মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং (Mobile Freelancing) করার সেরা 10টি কাজ

Mobile Freelancing

বর্তমান তরুন প্রজন্মের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে ”ফ্রিল্যান্সিং”। ফ্রিল্যান্সিং কি, ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করা যায়, মোবাইলে কি ফ্রিল্যান্সিং (Mobile Freelancing) করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং করে কি আয় করা যায় ইত্যাদি প্রশ্ন রয়েছে। আমি বলবো বর্তমানে অনলাইনে ইনকামের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং কি ? ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি মুক্ত পেশা। আপনার ইচ্ছা মতো সময়ে কোন কাজ করে ইনকাম করাকে ফ্রিল্যান্সিং করা বলা হয়ে থাকে। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করার হাজারো রকমের কাজ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কাজ গুলো হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডিভলোপমেন্ট, এস ই ও, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং ইত্যাদি ধরনের কাজ রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে অনলাইনে কাজ গুলো কি মোবাইলে করা যায়। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে হলে সাধারনত কম্পিউটার, ল্যাপটব বা মোবাইল থাকতে হবে। কম্পিউটার, ল্যাপটব থাকলে ভালো। যদি কম্পিউটার বা ল্যাপটব না থাকে তবুও আপনি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন। মোবাইল দিয়ে কি কি কাজ করে অনলাইন থেকে আয় করা যায় সে বিষয় গুলো নিয়ে আজকে আলোচনা করবো।

মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং (Mobile Freelancing) করা যায় :

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে হলে তিনটি ডিভাইসের মধ্যে কমপক্ষে একটি ডিভাইস থাকতে হবে। ডিভাইস গুলো হচ্ছে : 1. কম্পিউটার, 2. ল্যাপটব, 3. মোবাইল। উপরোক্ত তিনটি ডিভাইসের মধ্যে যে কোন একটি ডিভাইস থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন। কম্পিউটার বা ল্যাপটব থাকলে সহজে কাজ গুলো করতে পারবেন। আর মোবাইলে একটু সুবিধা কম পাবেন। তবুও মোবাইলে কাজ গুলো করা সম্ভব। বর্তমানে মোবাইল গুলো অনেক ফাস্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে স্মার্টফোন বা এন্ড্রয়েড ফোন গুলোর মাধ্যমে আপনি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারবেন। মোবাইলে বড় কোন কাজে না ‍গিয়ে ছোট ছোট কাজ গুলো করার চেষ্টা করবেন তাহলে অনায়াসে কাজ গুলো করতে পারবেন। কি ধরনের কাজ গুলো করবেন তা নিচে আলোচনা করা হলো।

মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং (Mobile Freelancing) করার সেরা 10টি কাজ :

প্রযুক্তি আমাদের জীবন যাত্রাকে সহজ থেকে সহজতর করে তুলেছে। প্রযুক্তির ছোয়ায় আমরা অনেক অগ্রসর হতে পেরেছি। প্রযুক্তি আমাদেরকে সকল কিছু হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। আজ আমরা বাংলাদেশ থেকে আমিরেকায় কথা বলতে পারছি। একে অপরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতে পারছি। আর তা একমাত্র সম্ভব হচ্ছে মোবাইল প্রযুক্তি। এই মোবাইলের মাধ্যমে আমরা ইনকামের পথ বেছে নিতে পারছি। মোবাইলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারছি। সহজে মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং (Mobile Freelancing) করা যায় এমন 10টি কাজ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

1. সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং :

মোবাইলের মাধ্যমে সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে পারবেন। সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং, ইনিষ্টাগ্রাম মার্কেটিং, টুইটার মার্কেটিং, লিংকদিন মার্কেটিং ইত্যাদি। এই সোসাল মিডিয়া সাইট গুলোতে আপনি বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করতে পারবেন। ইমেজ আপলোড করতে পারবেন। লিংক শেয়ার করতে পারবেন। আপনার কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে মার্কেটিং করতে পারবেন। এই সাইট গুলোতে পেজ তৈরি এবং গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। পেজ বা গ্রুপ গুলোতে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে পোস্ট করতে পারেন। ধরুন, আপনার নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট রয়েছে বা আপনার ব্যবসার কোন প্রোডাক্ট সেল করতে চাচ্ছেন। যেমন: থ্রিপিচ, বা প্যান্ট-শার্ট বা শাড়ি। আপনার এই প্রোডাক্ট পেজ বা গ্রুপ গুলোতে পোস্ট করুন এবং সেই পোস্ট গুলো বিভন্ন গ্রুপ গুলোতে শেয়ার করুন। এই ভাবে সোসাল সাইট গুলোতে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট, কমেন্ট বা শেয়ার করে আপনার কাঙ্খিত সার্ভিস বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে প্রমোট করে আয় করতে পারেন।

2. ইউটিউব মার্কেটিং :

মোবাইলে ইউটিউব মার্কেটিং করতে পারেন। ইউটিউব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। ইউটিউবে কি করা হয় ? ইউটিউবে ভিডিও দেখা যায়। এই ভিডিও দেখে আমরা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি। যদি আপনি কোন মোবাইল বা ল্যাপটব ক্রয় করতে চান তাহলে ইউটিউবে সার্চ করে ভিডিও দেখে বিস্তারিত জানতে পারেন। ভিডিও দেখে তা থেকে ধারনা নিয়ে মার্কেট থেকে কিনতে পারেন। ইউটিউবে বিভিন্ন নিশ নিয়ে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। আপনার যেটা জানা আছে বা আপনার যেটা ভালো লাগে সে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে আপলোড দিয়ে ইনকাম করতে পারেন। আপনার হাতের মোবাইল দিয়ে ভিডিও তৈরি করেই আপনার চ্যানেলে আপলোড করবেন। তাই আপনিও ইচ্ছ করলে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ইউটিউব মার্কেটিং করতে পারেন। মোবাইলের মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারবেন। মোবাইলে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন তা এই লিংকে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন। লিংকটি হলো – কিভাবে মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলবো।

3. ইউটিউব থাম্বনিল :

ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার পর তা চ্যানেলে আপলোড দিতে হলে ভিডিওতে থাম্বনিল দিতে হয়। এই থাম্বনিলের মাধ্যমে আপনার ভিউয়ার জানতে পারবে আপনার ভিডিও টি কি সম্পর্কে। তাই ভিডিও তৈরি করার পর ভিডিও তে একটি আকর্ষনীয় থাম্বনিল সেট করতে হবে। মোবাইলের মাধ্যমে আপনি থাম্বনিল তৈরি করতে পারেন। অনলাইনে অনেক এপস বা সফটওয়ার পাবেন যে গুলোর মাধ্যমে সহজে থাম্বনিল তৈরি করতে পারবেন। আপনার মোবাইলের প্লে স্টোরে গিয়ে সার্চ করুন ’থাম্বনিল ক্রেয়টর এপস’। অনেক থাম্বনিল তৈরি করার এপস পাবেন সে গুলোর মাধ্যমে সহজে থাম্বনিল তৈরি করতে পারবেন। অনলাইনে ইউটিউবের থাম্বনিল তৈরি করে ইনকাম করতে পারবেন।

4. লোগো ডিজাইন :

লোগো হচ্ছে আপনার ব্রান্ডের পরিচিতি। একটি লোগোর মাধ্যমে আপনার ব্যবসার পরিচিতি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো সেট করা প্রয়োজন। আপনি দেখতে পাবেন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোগো রয়েছে। যেমন : আর এফ এলের লোগো রয়েছে, এল জির লোগো রয়েছে, ওয়ালটনের লোগো রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের লোগোর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে থাকে। শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই নয়, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, অফিস আদালত, বীমা কোম্পানীর লোগো রয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান গুলোর লোগো তৈরি করে ইনকাম করতে পারেন। লোগো তৈরি করার বিভিন্ন সফটওয়ার বা এপস পাবেন সে গুলোর মাধ্যমে সুন্দর ও আকর্ষনীয় লোগো তৈরি করতে পারবেন।

5. ভিজিটিং কার্ড :

ভিজিটিং কার্ড হচ্ছে আপনার পরিচিতি মূলক একটি কার্ড। ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে আপনার ঠিকানা, আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা চিহ্নিত করে থাকে। আপনার নাম, আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম, মোবাইন নম্বার, ইমেল, ডিস্ট্রিক্ট, কান্ট্রি ইত্যাদি তথ্য বহন করে থাকে। মোবাইলের মাধ্যমে এই ধরনের ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ইনকাম করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের সফটওয়ার এবং এপসের মাধ্যমে এই ধরনের কার্ড তৈরি করে হ্যান্ডসাম ইনকাম করতে পারেন।

6. ইন্ট্রো ও আউট্রো :

ইন্ট্রো ও আউট্রো ভিডিও তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। ভিডিও এর শুরুতে ইন্ট্রো ব্যবহার করা হয় এবং ‍ভিডিও এর শেষে আউট্রো ব্যবহার করা হয়। ভিডিও এর শুরুতে আপনার চ্যানেল বা আপনার পরিচিতি মুলক কোনো তথ্য 5 থেকে 10 সেকেন্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়। আর ভিডিও এর শেষে ধন্যবাদ মূলক তথ্য প্রদান করে আউট্রো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন এপসের মাধ্যমে সহজে আপনার ভিডিওতে ইন্ট্রো ও আউট্রো তৈরি করতে পারবেন। মোবাইলের মাধ্যমে এই ধরনের ইন্ট্রো ও আউট্রো তৈরি করে দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

7. ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ :

অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ইমেজ বা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভের প্রয়োজন হয়। দৃশ্য বা অবস্থান ভেদে ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভ করতে হয়। তাতে ইমেজ বা ছবির কোয়ালিটি বা সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এই ইমেজ বা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করে আপনি মোবাইলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার অনেক সফটওয়ার রয়েছে বা এপস রয়েছে যে গুলোর মাধ্যমে সহজে রিমুভ করে আয় করতে পারেন।

8. টি-শার্ট ডিজাইন :

বর্তমান তরুন প্রজন্মের মাঝে টি-শার্ট একটি দারুন পছন্দনীয় জিনিস। সবাই কম বেশি টি-শার্ট ব্যবহার করতে পছন্দ করে থাকে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় পোষাক। এই টি-শার্ট ডিজাইন তৈরি করা কঠিন কোন বিষয় নয়। আপনি অনলাইনে অনেক টি-শার্টের মোকাআপ পাবেন। সেখান থেকে নিয়ে আগে পিছে কিছু ডিজাইন সংযোজন করে একটি সুন্দর ডিজাইন তৈরি করতে পারেন। আপনি মোবাইলের মাধ্যমে এই ধরনের টি-শার্ট ডিজাইন করে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন।

9. ডাটা-এন্ট্রি :

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে নতুনদের জন্য ডাটা এন্ট্রি একটি সহজ কাজ্। এখানে কপি পেস্ট করে ইনকাম করা যায়। অবশ্য ডাটা এন্ট্রিতে জটিল কিছু কাজও রয়েছে। আপনি জটিল বা কঠিন কাজ ছাড়াও ডাটা এন্ট্রিতে সহজে কপি পেস্টের কাজ করে ইনকাম করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের লেখা লেখির কাজ করেও ইনকাম করতে পারেন। আর আপনি এই ধরনের ডাটা এন্ট্রির কাজ মোবাইলের মাধ্যমে করে সহজে ইনকাম করতে পারেন।

পড়ৃন :

কিভাবে ডাটা এন্ট্রি কাজ করবেন

কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং করবেন

10. ভাষা ট্রান্সেলেট :

ভাষা ট্রান্সেলেট হচ্ছে আপনার যদি বিভিন্ন ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে ভাষা ট্রান্সেলেট বা অনুবাদ করে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। আপনার যদি ইংরেজী, হিন্দি, চাইনিজ, বা জাপানিজ ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান থেকে থাকে সে সমস্ত ভাষা অনুবাদ করে প্রচুর ইনকাম করতে পারেন। অনলাইনে এই ধরনের কাজ প্রচুর পাওয়া যায়। এই সকল কাজের লোকের বড় অভাব। আপনার যদি জানা থাকে তাহলে মোবাইলের মাধ্যমে তাদের ভাষা ট্রান্সেলেট করে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন। এই কাজ টি জ্ঞানী লোকদের জন্য সাধারনদের এটা নিয়ে ভাবার দরকার নেই।

পরিশেষে কথা হচ্ছে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার অসংখ্য কাজ রয়েছে। তার মধ্যে থেকে মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং (Mobile Freelancing) করা যায় এমন সহজ কাজ গুলো সম্পর্কে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। আপনারা মোবাইলের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে পারবেন। এই কাজ গুলোর ডিমান্ড প্রচুর। আর এই কাজ গুলো করে আপনি ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে এই সকল কাজ প্রচুর পাওয়া যায়। কাজের কোনো অভাব নেই, অসংখ্য কাজ রয়েছে। চাই শুধু আপনার কাজের স্কীল বা দক্ষতা। আপনি যদি এই কাজ গুলো করতে পারেন তাহলে সোনাই সোহাগা। এতক্ষন সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment