Google Top Ranking কি এবং কিভাবে ওয়েবসাইটকে গুগুল টপ রেংকিংয়ে নিয়ে আসা যায়

Google top ranking

Google Top Ranking বা গুগুলের প্রথম পাতায় কে না আসতে চায়। সবাই চায় আমার ওয়েবসাইট গুগুলের প্রথম পাতায় ৫টি সারির মধ্যে থাক। গুগুলের টপে বা প্রথম পাতায় আসতে পারলে সাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে এবং সাইটের রেন্ক বৃদ্ধি পাবে। অনলাইনে কোন বিষয় খুজে পেতে গেলে আমরা গুগুলে সার্চ করি। গুগুল তার ভিজিটরদের কাঙ্খিত তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। ইউজারদের তথ্য গুলো গুগুল তার এলগরিদম পদ্ধতির ভিত্তিতে গুগুল টপ রেংকিংয়ে নিয়ে আসে এবং ইউজাদের সামনে উপস্থাপন করে থাকে। তাই গুগুল টপ রেংকিংয়ে আপনার ওয়েবসাইট বা আপনার কোম্পানী বা কিওয়ার্ডকে নিয়ে আসতে হলে সঠিক ভাবে এস ই ও করতে হবে। আসুন কিভাবে গুগুল টপে বা প্রথম পাতায় আপনার ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে জেনে নেই।

গুগুল টপ রেংকিং (Google Top Ranking) কি :

গুগল টপ রেংকিং হলো কোন সাইটকে গুগুল টপে বা গুগুলের প্রথম পাতায় নিয়ে আসা। বিস্তারিত ভাবে বলা যায়- কোন কোম্পানীর ওয়েবসাইট, ব্লগসাইট, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, কোন লিংক, কোন কিওয়ার্ডকে গুগুলের টপে বা গুগুলের প্রথম পেজে নিয়ে আসাকে গুগুল টপ রেংকিং (Google top ranking) বলে। গুগুল টপ রেংকিং করতে গেলে বায়ার বা কেউ কোন লিংক বা যে কোন কিওয়ার্ড বা কোন ইমেজ দিলে তা সঠিক ভাবে এস ই ও করে গুগুলের প্রথম পেজে নিয়ে আসায় হলো গুগুল টপ রেংকিং।

কিভাবে গুগুল টপ রেংকিং (Google top ranking) করা যায় :

গুগুল টপ রেংকিং (Google top ranking) করতে হলে আপনাকে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। সঠিক ভাবে সঠিক ওয়েতে করতে পারলে আপনার সাইট গুগুল টপে আসবে। গুগুল টপ রেংকিং কাজ করাটা খুব জটিল। তারপরও আমরা প্রোপার ওয়েতে করতে পারলে ওয়েবসাইট গুগুল টপে আসবেই। আমরা তিনটি পদ্ধতি যদি সঠিক ভাবে ইউটিলাইজ করতে পারি তাহলে ওয়েবসাইট গুগুল টপে আসবেই। পদ্ধতি তিনটি হলো: ১. টেকনিক্যাল এস ই ও ২. অনপেজ এস ই ও ৩. অফপেজ এস ই ও । আমরা এই তিনটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচানা করবো।

টেকনিক্যাল এস ই ও করা :

একটি ওয়েবসাইটের ভিতরে টেকনিক্যালি যে কাজ গুলো করা হয় তাকে টেকনিক্যাল এস ই ও বলা হয়। টেকনিক্যালি এস ই ও কিভাবে করবেন সে বিষয় গুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো :

১. কিওয়ার্ড রিসার্চ :

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইট বা কোন পেজ বা কোন চ্যানেল তৈরি করতে চাইবেন তখন আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে জানা যায় কোন কিওয়ার্ডের ভিলিউম কত, কম্পিটিশন কত, কোয়ালিটি কি ইত্যাদি তথ্য জানা যায়। আপনাকে এমন কিওয়ার্ড সিলেক্ট করতে হবে যার সার্চ ভলিউম বেশি, কম্পিটিশন কম, লো কোয়ালিটি এমন কিওয়ার্ড নির্ধারন করতে পারলে রেংক পাওয়া সহজ হবে। এর জন্য আপনাকে কি করতে হবে ? আপনাকে বিভিন্ন কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলের সাহায্যে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। অনলাইনে অনেক কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস রয়েছে। আমার সাজেশন হচ্ছে ফ্রি রিসার্চ টুল ”কিওয়ার্ড প্লানার” ব্যবহার করতে পারেন। এই কিওয়ার্ড প্লানারের সাহায্যে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে পারেন।

২. টপ লেভেল ডোমেইন :

টপ লেভেল ডোমেন, সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন বা সাব-ডোমেইন বিভিন্ন ধরনের ডোমেইন রয়েছে। সবাই জানে যে সেকেন্ড লেভেল ডোমেনের চেয়ে টপ লেভেল ডোমেইল রেংক করা সহজ। আমারও মত তাই যে আপনি টপ লেভেলের ডোমেইন ক্রয় করবেন। টপ লেভেল ডোমেইন গুলো হলো : .com, .net, .org, .co .info ইত্যাদি।

৩. গুগুলে ইনডেক্স করা :

সাইট তৈরি করার পর আপনাকে গুগুলে তা ইনডেক্স করতে হবে এবং ভেরিফাই করতে হবে। এর জন্য আপনাকে কি করতে হবে ? আপনাকে প্রথমে গুগল ওয়েবমাষ্টার টুল বা সার্চ কনসোলের সাহায্য নিতে হবে। গুগুল ওয়েবমাষ্টাল টুলে গিয়ে সাইন ইন করতে হবে।আপনার ইমেইল, পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করে নিবেন। তারপর নিচের মতো একটা ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

এখানে URL prefix এর নিচে বক্সে আপনার ওযেবসাইটের নাম লিখুন। তারপর Continue ক্লিক করুন।তারপর একটা পেজ আসবে এখানে আপলোড ‍এন্ড এইচ টি এম এল ফাইলে ক্লিক করুন। এখানে একটা ভেরিফিকেশন কোড পাবেন। কোডটি কপি করে ব্লগার সাইট হলে আপনার সাইটের <head> </head> এই কোডের মধ্যে বসিয়ে দিয়ে সেভ দিন। ওয়ার্ডপ্রেস সাইট হলে Yest seo প্লাগিন সেটাপ করে তাতে webmaster tools এর গুগুল ভেরিফিকেশনের ঘরে কোডটি পেস্ট করে সেভ দিন। তারপর আবার আগের ওয়েবমাষ্টার টুল সাইটে গিয়ে ভেরিফাইয়ে ক্লিক করুন। বাছ আপনার সাইট ইনডেক্স এবং ভেরিফাই হয়ে গেল।

৪. গুগুলে সাইট ম্যাপ সাবমিট করা :

ওয়েব মাষ্টাল টুলের সাহায্যে সার্চ কনসোল থেকে সাইট ম্যাপ সাবমিট করতে হবে। নিচের মতো একটা ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।তাতে sitemaps এ ক্লিক করুন।

এখানে Add a new sitemap এর জায়গায় “sitemap_index.xml” এই লেখাটি যোগ করে Submit বাটলে ক্লিক করুন। তারপর আপনাকে ‍সাইট ম্যাপ সাবমিটেড সাকসেসফুলি লেখা দেখাবে।বাছ আপনার সাইট ম্যাপ সাবমিট হয়ে গেল।

৫. SSL সার্টিফিকেট যুক্ত করা :

আপনার ডোমেইনকে বা ওয়েবসাইটকে ঝুকি মুক্ত রাখতে হলে SSL সার্টিফিকেট যুক্ত করতে হবে।অর্থাৎ আপনার ডোমেইন নেমের আগে http:// না হয়ে https:// যুক্ত করতে হবে। SSL সার্টিফিকেট যুক্ত থাকলে আপনার সাইট নিরাপদ থাকবে এবং ঝুকি মুক্ত থাকবে। তবেই গুগুল রেংক করাতে সহজ হবে।

৬. বাউন্স রেট কম রাখা :

আপনার সাইটের বাউন্স রেট কম রাখা ভালো। তাতে রেংকে সুবিধা হবে এবং গুগুল ভাল চোখে দেখবে। বাউন্স রেট সবসময় ৬০ এর নিচে থাকা ভালো। ৬০ এর উপর গেলে তা ঝুকিপূর্ন।তাই সবসময় বাউন্স রেট কম রাখার চেষ্টা করবেন। এর জন্য কি করতে হবে। আপনাকে আপনার সাইটের ইমেজ যতদুর সম্ভব ছোট রাখতে হবে। সাইটে অতিরিক্ত এড রাখা যাবে না। সাইটের ডিজাইন সাদামাটা রাখতে হবে।

৭. সাইটের স্পীড বৃদ্ধি করা :

সাধারনত একটি সাইটের লোডিং স্পিড ৩ থেকে ৪ সেকেন্ডের মধ্যে হওয়া উটিত। লোডিং সময় যদি বেশি নেয় তাহলে ভিজিটর হারানোর ভয় থাকে। এতে করে ৭৫% কাস্টমার হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর গুগুল এটা পছন্দ করে না। আপনি লোডিং স্পীড চেক করার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট পাবেন।যেমন : 1. Google page speed insight, 2. pingdom 3. Zmatrix ইত্যাদি। এ গুলো দিয়ে স্পীড চেক করে নিতে পারেন। স্পিড বৃদ্ধি করার জন্য কি করতে হবে। আপনাকে W3 total cache, wp faster cache. Zet pack ইত্যাদি প্লাগিনের সাহায্যে স্পীড বৃদ্ধি করতে হবে।

৮. কন্টেন্ট বা রিভিও তৈরি করা :

একটি সাইটকে গুগুল টপে বা Google top ranking নিয়ে আসতে হলে তার কন্টেন্ট বা প্রোডাক্ট রিভিও ইউনিক হতে হবে। আপনাকে সুন্দর সুন্দর কন্টেন্ট বা প্রোডাক্ট রিভিও তৈরি করতে হবে। কন্টেন্ট হলো সাইটের প্রান। কন্টেন্ট যত ভাল হবে সাইটে তত ভিজিটর আসবে এবং সাইট রেংকিংয়ে এগিয়ে যাবে।আর লং কন্টেন্টকে গুগুল প্রাধান্য দেয়। কন্টেন্ট নুন্যতম ৫০০ শব্দের হওয়া উচিত। তবে 1000 ওয়ার্ড থেকে 2000 ওয়ার্ডের হলে ভালো।

৯. ম্যাটা কিওয়ার্ড এবং ম্যাটা ডিসক্রিপশন :

সাইটের মধ্যে ম্যাটা কিওয়ার্ড এবং ম্যাটা ডিসক্রেপশন সেট করতে হবে। ম্যাটা কিওয়ার্ড সাইট রিলেটেড হতে হবে এবং তা ৫টি শব্দের মধ্যে হওয়া উচিত। ম্যাটা ডিসক্রিপশনও সাইট রিলেটেড সম্পর্কে লিখতে হবে। যাতে আকর্ষনীয় হয়। ম্যাটা কিওয়ার্ড এবং ম্যাটা ডিসক্রিপশনে টারগেটেড কিওয়ার্ড থাকতে হবে।

১০. কিওয়ার্ড ডেনসিটি :

কিওয়ার্ড ডেনসিটি হচ্ছে আপনি যে কিওয়ার্ড রেংক করাতে চাচ্ছেন তা আপনার কন্টেন্টের মধ্যে কত % রয়েছে। কিওয়ার্ড ডেনসিটি ব্যাপারে সাবধনতা অবলম্বন করা উচিত। কারন কিওয়ার্ড ডেনসিটি একে বারে কম হলে যেমন গুগুলে রেংক করানো কঠিন হবে ঠিক তেমনি কিওয়ার্ড ডেনসিটি বেশি হলে গুগুলের পেনাল্টি খাওয়ার চান্স থাকে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কত পাসের্ন্ট কিওয়ার্ড কন্টেন্টের মধ্যে রাখতে হবে। এটার উত্তর একেক জনের কাছে একেক রকমের। তবে আমার মত হচ্ছে ১০০০ ওয়ার্ডের মধ্যে ৫-৬ বারের বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত না। আর এ ক্ষেত্রে ইয়স্ট এস ই ও প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন।যা আপনাকে সঠিক নির্দেশনা দিবে।

১১. গুগুল ম্যাপে কিওয়ার্ড সেট করা :

আপনি যে কিওয়ার্ড দিয়ে সাইটকে রেংক করাতে চাচ্ছেন সেই কিওয়ার্ড গুগুল ম্যাপে সেট করতে হবে।কিভাবে করবেন। প্রথমে ব্রাউজারে গিয়ে Map.google.com লিখে সার্চ করুন। তারপর আপনি যে দেশের ম্যাপ চাচ্ছেন তা লিখুন।তখন আপনার ম্যাপ আসবে। তাতে আপনার সাইট যে এলাকায় সে স্থানের উপর গিয়ে রাইট বাটনে ক্লিক করুন। তখন একটা লিস্ট দেথতে পাবেন তাতে Add a missing place এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি এন্টারফেস দেখতে পাবেন।

এখানে Add name এর জায়গার আপনার সাইটের নাম লিখুন। এই নামের সাথে মিল করে আপনার কিওয়ার্ডটি সেট করে দিন।যে কিওয়ার্ড দিয়ে আপনার সাইট রেংক করাতে চাচ্ছেন। তারপর ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে অন্যান্য তথ্য দিয়ে ফিলাপ করুন। তারপর সাবমিট করুন।

১২. ফেসবুক পেজের মধ্যে কিওয়ার্ড সেট করা :

আপনার সাইট সম্পর্কিত একটি ফেসবুজ পেজ তৈরি করুন। তার ভিতরে About এর মধ্যে গিয়ে আপনার শর্ট ডিসক্রিপশনের মধ্যে আপনার কিওয়ার্ড সেট করে দিন এবং লং ডিসক্রিপশনের মধ্যেও কিওয়ার্ড সেট করে দিন। তারপর আপনার পেজ বিভিন্ন গুরুপে শেয়ার, বিভিন্ন পেজে শেয়ার করতে থাকুন। দেখবেন আপনার কিওয়ার্ড রেংকে চলে আসবে।

১৩. ইউটিউব চ্যানেলে কিওয়ার্ড সেটাপ করা :

আপনার সাইট সম্পর্কিত একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলুন। তার মধ্যে টাইটেলে কিওয়ার্ড সেট করুন। ডিসক্রিপশনের মধ্যে কিওয়ার্ড সেট করুন। ম্যাটা টেগে কিওয়ার্ড সেট করুন। এছাড়া আপনার ভিডিও গুলোর মধ্যে কিওয়ার্ড সেট করতে পারেন। এভাবে আপনার কিওয়ার্ডকে বিভিন্ন জায়গার ছড়িয়ে দিন দেখবেন আপনার সাইট বা আপনার লিংক গুগুল টপে চলে আসবে।

অনপেজ এস ই ও করা :

অনপেজ এস ই ও হচ্ছে একটি সাইটের মধ্যে যে সমস্ত কাজ করতে হয় তাকে অনপেজ এস ই ও বলা হয়। অনপেজ এস ই ও সম্পর্কে বিস্তারিত একটি র্আটিকেল রয়েছে। এই লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন। লিংকটি হলো : https://www.ictcorner.com/on-page-seo/ । আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু তুলে ধরছি। Google top ranking ক্ষেত্রে অনপেজ এস ই ও হলো মূল কান্ডারি।

১ টাইটেল ট্যাগ :

একটি কন্টেন্ট যখন লিখবেন তখন টাইটেলের মধ্যে ফোকাস কিওয়ার্ড থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে কিওয়ার্ড দিয়ে কন্টেন্টকে গুগুল টপে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন সেই কিওয়ার্ড টাইটেলের মধ্যে থাকতে হবে। টাইটেলের ক্যারেক্টার যেন ৭০কিওয়ার্ডের বেশি না হয়। জনপ্রিয় SEO টুল MOZ এর জরিপে বলা হয় যে সমস্ত কিওয়ার্ড টাইটেলের শুরুতে থাকে তারা মাঝের বা শেষের দেওয়া কিওয়ার্ডের চেয়ে রেজাল্ট ভাল দেয়। সুতরাং টাইটেলের শুরুতে কিওয়ার্ড রাখা ভালো।

২. ফাস্ট প্যাড়া ও লাস্ট প্যাড়াতে কিওয়ার্ড থাকা :

কন্টেন্টের ফাস্ট প্যাড়াতে ফোকাস কিওয়ার্ড থাকা উচিত।কন্টেন্টের প্রথম প্যাড়া সাধারনত ১০০ ক্যারেক্টার হলে তার মধ্যে একবার হলেও একটি কিওয়ার্ড রাখা বাঞ্চনীয়। এছাড়া লাস্ট বা শেষের প্যাড়াতেও ফোকাস কিওয়ার্ড থাকা ভালো। আর সমস্ত কন্টেন্টে পার্সেন্টস অনুসারে কিওয়ার্ড থাকা আবশ্যক।

৩. হেডার ট্যাগ :

কন্টেন্টের মধ্যে হেডার ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। হেডার ট্যাগ হচ্ছে H1, H2, H3, H4, H5, H6 । এই ট্যাগ গুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করতে হবে। তবে H1 ট্যাগ একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত না।

৪. ইমেজ অলটার ট্যাগ :

একটি কন্টেন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী সুন্দর সুন্দর ইমেজ বা ব্যবহার করতে হবে।তবে বেশি ইমেজ ব্যবহার না করাই ভালো। আর প্রতিটি ইমেজে অলটার ট্যাগ দিতে হবে। ইমেজের নাম ও ক্যাপশন ব্যবহার করতে হবে। সাথে কিওয়ার্ড যুক্ত করতে হবে।

৫. ডিসক্রেপশন :

একটি কন্টেন্টের সারাংশ বা ডিসক্রেপশ লেখতে হবে। আর এই ডিসক্রেপশনে ফোকাস কিওয়ার্ড থাকতে হবে। সারাংশ বা ডিসক্রেপশনটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত এবং আকর্ষনীয়।যদিও মেটা ডিসক্রেপশনকে সার্চ রেজাল্টে গুগুল তেমন ভেলু দেয় না তারপরও CTR বৃদ্ধির জন্য আকর্ষনীয় ডিসক্রেপশন লিখতে হবে।

৬. ইনবাউন্ট লিংক :

কন্টেন্টের মধ্যে ইনবাউন্ট লিংক দিতে হবে। ইনবাউন্ট লিংক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের ভিতরে অন্যান্য যে কন্টেন্ট রয়েছে তার লিংক সেট করে দেওয়া। এতে আপনার কাস্টমাররা এই কন্টেন্ট থেকে আপনার আরেকটি কন্টেন্টে যাবে। এতে আপনার বাউন্স রেট কম হবে। আপনার কাস্টমারকে বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারলে আপনার সাইটের রেংক বৃদ্ধি হবে।

৭. আউটবাউন্ট লিংক :

কন্টেন্টের মাধ্যে আউটবাউন্ট লিংক সেটাপ করা। আউটবাউন্ড লিংক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট সমমনা অন্য একটি সাইটের লিংক সেটাপ করে দেওয়াই হচ্ছে আউটবাউন্ট লিংক দেওয়া। আউটবাউন্ট লিংক সেটাপ করা গুগুল ভালো চোখে দেথে। এর উদ্দেশ্য হলো আপনার ভিজিটর ঐ সাইটে যাবে আবার ঐ সাইটের ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে। এর মাধ্যমে দুই সাইটে মধ্যে একটা করেসপন্ডস সৃষ্টি হবে। যা গুগুল ভালো চোখে দেখে।

অফপেজ এস ই ও করা :

অফপেজ এস ই ও হচ্ছে নিজের সাইটের ভিতরে কাজ না করে নিজের সাইট সম্পর্কে অন্যের সাইটে গিয়ে কাজ করাকে অফপেজ এস ই ও বলা হয়। অফপেজ এস ই ও গুগুল টপ রেংকিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। অফপেজ এস ই ও সম্পর্কে বিস্তারিত র্আটিকেল রয়েছে আপনি চাইলে দেথে নিতে পারেন। লিংকটি হলো : https://www.ictcorner.com/off-page-seo/ । আপনাদের বুঝার স্বার্থে এখানে সামান্য কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১. লিংক বিল্ডিং করা :

লিংক বিল্ডিং করা মানে ব্যাকলিংক দেওয়া। সাধরন ভাবে ব্যাকলিংক হচ্ছে আপনার সাইট রিলেটেড সাইটে গিয়ে তার সাইট সম্পর্কে মন্তব্য করে তাকে ধন্যবাদ জানানো এবং সেই সংগে আপনার সাইটের লিংক বসিয়ে দিয়ে সাবমিট করাই হচ্ছে ব্যাকলিংক করা বা ব্যাকলিংক দেওয়া। ব্যাকলিংক বিভিন্ন ভাবে দেওয়া যেতে ব্লগ কমেন্টিং করে, গেস্ট পোস্টিং করে, কোন সাইটে লিংক সাবমিট করে। অর্থাৎ অন্য কোন সাইটে আপনার সাইটের লিংক বসিয়ে দেওয়াই হচ্ছে ব্যাকলিংক । তবে তা হতে হবে গঠন মুলক। তবেই কিন্তু এ্যাপপ্রোভ হবে।নতুবা ইফেকটিভ ব্যাকলিংক হবে না।আমরা সব সময় ইফেক্টিভ ব্যাকলিংক দেওয়া চেষ্টা করবো। তবেই কোন সাইট Google top ranking এ আসা সম্ভব।

২. বুকমার্ক করা :

বুকমার্ক একটি সাইটের রেংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। বুকমার্ক করতে হলে আপনাকে বুকমার্ক সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।রেজিষ্ট্রেশন করে লগিন করতে হবে।তারপর আপনার সাইটের লিংক বসাতে হবে, কন্টেন্টের টাইটেল দিতে হবে, ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে হবে, ট্যাগ দিতে হবে, এবং আপনার কন্টেন্টে কিছু অংশ দিতে হবে। শেষে ক্যাপচা পুরুন করে সাবমিট করুন। আপনার বুকমার্ক করা হয়ে যাবে।তবে বুকমার্ক সাইট বিভিন্ন রকমের হতে পারে।আপনাকে সাইটের ধরন বুঝে কাজটি করতে হবে।

৩. গেস্ট পোস্টিং করা :

গেস্ট পোস্টিং হচ্ছে অন্যের সাইটে র্আটিকেল লিখে পোস্ট করাকে গেস্ট পোস্টিং করা বলা হয়ে থাকে। গেস্ট পোস্টি করতে হলে ঐ সাইটের এডমিন থেকে পারমিশ নিতে হবে। গেস্ট পোস্টিং করে আপনার সাইটের লিংক সেখানে বসিয়ে দিতে হবে। তাহলে ঐ সাইট থেকে আপনার সাইটে ভিজিটর পেতে পারেন।

৪. ফোরাম পোস্টিং করা :

ফোরাম পোস্টিং হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন ফোরাম সাইট রয়েছে। সেই সমস্ত সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করে সদস্য হতে হবে। তারপর তাদের সাখে কথোপকথন করতে হবে। এক পর্যায়ে আপনার সাইটের লিংক সেখানে বসিয়ে দিতে হবে। এতে করে সেখান থেকে আপনার সাইটে কাস্টমার পেতে পারেন।

৫. Question and Answer সাইট :

অনলাইনে বিভিন্ন Question and Answer সাইট রয়েছে। সেই সাইট গুলোতে আপনাকে প্রশ্ন করতে হবে এবং প্রশ্নে উত্তর দিতে হবে। পাশাপাশি সেই সব উত্তরে সাথে মিল করে আপনার সাইটের লিংক বসিয়ে দিতে হবে। এতে করে আপনি সেখান থেকে ভিজিটর পেতে পারেন।

৬. সোসাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট পাবলিশ করা :

Google top rankig এর ক্ষেত্রে সোসাল মিডিয়ার ভূমিকা অগ্রগন্য। সোসাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট পোস্ট করে ব্যাকলিংক দেওয়া একটি ইফেকটিভ ব্যাকলিংক দেওয়া। বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া রয়েছে।যেমন : ফেসবুক, টুইটার, ইনিস্টাগ্রাম, লিংকদিন, পিন্টারিস্ট ইত্যাদি সোসাল মিডিয়া সাইট রয়েছে। এই সাইট গুলোতে নিয়মিত আপনার পোস্ট করতে হবে। আপনার কন্টেন্টের লিংক বসিয়ে দিন এবং আপনার ফোকাস কিওয়ার্ড সেট করে দিন। এখান থেকে প্রচুর ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে। সাইটে ভিজিটর আসা মানে আপনার সাইটের রেংক বৃদ্ধি হওয়া।

ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন : https://www.ictcorner.com/online-income/

পরিশেষে আমি বলবো আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড বা ওয়েবসাইটকে Google top ranking এ নিয়ে আসতে হলে উপরের সকল কাজ গুলি সঠিক ভাবে করতে হবে। তাহলে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট বা কিওয়ার্ড বা লিংক গুগুলের প্রথম পেজে আসবে। মনে রাখবেন আপনি যে কিওয়ার্ডের মাধ্যমে আপনার সাইটকে গুগুল টপ রেংকিংয়ে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন সেই কিওয়ার্ডটি বিভিন্ন জায়গার সেট করে দিন। ওয়েবসাইটের ডিসক্রিপশনে, টা্ইটেলে, ফেসবুক এ্যাবাউট পেজে, ইউটিউবের টাইটেলে এবং ডিসক্রিপশনে, ম্যাটা ট্যাগে, গুগুল ম্যাপে প্রভৃতি স্থানে আপনার কিওয়ার্ডটি সেট করে দিন।তাহলে ঐ কিওয়ার্ডের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা কোম্পানী গুগুল টপ রেংকিংয়ে চলে আসবে।

Related posts

Leave a Comment