ইন্টারনেট (Internet ) কি এবং কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত

Internet

বিশ্বায়নের এই যুগে গোটা পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়। তা একমাত্র সম্ভব ইন্টারনেটের (Internet) কারনে। ইন্টারনেটের নাম শুনেন নাই এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সকল খবরা খবর আদান প্রদান করতে পারছি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে বা ভরতে বসে আমেরিকা, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশের সংগে যোগাযোগ করতে পারছি। ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইন্টরনেট ছাড়া আমরা এক মহুর্ত চলতে পারি না। ইন্টারনেট আমাদের জীবনের জন্য এক আশীর্বাদ। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে এক বিশ্বয়কর আবিস্কার। আজকে আমরা জানবো ইন্টরনেট কি, ইন্টারনেটের জনক কে, ইন্টারনেট কত প্রকার, ইন্টারনেট কি কি কাজে লাগে বিস্তারিত।

ইন্টারনেট (Internet) কি :

ইথারনেট শব্দ থেকে ইন্টারনেট শব্দের উৎপত্তি। ইন্টারনেট এর বাংলা অর্থ হচ্ছে অন্তর্জাল। যখন দুই বা ততোধিক কম্পিউটার কোনো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কানেকশন তৈরি করে তখন তাকে ইন্টারনেট বলে। সহজ ভাবে বলা যায় পুরা বিশ্বকে এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কানেকশন করাকে ইন্টারনেট বলে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্ব এক নেটওয়ার্কের সংগে যুক্ত হয়েছে। ইন্টারনেটের অসামান্য অবদানের জন্য আজ সারা বিশ্ব একিভূত। তাই ইন্টারনেট আমাদের জন্য এক আশীর্বাদ স্বরুপ। এক কথায় দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের সাথে সংযোগ স্থাপন করাকে ইন্টারনেট বলে।

ইন্টারনেটের জনক কে :

ইন্টারনেটের অবদান অনস্বীকার্য। ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলা ফেরা করা কঠিন। অনলাইনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের প্রয়োজন। ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে গতিশীল করে তুলেছে। কিন্তু আমরা কি জানি এই ইন্টারনেটের জনক কে ? যারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের জন্য এক অনন্য উপহার দিয়ে গেছেন। সেই মহান ব্যাক্তি একজন নয়, দুই জনের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়। সেই ব্যক্তিদ্বয়ের নাম হচ্ছে – রবার্ট ই কান এবং ভিনটন জি কার্ফ। এই দুই গুনীজন ব্যক্তি Tran-mission Control Protocol ( TCP ) and the Internet Protocol ( IP ) এই দুই প্রোটোকল আবিস্কার করেছে যা ইন্টারনেট আবিস্কারের পথ পরিক্রমাকে সহজ করে তুলেছে। পরবর্তীতে নতুন নতুন মাত্রা সংযুক্তির ফলে আজ ইন্টারনেটের যাত্রা গতিশীল লাভ করেছে।

ইন্টারনেট ( Internet ) কত প্রকার ও কি কি :

ইন্টারনেট আমাদের জীবন যাত্রাকে সহজ করে তুলেছে। আগে যে কাজ করতে দিনের পর দিন সময় লাগতো। এখন ঘরে বসে সহজে সেই কাজ অনায়াসে করতে পারছেন। ঘরে বসে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ করে দিতে পারছি। ঘরে বসে বিভিন্ন অফিস আদালতের কাজ করে দিতে পারছি। যা আমাদের জীবনকে প্রানচাঞ্চল্য ও গতিময় করে তুলেছে। এই ইন্টারনেটের ব্যবহার জানার আগে আপনাকে জানতে হবে ইন্টারনেট কত প্রকার। চলুন জেনে আসি ইন্টারনেট কত প্রাকার ও কি কি ? ইন্টারনেটকে ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা :

১. ডায়াল – আপ

২. ডি এস এল

৩. স্যাটেলাইট

৪. ক্যাবল

৫. ওয়ারলেস

৬. সেলুলার

নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

১. ডায়াল -আপ :

ডায়াল-আপ হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ট ফোন লাইন থেকে যে ধরনের ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া যায় তাকে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট বলে। এ ধরনের ইন্টারনেট প্রক্রিয়ায় সাধারনত ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মোবাইলে কানেকশন সংযুক্ত করে থাকে। যা সবার কাছে কমফোর্টেবল বলে মনে হয় না। তবে মোটামুটি ভালো।

২. ডি এস এল :

ডায়াল – আপের ধীর গতির জন্য সবার কাছে কমফোর্টেবল মনে হয় না। তাই বাজরে এসেছে ডি এস এল। ডি এস এল মূলত: ক্যাবল কানেকশন। যা ডায়াল – আপ থেকে ১০০ গুন গতি সম্পুন্ন। যা সাবর কাছে গ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়।

৩. স্যাটেলাইট :

দ্রুতগতি সম্পুন্ন ইন্টারনেট কানেকশন হচ্ছে স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে তার বিহিন ভাবে ইন্টারনেট পরিসেবা দেওয়া সম্ভব। স্যাটেলাইট কানেকশন ইন্টারনেট জগতের দ্রুততম পরিসেবা দেওয়ার মাধ্যম।

৪. ক্যাবল :

ক্যাবল হচ্ছে ব্রডব্যান্ড লাইনের মাধ্যমে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট কানেকশন দেওয়ার মাধ্যম। এটি একটি খুব জনপ্রিয় মাধ্যম। বর্তমানে এটি বেশ প্রচলিত। অন্যান্য সকল মাধ্যম থেকে এটি খুব দ্রুতগতি সম্পুন্ন।

৫. ওয়ারলেস :

ওয়ারলেস হচ্ছে দুটি মাধ্যম কাছাকাছি দুরুত্বে অবস্থান করে একে অপরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করা হয় তাকে ওয়ারলেস কানেকশন বলে।

৬. সেলুলার :

মোবাইল ফোনে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় তাকে সেলুলার বলে। সেলূলার কানেকশন বেশ জনপ্রিয় মাধ্যম। যা আমরা সবাই নিত্যদিন ব্যবহার করে থাকি।

ইন্টারনেট কি কি কাজে লাগে বা প্রয়োজন হয় :

ইন্টারনেট মানুষের জীবন যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। জীবনকে গতিময় ও আনন্দময় করে তুলেছে। ব্যবসা বানিজ্য, যোগাযোগ, বিনোদন, শিক্ষা-দীক্ষা সর্বত্র ইন্টারনেট কাজে লাগে বা প্রয়োজন পড়ে। ইন্টারনেট কি কি কাজে লাগে বা ব্যবহার করা যায় তার কোন হিসেব নেই। তবুও যে জিনিস গুলোর ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে সে গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১. কমিউনিকেশন :

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যোগাযোগের জন্য আমাদের ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। আমাদের তথ্য আদান প্রদান বা কথা বার্তা আদান প্রদান করার জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রয়োজন পড়ে। ইমেলের মাধ্যমে , ফেসবুক ম্যাসেন্জারের মাধ্যমে, হোয়াটস এ্যাপ, ইত্যাদি মাধ্যমে নিমিশে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আমরা সহজে কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ করতে পারি।

২. ইনফরমেশন বা তথ্য খোজার জন্য :

বর্তমানে অলাইনে সকল ইনফরমেশন বা তথ্য পাওয়া যায়। কেউ যদি কোনো তথ্য খোজে পেতে চায় তখন অনলাইনের স্বরনাপন্ন হতে হয়। গুগুলে সার্চ করলে সকল ইনফরমেশন বা তথ্য পাওয়া যায়। আর গুগুল থেকে কোন তথ্য পেতে হলে ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন হয়। তাই কোনো তথ্য খোজে পেতে হলে ইন্টারনেট কাজে লাগে বা প্রয়োজন পড়ে।

৩. অনলাইন ইনকাম :

অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় এটা নিত্য নতুন কোনো কিছু নয়। সবাই জানে বর্তমানে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়। অনলাইন থেকে অনেক ফ্রিল্যান্সাররা ইনকাম করছে। অনলাইনের মাধ্যমে তারা হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে। আর এই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে হলে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়।

৪. বিনোদন মাধ্যম :

বিনোদন তরুন প্রজন্মের কাছে খুব প্রিয়। আমরা বিনোদনের মাধ্যমে মনকে প্রফুল্য রাখতে চাই। সে জন্য আমরা ইউটিউবে গান শুনে থাকি, ভিডিও দেখি, সেনেমা দেখি, বিভিন্ন গেম খেলে থাকি। আর এর জন্য প্রয়োজন হয় ইন্টারনেট। তাই ইন্টারনেটের ব্যবহার বিভিন্ন জায়গায় করতে হয়।

৫. অনলাইন কেনাকাটা :

অনেকে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে থাকে। তারা বসায় বসে সব কিছু পেতে চায়। এছাড়া অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে। তারা অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। অনলাইনের মাধ্যমে পন্য বিক্রি করে থাকে। তাই অনলাইনে কেনা কাট বা পন্য বিক্রি করতে হলে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়।

৬. শিক্ষা দীক্ষা :

শিক্ষা দিক্ষার জন্য বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। করোনা কালীন সময়ে কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। এই অবস্থায় লেখা পড়ার জন্য অনলাইনে টিউটর প্রয়োজন হয়। অনলাইনের মাধ্যমে স্কুল- কলেজের শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারেন। অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকরা টিউশনি করতে পারেন। আর এর জন্য প্রয়োজন হয় ইন্টারনেট।

পড়ুন :

কিভাবে ফেসবুক থেকে ইনকাম করবেন

কিভাবে ডাটা কাজ এন্ট্রি করবেন

শেষ কথা :

পরিশেষে বলা যায় বর্তমান বিশ্ব ইন্টারনেট (Internet) বিশ্ব। সবাই আমরা ইন্টারনেট কেন্দ্রিক। ইন্টারনেটের উপর ভর করে আমরা জীবনকে পরিচালিত করে থাকি। ইন্টারনেট আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। শিক্ষা বলেন, ব্যবসা বলেন, অনলাইন ইনকাম বলেন, অফিস আদালত বলেন, প্রতিটি সেক্টরে ইন্টারনেট ব্যবহার প্রয়োজন পড়ে। ইন্টারনেট ছাড়া বিশ্ব অচল। তাই ইন্টারনেটের ব্যবহার যথাযথ করুন এবং জীবনকে সুন্দর ও গতিময় করে তুলুন।

Related posts

One Thought to “ইন্টারনেট (Internet ) কি এবং কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত”

  1. Thanks for the good article, I hope you continue to work as well.Спаситель на продажу

Leave a Comment