তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

2. Insert ( ইনসার্ট ) :

ইনসার্ট থেকে ক্লিক করে নিতে হবে টেবিল, পিকচার বা ছবি, ক্লিপ আর্ট, সেপ, স্মার্ট আর্ট, চার্ট, ভিডিও এবং সাউন্ড বা শব্দ। এছাড়া টেক্সট বক্স, হেডার ফুটার, ওয়ার্ড আর্ট ইত্যাদি নিতে হবে। এ গুলোকে ইচ্ছা মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এ গুলো আপনার প্রেজেন্টেশনকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে ইনসার্টের উপাদান গুলো খুবই প্রয়োজনীয়। ইহার সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। তবেই সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।

3. Design ( ডিজাইন ) :

ডিজাইন হচ্ছে আপনার প্রেজেন্টেশনের মূল বিষয়। ডিজাইন যত সুন্দর ও আকর্ষনীয় হবে, আপনার প্রেজেন্টেশন ততো সুন্দর দেখাবে। এখান থেকে যে কোনো থিম ব্যবহার করতে পারবেন। থিমে কালার দিতে পারবেন, ফন্ট চেন্স করতে পারবেন, ইফেক্ট দিতে পারবেন। থিমের ব্যাকগ্রাউন্ড চেন্জ করতে পারবেন। আপনার ইচ্ছা মতো ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন।

4. Animations (এ্যানিমেশন ) :

পাওয়ার পয়েন্টে একটি প্রেজেন্টেশনকে সুন্দর্য মন্ডিত এবং গতি বৃদ্ধিতে এ্যানিমেশন গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এনিমেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ইফেক্ট প্রদান করা যায়। স্লাইডকে ট্রান্জেকশন বা এ্যনিমেশন দিতে পারেন। আবার ফন্ট বা লেখাকেও বিভিন্ন ইফেক্ট প্রদান করে এ্যানিমেশন দিতে পারেন। যে কোন স্লাইডে সাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। সাউন্ট কতক্ষন থাকেবে তার সময় নির্ধারন করে দিতে পারেন। ওভার অল এ্যানিমেশনের মাধ্যমে একটি প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষনীয় ও প্রানবন্ত করে তোলা সম্ভব।

5. Slide Show ( স্লাইড শো ) :

প্রেজেন্টেশনের এক একটি খন্ডের নাম হচ্ছে স্লাইড। একটি প্রেজেন্টেশনে একাধিক স্লাইড থাকতে পারে। এই স্লাইড গুলোর মাধ্যমে প্রতিটি বিষয়ে আপনার প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপনা তুলে ধরতে পারেন। স্লাইড শো থেকে আপনার প্রতিটি স্লাইড ক্লিক করে করে দেখতে পারেন। আবার ননস্টোপ ভাবে একাধারে সব স্লাইড গুলো বা পূর্নাঙ্গ প্রেজেন্টেশন দেখতে পারেন।

6. View ( ভিউ ) :

ভিউ থেকে আপনার স্লাইড গুলো দেখতে পারবেন। আপনার স্লাইড গুলোকে শর্টেন করতে পারবেন। ধারাবাহিক ভাবে দেখতে পারবেন। আবার একটা একটা করে ক্লিক করে দেখতে পারবেন। এখান থেকে মাস্টার স্লাইড তৈরি করতে পারবেন। কোনো বড় প্রজেক্টের জন্য কাজ করতে হলে মাস্টার স্লাইডের সাহায্যে কাজ করতে হয়। এখানে থেকে জুম করতে পারবেন। জুম করে ছোট বড় করতে পারবেন। এডিটিং করতে পারবেন এবং ডিলেট করতে পারবেন।

7. Format ( ফরমেট ) :

ফরমেট থেকে ফরমেটিং করে মাইক্রোসফট এম এস ওয়ার্ডের মতোই সব কাজ করতে পারবেন। ফরমেটিং হলো টেক্সটকে সঠিক আকৃতি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা। আপনার বিভিন্ন সেপের ব্যবহার, বিভিন্ন ওয়ার্ড আর্টের ব্যবহার, টেক্সট কালার দেওয়া, 3ডি ইফেক্ট দেয়া, টেরেন্সফর্ম করা, বিভিন্ন কালার ইফেক্ট দেওয়া ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন। এ গুলোর সঠিক ব্যবহার আপনার পাওয়ার পয়েন্টের প্রেজেন্টেশনকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

কিভাবে প্যাকটিক্যালি প্রেজেন্টেশন তৈরি করবেন :

কিভাবে প্যাকটিক্যালি প্রেজেন্টেশন তৈরি করবেন তার রুপরেখা তুলে ধরার চেষ্ট করছি। প্রথমে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট সফটওয়ার ওপেন করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Screenshot_3

এখানে হোম বাটনে দেখতে পাচ্ছেন লাল তীর চিহ্ন দিয়ে ইন্ডেকেট করা আইকোন। সেখানে ক্লিক করে একটা একটা করে স্লাইড নিন। আপনি ইচ্ছা করলে কন্ট্রল + এম চেপেও স্লাইড নিতে পারেন। এই স্লাইড গুলোতে প্রথমে স্বাগতম জানান। তারপর আপনার যে কোন বিষয়ে আলোচনা বা বক্তব্য লিখতে পারেন। আপনার যত গুলো বিষয় থাকবে ততো গুলো স্লাইড নিতে পারেন। শেষে ধন্যবাদ দিন। এই স্লাইড গুলোতে ডিজাইন সেট করুন, ট্রান্জিকশন বা এ্যানিমেশন ইফেক্ট দিন, সাউন্ড সেট করুন। আপনার পছন্দ মতো যে কোন ছবি বা ইমেজ ব্যবহার করতে পারেন। আবার যে কোনো ভিডিও ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে আপনি মাইক্রোসট পাওয়ার পয়েন্ট সফটওয়ারের মাধ্যমে একটি সুন্দর প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন।

আরো পড়ুন :

কম্পিউটা কি এবং কত প্রাকার

ডাটা এন্ট্রি কিভাবে করবেন

পরিশেষে বলা যায় যে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (Power Point) একটি জনপ্রিয় সফটওয়ার। ইহার মাধ্যমে আপনার আলোচ্য বিষয়ে বিভিন্ন ইফেক্ট প্রদান করে প্রজেক্টরের সাহায্যে প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপন করতে পারা যায়। ইহার সুন্দর উপস্থাপনা যে কাউকে আকর্ষন করে। পাওয়ার পয়েন্ট প্রোগ্রামের কাজ গুলো খুবই চমকপ্রদ। তাই ইহার কাজ গুলো শিখতে হলে বার বার অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। আজ এই পর্যন্ত। কোন ভুল ত্রুটি থাকলে কমেন্টে জানাবেন। লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment