ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার (Online Income) পদ্ধতি সমূহ

Online Income

অনলাইন জগৎ বিশাল জগৎ।এখানে জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা বিদ্যমান।আপনি যে কোন বিষয়ে জানতে চাইলে গুগুলে লিখে সার্চ করলে সে বিষয়ে জানতে পারবেন।বর্তমানে আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয় প্রযুক্তি নির্ভর।প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করে তুলছে।ইন্টারনেট মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।আমরা ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছি।ইন্টারনেটে সব কিছু পেতে চাই।তাই অনেকে ইন্টারনেটে ইনকামের পথ খুজে বেরাই।ইন্টারনেটে ইনকামের পথ সুদুর প্রসারী।অনলাইন থেকে আয় করতে চাইলে নিজেকে সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে হবে।অনেকে দিক নির্দেশনার অভাবে সঠিক ভাবে নিজেকে কাজে লাগাতে পারে না।তাই Online Income এর বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অনলাইনে ইনকাম (Online Income) করার পদ্ধতি সমূহ :

Online Income করার হাজারো পদ্ধতি রয়েছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি সমূহ তুলে ধরা হলো।আপনি যদি এ গুলোর মধ্য থেকে যে কোন একটি বিষয়ে নিজেকে দক্ষ বা পারর্দশী করে তুলতে পারেন তা্হলে ইনকাম করতে পারবেন।

১. ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডিভোলপমেন্ট :

ওযেবসাইট সম্পর্কে সবারই কম বেশি ধারনা রয়েছে।ওয়েবসাইট তৈরি করার বিভিন্ন প্লাটফর্ম রয়েছে। যেমন : ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, ব্লগার ডট কম ইত্যাদি।আপনি এ সাইট গুলোর মাধ্যমে একটি সুন্দর ওযেবসাইট বা ব্লগসাইট তৈরি করতে পারবেন।ওয়েবসাইট ডিজাইন হচ্ছে কোন সাইটের বাহ্যিক রূপ।র্অথাৎ সাইটের ইন্টারফেস কেমন হবে তার ডিজাইন করা।আর ডিভলোপমেন্ট হচ্ছে সাইটের ভিতরের কলা কানুন।যা বিভিন্ন পদ্ধতিতে রূপ দান করতে হয়।বিস্তারিত ভাবে বলা যায় ওয়েবসাইট ডিজাইন হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা ও বাহ্যিক রূপদান করা। আর ডিভলোপমেন্ট হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে সকল কার্যদি শেষ করে ইন্টারনেটে উপস্থাপন করা।বর্তমানে ওয়েবসাইট ডিজাইনার ও ডিভোলপারদের চাহিদা ব্যাপক।আপনি চাইলে সাইট ডিজাইন ও ডিভোলপমেন্ট করে ইনকাম করতে পারেন।

২. গ্রাফিক্স ডিজাইন :

গ্রাফিক্স ডিজাইন হচ্ছে লোগো, ব্যানার, পোস্টার, ভিজিটিং কার্ড, আইকোন ও বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করার কাজ।অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি ভাল উপায়। আপনি যদি এ বিষয়ে দক্ষ হতে পারেন তাহলে বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করে অনলাইন মার্কেট প্লেস গুলোতে জমা দিতে পারেন।সেখান থেকে যতবার বিক্রি হবে ততবার আয় আসবে।অনলাইনে এ ধরনের অনেক মার্কেট প্লেস আছে।যেমন : Theme Forest, Creative Market, Art Design ইত্যাদি। এছাড়া লোকাল মার্কেট গুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা ব্যাপক।বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেস গুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের প্রয়োজন হয়।একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারলে কাজের কোন অভাব নেই।এখান থেকে প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন।

৩. ব্লগিং

ব্লগ হচ্ছে অনলাইন ডাইরী বা দিনলিপি।এখানে আপনার মতামত, অনুভুুতি, দৃষ্টিভঙ্গি বা যে কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারবেন।ব্লগে লেখালিখি করাকে ব্লগিং বলে।আপনার যদি লেখালেখি করার হাত ভাল থাকে তাহলে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে ব্লগিং করতে পারবেন।ব্লগসাইট তৈরি করে দুই ভাবে আয় করতে পারবেন।একটি হচ্ছে নিজের লেখা পাবলিশ করে তাতে প্রচুর ভিজিটর নিয়ে এসে এডসেন্স কর্তৃক বিজ্ঞাপন প্রদশর্ন করে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আপনার যে কোন পন্য বিক্রয় করে।আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিযে বা ব্লগার ডট কম দিয়ে ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবেন।ব্লগ সাইটে যদি প্রচুর ভিজিটর আনতে পারেন তাহলে আপনার আয়ের পথ খুলে যাবে।এর জন্য কি করতে হবে।আপনাকে ভাল মানের আটির্কেল পাবিলিশ করতে হবে।ব্লগে ধর্য্য ধরে কাজ করতে হয়। তাহলেই Online Income করতে পারবেন এবং সফলতা আসবেই।

৪. এ্যাফিলিয়েট মাকের্টিং :

এ্যাফিলিযেট মাকের্টিং হচ্ছে নিজের কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল বা ফেজবুক পেজের মাধ্যমে অন্য কোন কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা পন্য বিক্রয়ের বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এ্যাফিলিয়েট মাকের্টিং বলে।এ্যাফিলিযেট মাকের্টিং করতে চাইলে কোন এ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রম কোম্পানীতে রেজিষ্ট্রেশন করে তাদের কোড নিয়ে আপনার সাইটে বসিয়ে দিতে হবে।সেই কোড ধরে যখন কোন পন্য বিক্রয় হবে তখন আপনি সেখানে থেকে কমিশন পাবেন।সহজ ভাবে বলা যায় এ্যাফিলিয়েট হচ্ছে যখন কোন কোম্পানীর পন্য সেল করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এ্যাফিলিয়েট মাকের্টিং বলে।এ্যাফিলিয়েট কোম্পানী গুলো হলো আমাজান, আলীবাবা, বিডি সপ ইত্যাদি। এ সইট গুলো থেকে মাকের্টিং করে ইনকাম করতে পারেন।

৫. ফ্রিলান্সিং :

Online Income এর ক্ষেত্রে ফ্রিলান্সিং করে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।বর্তমানে অনলাইনে অনেক সাইটে ফ্রিলান্সাররা ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছে।যেমন : ফাইভার ডট কম, আপওয়ার্ক ডট কম, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, গুরু ডট কম ইত্যাদি।সেখানে দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া যায়। তাই আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং কাজে দক্ষ ও পারদশির্তা হতে হবে।এখানে কাজের ধরন অনুসারে ঘন্টায় ৫ ডলা্র থেকে শুরু করে ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়। এছাড়া নিদির্ষ্ট কাজ করে দিতে পারলে নিদির্ষ্ট পরিমান ডলার প্রদান করা হয়। কাজ গুলো হচ্ছে যেমন : ওয়েবসাইট তৈরি করা, এস ই ও করা, ফেসবুক মাকের্টিং করা, লিংবিল্ডিং করা, বুকমার্ক করা, লিড জেনেরেট করা, ক্যালাসিফাইড পোস্টিং করা ইত্যাদি

৬. অনুবাদ করা :

ইংরেজী ভাষা দক্ষতার পাশাপাশি অন্য কোন ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা থাকলে এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অনুবাদ করে আয় করতে পারেন।অনলাইনে অনেক ওয়েব সাইট আছে যেখানে ডুকুমেন্ট অনুবাদ করে আয় করা যায়।যাদের স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবি, জার্মান সহ অন্যান্য ভাষা জানা আছে এবং এগুলো থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ বা ইংরেজী থেকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারলে ভালো পরিমান আয় করতে পারবেন। ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে এসব কাজ পাওয়া যায়।

৭. অনলাইন টিউটর :

অনলাইনে টিউটরদের চাহিদা রয়েছে।আপনি যদি কোন বিষয়ে ভাল দক্ষ বা পারর্দশী হয়ে থাকেন তাহলে অনলাইনে সে সব বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারেন।সব বয়সী শিক্ষাথীর্দের আপনি শিক্ষা দিতে পারবেন।আপনি নিজ দেশ ছাড়াও অন্য দেশেও টিউশনি করতে পারবেন।সেখানে আপনার সুবিধা মত যে কোন সময় শিক্ষা দিতে পারবেন।অনলাইনে অনেক সাইট রয়েছে।এসব সাইটে দক্ষতার পরিক্ষা দিতে হবে।একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে পরর্বতীতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সাইট গুলো দিয়ে থাকে।যত দক্ষতা বাড়বে তত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

৮. ইউটিউব চ্যানেল :

ইউটিউব সম্পর্কে সবারই কম বেশি ধারনা রয়েছে।এখানে কি হয়। ভিডিও দেখা যায়।আপনি চাইলে ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে ভিডিও আপলোড করে আয় করতে পারেন।এর জন্য আপনাকে সৃজনশীল ও সম্পাদনায় পারর্দশী হতে হবে। প্রথমে আপনাকে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে হবে কোন ক্যাটাগরিতে ভিডিও বানাবেন।যে বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি সে বিষয়ে ভিডিও বানাতে হবে তাহলে সবাই দেখেবে বেশি।যত ভিউ হবে তত আয় হবে।চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার ও ভিডিও দেখার সময় বাড়লে আয়ের সম্ভাবনাও বাড়বে।প্রতি হাজার ভিউয়ের হিসাব করে গুগুল অর্থ প্রদান করে থাকে।তাই যারা ব্লগ লিখে আয় করতে পছন্দ না করেন তারা ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে আয় করেতে পারেন।

৯. ডাটা এন্ট্রি :

অনলাইনে সহজ কাজ গুলোর মধ্যে হচ্ছে ডাটা এন্ট্রির কাজ।যাদের টাইপিং স্পিড ভাল এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারনা আছে তারা ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে পারেন।অনলাইনে যারা একটু সময় বেশি দিতে পারবেন তার ডাটা এন্ট্রি করে ভাল পরিমান আয় করতে পারেন।নতুনদের জন্য ডাটা এন্ট্রির কাজ পারফেক্ট।প্রথমে অনলাইনে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে কাজ শুরু করে পরবর্তীতে অন্য কাজ গুলোর দিকে অগ্রসর হওয়া ভাল।ডাটা এন্ট্র্রির কাজের ভেলু তুলনামুলক কম।তারপরও ঠিক ভাবে করতে পারলে ভাল পরিমান আয় করা সম্ভব।

১০. সিপিএ মাকের্টিং :

সিপিএ মাকের্টিং হচ্ছে Cost Per Action (CPA) । সিপিএ মাকের্টে প্রতিটি এ্যাকশনের জন্য বা প্রতিটি লিডের জন্য ডলার ইনকাম করা যায়।সিপিএ মাকের্টিং হচ্ছে এ্যাফিলিয়েট মাকের্টের অংশ।এখানে ছোট ছোট কাজ পাওয়া যায়।যেমন : ইমেইল সাবমিট, জিপকোড সাবমিট, রেজিষ্ট্রিশন, ডাউনলোড, শেয়ার, সার্ভে ইত্যাদি কাজ ফুলফিল করতে হয়।এ কাজ গুলির একশান ফুলফিল করতে পারলেই কমিশন পাবেন।সিপিএ মাকের্টে গড়ে প্রতিটি লিডের জন্য ১ ডলা্র থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়।সহজ ভাবে বলা যায় কোন লিড বা এ্যাকশান কম্পিলিড করার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে সিপিএ মাকের্টিং বলা হয়ে থাকে।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইড তৈরি করতে চাইলে : Click me

পরিশেষে বলা যায় অনলাইনে ইনকামের বহু পথ রয়েছে।তবে আপনাকে কাজে দক্ষ হতে হবে। আপনি যদি উপরের যে কোন একটি কাজে সঠিক ভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। Online Income করতে হলে আপনাকে র্ধয্যের পরিক্ষা দিতে হবে এবং অধ্যাবসায় চালিয়ে যেতে হবে।তবেই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment