মাইক্রোওয়ার্কারস কি ! কিভাবে Microworkers একাউন্ট খোলা যায়

Microworkers

মাইক্রোওয়ার্কারস (Micro workers) বিগিনারদের জন্য দারুন একটি প্লাটফর্ম। এখানে পার্ট টাইম কাজ করে হ্যান্ডসাম ইনকাম করা যায়। এখানে ছোট ছোট কাজ পাওয়া যায়। ১০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ গুলো সম্পূর্ন করা যায়। কাজ গুলো হচ্ছে সাইন আপ কারা, কমেন্টস করা, লাইক দেওয়া, ডাউনলোড করা ইত্যাদি রকমের কাজ করতে হয়। মাইক্রোওয়ার্কারসের কাজের ক্ষেত্রে যারা ডাটা এন্ট্রির কাজ জানেন তারা ভালো ভাবে করতে পারবেন। এ কাজ গুলো অনেকটা সিপিএ মার্কেটিংয়ের মতোন। মাইক্রোওয়ার্কাসের কাজ কে পারমানেন্ট হিসাবে না নিয়ে পার্ট টাইম হিসাবে করা ভালো। এটাকে কেরিয়ার হিসাবে গ্রহন করবেন না পার্ট টাইম হিসাবে করবেন। নতুনরা মাইক্রোওয়ার্কারসে পার্ট টাইম কাজ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাত্রা শুরু করুন। পরে আস্তে আস্তে কাজের ডিভোলপ হলে অন্য কাজের দিকে ধাবিত হবেন। আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মাইক্রোওয়ার্কারস কি ! কিভাবে Microworkers একাউন্ট খোলা যায় ।

মাইক্রোওয়ার্কারসের নিয়মাবলী :

প্রতিটা কাজের বা সাইটের কিছু নীতিমালা থাকে তেমনি মাইক্রোওয়ার্কারস সাইটের কিছু নিয়মাবলী বা নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা গুলো হচ্ছে :

১. প্রতিটি কাজ একবারই করা যাবে। একবারের বেশি করতে পারবেন না। তবে প্রতিদিন নতুন নতুন অনেক কাজ পাবেন।

২. প্রতিটি কাজের নির্ধারিত সময় দেওয়া থাকবে। সেই সময়ের মধ্যে করতে হবে। যেমন : ২০ মিনিট, ২৫ মিনিট, ৩০ মিনিট। এই রকম বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ করতে হবে। প্রতিটি কাজের পাশে নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।

৩. এখানে শুধু কাজ করলেই হবে না। কাজের সাকসেস রেট রয়েছে। প্রথমে আপনাকে ৫টি কাজ দেওয়া হবে। কাজের সাকসেস রেট কম পক্ষে ৭৫% হতে হবে। নতুবা ১ মাস কোনো কাজ পাবেন না।

৪. পেমেন্টের ক্ষেত্রে নূন্যতাম ১০ ডলার ইনকাম করতে হবে। ১০ ডলার অর্থ আয় করতে পারলে স্ক্রিল, পেপাল, বা ব্যাংক ট্রেনেসফারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে পিন ভেরিফিকেশন করতে হবে। তাই আপনি যে নাম ঠিকানা ব্যবহার করবেন তা যেন সঠিক থাকে। অর্থাৎ আপনার দেওয়া নাম ‍ঠিকান যেন ব্যাংকের সাথে মিল থাকে। নতুবা সমস্যা হতে পারে।

৫. মাইক্রোওয়ার্কাসে কাজ করতে হলে আপনাকে স্কিল টেস্ট দিতে হবে। তাহলে কাজ বেশি পরিমানে পাওয়া যাবে।

মাইক্রোওয়ার্কারস (Microworkers) কি :

মাইক্রোওয়ার্কারস একটি জব সাইট। এখানে ছোট ছোট জব বা কাজ পাওয়া যায়। মাইক্রো অর্থ ক্ষুদ্র বা ছোট আর ওয়ার্কস অর্থ কাজ। তাই মাইক্রোওয়ার্কারস হচ্ছে ছোট ছোট কাজে করে যেখান থেকে আয় করা যায় তাকে মাইক্রোওয়ার্কারস বলে। মাইক্রোওয়ার্কাসের কাজ গুলো হচ্ছে সাইন আপ বা রেজিষ্ট্রেশন করা, ডাউনলোড করা, ইউটিউবে কমেন্টস করা, ফেসবুকে কমেন্টস করা ইত্যাদি ধরনের কাজ করা। এছাড়া টুইটারে পোস্ট করা, ফোরাম সাইটে পোস্ট করা, এনসার সাইটে প্রশ্ন করা এবং উত্তর দেওয়া ইত্যাদি। মাইক্রোওয়ার্কারস সাইটের কাজ যেহেতু ছোট ছোট তাই এর কাজের এমাউন্টও কম। এখানে প্রতিটি কাজে ০.১০ সেন্ট থেকে শুরু করে ২ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়া যায়। অনেক বড় কাজে ৫ ডলার বা ১০ ডলার পাওয়া যায়। তবে আমার পরামর্শ হচ্ছে ৫ ডলার বা ১০ ডলারের কাজ করবেন না। কারন ঐ অর্থ তুলতে পারবেন না। এখানে ছোট ছোট কাজ করে অর্থ আয় করে উইথড্রো করবেন।

কিভাবে একাউন্ট খুলবেন :

মাইক্রোয়ার্কারস সাইটে একাউন্ট খুলতে আপনাকে সতর্কতার সহিত একাউন্ট খুলতে হবে। কারন কোন তথ্য ভূল হলে পিন ভেরিফিকেশন করতে পারবেন না। ফলে পেমেন্ট উত্তোলন করতে পারবেন না। আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা পাসপোর্টে যে নাম ঠিকানা দেওয়া রয়েছে তা হুবহু লিখবেন। অর্থাৎ আপনার এন আই ডি কার্ডের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, পোষ্টাল কোড, উপজেলা, জেলা ইত্যাদি তথ্য সঠিক ভাবে পূরুন করবেন। আসুন এবার একাউন্ট খোলা যাক।

প্রথমে যে কোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন। তাতে এই ঠিকানা লিখুন https://www.microworkers.com/signup.php . তাহলে নিচের মতো একটি ইন্টরফেস দেখতে পাবেন।

Microworkers 1 :

microworkers 1

microworkers 2 :

microworkers 2

উপরের ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া ঘর গুলো সঠিক ভাবে পুরুন করুন। ফাস্ট নেমের জায়গায় আপনার নামের প্রথম অংশ লিখুন। মিডেল নেম অফশনাল, লেখলেও চলবে না লিখলেও কোনো সমস্যা নেই। লাস্ট নেমের জায়গার আপনার নামের শেষ অংশ লিখুন। তবে কারো নামের যদি তিনটি অংশ থাকে তাহলে মিডিল নেম দিবেন। যেমন : মো: সাইফুর রহমান আজিম। এ ক্ষেত্রে মো: সাইফুর ফাস্ট নেমের ঘরে, রহমান মিডিল নেমের ঘরে, আজিম লাস্ট নেমের ঘরে বসাবেন। কোম্পানী অফশনাল, থাকলে দিবেন না থাকলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বার্থ ডেট ঘরে আপনার জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে বসান। ইমেল ঘরে আপনার একটি জিমেল আইডি বসান। জিমেল থাকলে ভালো। আর না থাকলে এই লিংক থেকে একটি জিমেল আইডি খুলে নিবেন। কিভাবে জিমেল আইডি খুলতে হয় বিস্তারিত দেওয়া আছে। লিংকটি হলো https://www.ictcorner.com/email/ . পাসওয়ার্ড এর ঘরে একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড বসান। পাসওয়ার্ড নিচে ৮ কেরেক্টার উপরে ২০ কেরেক্টার পর্যন্ত দেওয়া যাবে। তবে আপনি ১০ থেকে ১২ ক্যারেক্টারের মধ্যে পাসওয়ার্ডটি বসান। পাসওয়ার্ডটি যেন বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, স্পেশাল ক্যারেক্টারের সমন্বয়ে হয়। এ্যাড্রেসের ঘরে আপনার এন আই ডি কার্ড অনুসারে সকল তথ্য পুরুন করুন। প্রথম ঘরে সংকুলান না হলে দ্বিতীয় ঘরে লিখুন। জিপ কোর্ডের ঘরে আপনার পোস্ট অফিসের কোড বসান। যা এন আই ডি কার্ডে দেওয়া আছে। সিটির ঘরে আপনার সিটির নাম লিখুন। স্টেট/রিজন ঘরে আপনার জেলার নাম লিখুন। কান্ট্রি অফ রেসিডেন্স ঘরে কম্বো বক্স থেকে আপনার দেশের নাম সিলেক্ট করে দিন। এবার নিচের সব ঘর গুলোতে টিক মার্ক দিন। পুনরায় আবার সব চেক করুন। এবার সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। বাস আপনার একাউন্ট তৈরি হয়ে গেল। আপনার ইমেলে একটি ম্যাসেস যাবে তাতে ক্লিক করে ভেরিফিকেশন করুন। তারপর আপনার মোবাইল নম্বার ভেরিফিকেশন ও স্কিল টেস্ট দিয়ে কাজ শুরু করুন। মোবাইল নম্বার ভেরিফিকেশন ও স্কিল টেস্ট কিভাবে দিতে হয় ইউটিউবে ভিডিও দেখে শিখে নিবেন। সময় হলে পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে লিখার চেষ্টা করবো।

পড়ুন :

কিভাবে ডাটা এন্ট্রি কাজ করবেন

কিভাবে ফ্রি ব্লগসাইট তৈরি করবেন

শেষ কথা :

মাইক্রোওয়ার্কারসে ( Microworkers) কাজ করতে হলে মোটামুটি অনলাইন সম্পর্কে ধরনা থাকতে হবে। মাইক্রোওয়ার্কারসে কাজ করার জন্য দু তিনটি ইমেল আইডি খোলে রাখা ভালো । আপনার অর্জিনাল ইমেল দিয়ে একাউন্ট না খোলাই ভালো। কারন স্পাম মেইলে ভরে যাবে। এছাড়া সাকসেস রেট ৭৫% এর নিচে গেলে ঐ আইডি দিয়ে কাজ করতে পারবেন না। তাই অন্য আইডি দিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন একটি কম্পিউটারে এক সংগে দুইটি আইডি খোলবেন না। তাহলে দুইটি আইডিই ব্যান্ড হয়ে যাবে। প্রয়োজনে মোবাইলে একটি একাউন্ট খুলুন। মাইক্রোওয়ার্কারসে কোনো ভুয়া এড্রেস ব্যবহার করবেন না এবং কোন ভিপিএন ব্যবহার করবেন না। তাহলে পিন ভেরিফিকেশন হবে না এবং পেমেন্ট উত্তোলন করতে পারবেন না।

Related posts

Leave a Comment