চাকুরীর পাশাপাশি পার্ট টাইম ব্যবসার (Part time Business) আইডিয়া

Part time Business

ধনী হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে ব্যবসা। ব্যবসা ছাড়া বড়লোক হওয়া যায় না। আপনি যদি চাকুরীর পাশাপশি ইনকাম করতে চান তাহলে পার্ট টাইম ব্যবসা (Part time Business) করতে পারেন। ব্যবসা হচ্ছে জীবনের সফলতা লাভের বড় সিরি বা ধাপ। আপনাকে উপরে উঠতে হলে অর্থ উপার্জন করতে হবে। অর্থ উপার্জনের বিকল্প নেই। আর অর্থ উপার্জন করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে ব্যবসা। ব্যবসা আপনাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করতে পারে। আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে পারেন তাহলে আর দশ জনকে চাকুরী দিতে পারবেন। আপনার সহায়তায় দশটি পরিবার চলতে পারবে বা বাচতে পারবে। আপনার সম্মান প্রতিপত্তি বাড়বে, আপনি দশজনের মধ্যে মাধা উচু করে চলতে পারবেন। তাই আসুন চাকুরীর পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় ব্যবসায়িক কাজে ব্যয় করি এবং নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করি। আপনি হয়তো ভাবছেন পার্ট টাইম কি ব্যবসা করবো ? হ্যা আমি আপনাকে সে আইডিয়া দিবো। আপনি শুধু ধর্য্য ধরে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন আশা করি আইডিয়া পেয়ে যাবেন।  

পার্ট টাইম ব্যবসা (Part time Business) কি :

পার্ট টাইম শব্দের অর্থ হচ্ছে আংশিক সময় বা খন্ডকালীন সময়। আর পার্ট টাইম ব্যবসা হচ্ছে আংশিক সময়ে বা খন্ডকালিন সময়ে কোন ব্যবসা করাকে পার্ট টাইম ব্যবসা বলা হয়ে থাকে। আপনি চাকুরী করার পাশাপাশি খন্ড কালিন সময়ে কোন ব্যবসা করে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। যা আপনার জীবনে স্বাচ্ছন্দ বয়ে আনবে বা জীবনকে আরো সুন্দর করতে সহায়তা করবে। কে না চায় জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে ? কে না চায় জীবনে সুখ বয়ে আনতে ? কে না চায় জীবনকে মধুময় করতে ? আমরা সবাই চাই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে এবং সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তাই আসুন অবসর সময় নষ্ট না করে সময়কে যথযথ কাজে ব্যয় করে ব্যবসা করি এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।

পার্ট টাইম ব্যবসার (Part time Business) আইডিয়া :

আল্লাহ মানুষের জন্য সুদকে হারাম করেছেন এবং ব্যবসাকে হালাল করেছেন। আমরা হালাল উপায়ে ব্যবসা করবো এবং জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবো। আমরা মানুষকে ঠকাবো না যথোপযুক্ত সেবা দিয়ে মানুষের উপকার করে ব্যবসা করবো। আপনার সেবা বা ব্যবসায় মানুষ যেন উপকৃত হয় এমন ভাবে ব্যবসা করবেন। তাতে আপনার ব্যবসার সেল জেনারেট বেশি হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। আজকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন কিছু ব্যবসায়িক আইডিয়া আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

1. কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাটের ব্যবসা :

বর্তমানে কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাটের ব্যবসা বেশ জমজমাট চলছে। আপনার যদি কম্পিউটার সম্পর্কে জানা থাকে তাহলে একটি দোকান নিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ফরম পুরুন করে দিয়ে বেশ ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারেন। এছাড়া পাশাপশি বিভিন্ন কাগজ পত্র ফটোস্ট্যাট করে দিয়ে ভালো পরিমান ইনকাম জেনারেট করতে পারেন। আপনার এই কাজটি সার্বক্ষনিক করতে হবে এমন না। আপনার চাকুরি শেষে বিকাল বেলা থেকে রাত 10টা পর্যন্ত করতে পারলে যথেষ্ট। এই সময়ের মধ্যে আপনার ভালো পরিমান ইনকাম জেনারেট হবে।

2. ফাস্টফুডের দোকান :

ফাস্টফূডের দোকান দিয়ে বেশ ভালো ইনকাম করতে পারেন। ফাস্টফুডের বেচাকেনা সাধারনত বিকাল বেলা থেকে রাত অবধি ভালো বিক্রি হয়। আপনি চাইলে ফাস্টফুডের দোকান দিয়ে অবসর সময়টুকু কাজে লাগাতে পারেন। মনে রাখবেন কোন কাজকে ছোট ভাববেন না। কাজ কাজই, কাজ ছোট হোক বড় হোক। আপনি কাজের বিনিময়ে অর্থ ইনকাম করবেন। আপনার শ্রম দিয়ে মানুষের সেবা করে অর্থ ইনকাম করবেন। এতে নিজেকে ছোট ভাবার কোন কিছু নেই। আপনি শ্রমের বিনিময়ে সেবা দিয়ে অর্থ ইনকাম করছেন। আপনাকে একটু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকর করতে হবে বৈকি।

3. স্টুডিও ব্যবসা :

আপনার যদি ফটো তোলার দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে স্টুডিও ব্যবসা করে ইনকাম করতে পারেন। স্টুডিও ব্যবসা সম্মান জনক ব্যবসা। আপনি স্টুডিও দিয়ে দোকানে ছবি তুলে ইনকাম করতে পারেন। আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তুলে ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, বা বিভিন্ন পার্টিতে ছবি তোলে ইনকাম করতে পারেন।

4. ফার্মেসী দোকান :

ফার্মেসী ব্যবসা একটি সম্মান জনক ব্যবসা। আপনি একটি ফার্মেসীর দোকান দিয়ে আপনার অবসর সময়টাকে কাজে লাগিয়ে বেশ ইনকাম করতে পারেন। বর্তমানে ঔষধ কোম্পানি গুলো ভালো পরিমান কমিশন দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট পার্সেন্টেনসে বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। আপনাকে প্রতিযোগীতায় নামতে হয় না। পার্সেন্টেন্স অনুযায়ী ব্যবসা করবেন। তাই ফার্মেসীর দোকান দিয়ে ব্যবসা করে ইনকাম করতে পারেন।

5. ড্রপ শপিং ব্যবসা :

ড্রপ শপিং ব্যবসা একটি লাভ জনক ব্যবসা। তবে ড্রপ শপিং ব্যবসায় ঝুকি রয়েছে। আপনি যদি একটু ঝুকি নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন তাহলে অল্পতে ভালো পরিমান ইনকাম হয়ে থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে ড্রপ শপিং কি ? ড্রপ শপিং হচ্ছে কোন প্রোডাক্ট সরাসরি টাকা দিয়ে ক্রয় না করে মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঐ প্রোডাক্ট অন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দিয়ে ইনকাম করা হচ্ছে ড্রপ শপিং করা। ধরুন, আপনি রাজশাহী আম বাগান থেকে 100 মন আম ক্রয় করলেন 800 টাকা মন হিসাবে 80000 টাকা দিয়ে। কিছু টাকা বায়না করে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রইলেন। ঐ আম বাগানে থেকেই তৃতীয় কোন পার্টির কাছে 100000 টাকা বিক্রি করে দিলেন। এখানে আপনার লাভ হলো 20000 টাকা। এভাবে বিক্রি করে ব্যবসা পরিচালনা করাই হচ্ছে ড্রপ শপিং ব্যবসা করা। ড্রপ শপারকে ব্রকার বলা হয়ে থাকে। আপনি Part time Business হিসাবে ড্রপ শপিংয়ের ব্যবসা করতে পারেন।

6. কোচিং সেন্টার :

আপনি যেহেতু একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। আপনি ইচ্ছ করলে একটি কোচিং সেন্টার খোলে ছাত্র -ছাত্রীদের লেখা পড়া শিখিয়ে ইনকাম করতে পারেন। আপনি আপনার অফিস শেষে বিকাল বেলা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে ইনকাম করতে পারেন। তাছাড়া সকাল বেলাও পড়াতে পারেন। কোচিং সেন্টার থেকে ভালো পরিমান ইনকাম জেনারেট হয়ে থাকে। এছাড়া অনলাইনেও কোচিং করেও টাকা ইনকাম করতে পারেন।

7. ওয়াই-ফাই ব্যবসা :

বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ। ইন্টারনেট ছাড়া আমরা একধাপ চলতে পারি না। ইন্টানেটের উপর ভর করে আমাকে আপনাকে চলতে হয়। ব্যবসা বানিজ্য, অফিস আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়িতে সব খানে ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে। তাই আপনি ওয়াই ফাইয়ের ব্যবসা করে ভালো পরিমান ইনকাম জেনারেট করতে পারেন। ওয়াই-ফাইয়ের প্রতি মানুষের চাহিদা বেশি। তাই আপনি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবসা করে হ্যান্ডসাম ইনকাম করতে পারেন।

8. রেল বা বিমানের টিকেট বুকিং :

আজকাল অনলাইনে সব কিছু হয়ে থাকে। অনলাইনে রেলের টিকেট বিক্রি করা হয়ে থাকে এবং অনলাইনে বিমানের টিকেট বিক্রি করা হয়ে থাকে। আপনি চাইলে অনলাইনে রেলের টিকেট বা বিমানের টিকেট বুকিং করে ইনকাম জেনারেট করতে পারেন। আপনার মেধাকে খাটিয়ে অনলাইন থেকে সহজে বিভিন্ন মাধ্যমে টিকেট সেল করে ইনকাম করতে পারেন।

9. বিউটি পার্লার বা ফ্যাশান শপ :

বর্তমান প্রজন্ম ফ্যাশানেবন হয়ে গেছে। সবাই নিজেকে সাজুগুজু করতে পছন্দ করে থাকে। তাই আপনি একটি বিউটি পার্লার দিতে পারেন। আপনি যদি একজন মহিলা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য একটি পার্ফেক্ট ব্যবসার আইডিয়া। বিউটি পার্লার বা ফ্যাশান শপ থেকে ভালো পরিমান ইনকাম হয়ে থাকে। সহজে আপনি প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি এবং ম্যাকাপ করে দিয়ে অর্থ ইনকাম করতে পারেন।

10. সাইন বোর্ড তৈরির ব্যবসা :

সাইন বোর্ড তৈরি করার ব্যবসা একটি শৈল্পিক ব্যবসা। শিল্পকে সবাই ভালোবাসে। আপনি যদি একজন আর্টিষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সাইন বোর্ড তৈরি করার ব্যবসা একটি পার্ফেক্ট ব্যবসা। আপনি চাকুরীর পাশাপশি সাইন বোর্ড তৈরি করার ব্যবসা অনায়াসে করতে পারেন। এর চাহিদা প্রচুর এবং ইনকামও আসে প্রচুর। তাই আপনি যদি এই কাজটি শিখতে পারেন তাহলে খুব ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারবেন।

পড়ুন :

কিভাবে দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন

ডিজিটাল মার্কেটিং করে ইনকাম করুন

শেষ কথা :

পরিশেষে কথা হচ্ছে আপনার ভিতরে যদি ক্রেটিভিটি থেকে থাকে তাহলে কাজের অভাব নেই। আপনি যদি উপরের যে কোন একটি কাজও করতে পারেন তাহলে ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহলে চাকুরীর পাশাপাশি বাড়তি কিছু করার চেষ্টা করুন। পার্ট টাইম ব্যবসার (Part time Business) অভাব নেই, অনেক ব্যবসায়িক আইডিয়া পাবেন। চাই ইচ্ছাশক্তি, ধর্য্য ও মনোবল। এতক্ষন সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment