“ ফাইভার প্রোফাইল ( Fiverr Profile ) কিভাবে তৈরি করবেন ”

Fiverr frofile

ফাইভার একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। ফাইভারে কাজ করতে হলে একাউন্ট তৈরি এবং ফাইভার প্রোফাইল (Fiverr Profile) সঠিক ভাবে সেটাপ করতে হবে। ফাইবারের প্রোফাইলই বলে দিবে আপনি কোন ক্যাটাগরির কাজ করবেন। আপনার প্রোফাইল দেখে বায়াররা বুঝতে পারবে আপনি কোন ক্যাটাগরির কাজ করবেন। ফাইভার প্রোফাইল দেখে বায়াররা সে অনুযায়ী কাজের অফার করবে। যদিও কাজের জন্য গিগ অফার করতে হয়। তারপরও কাজ পাওয়া না পাওয়া অনেকাংশে প্রোফাইলের উপর নির্ভরশীল। ফাইভারে আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে পরিচয় তৈরি এবং আপনার পেশাদার শৈলী উপস্থাপনের জন্য প্রোফাইল প্রয়োজন। তাই ফাইভার প্রোফাইল সঠিক ভাবে সাজাতে হবে। আজকে আমরা আলোচনা করবো ফাইভার প্রোফাইল (Fiverr Profile) কিভাবে তৈরি করবেন।

ফাইভার প্রোফাইল (Fiverr Profile) কিভাবে তৈরি করবেন :

ফাইভার ক্রয় বিক্রয়ের অন্যতম মার্কেটপ্লেস। এই মার্কেটপ্লেসে সেলাররা তার সার্ভিস সেল করে থাকে। আর বায়াররা সার্ভিস ক্রয় করে থাকে। আপনার সার্ভিস সেল করতে হলে গিগ তৈরি করতে হয়। তার আগে ফাইভার একাউন্ট তৈরি এবং ফাইভার প্রোফাইল সেটাপ করতে হয়। ফাইভার প্রোফাইল কিভাবে সেট করবেন তা নিচে তুলে ধরা হলো। প্রথমে আপনাকে ফাইভারে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। তারপর আপনার ইমেইলে ভেরেফাইয়ের জন্য একটি ম্যাসেজ যাবে। সেটা একটিভ করলে নিচের মতো একটি ইন্টরফেস দেখতে পাবেন। আপনার ইন্টারফেসে কিছুটা ভিন্নতা আসবে সেখানে ফটো ও গিগ ইমেজ আসবে না। ফাঁকা দেখতে পাবেন।

ভাইভার প্রোফাইল :

Fiverr profile

এবার উপরে ডান কর্ণারে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া স্থানে ক্লিক করলে একটি ড্রপ ডাউন লিস্ট দেখতে পাবেন। তাতে প্রোফাইলে ক্লিক করুন তাহলে উপরের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। এই ইন্টারফেসে সকল তথ্য দিয়ে সঠিক ভাবে সাজাতে হবে।

  • ছবি আপলোড : ছবির জায়গার আপনার নিজের সুন্দর একটি ছবি আপলোড করুন। ছবিটি যেন পরিস্কার ঝকঝকে হয়। আপনাকে সঠিক মতো চিনা যায়। অস্পস্ট ছবি ফাইভারে এলাউ (Allow) করে না। পরবর্তীতে এন আই ডি কার্ড ভেরিফিকেশনের সময় সমস্যা হতে পারে। তাই আপনাকে নিজের পরিস্কার ছবি আপলোড দিতে হবে।
  • স্লোগান : এবার আপনার আইডি নেমের নিচে একটি স্লোগান দিন। স্লোগান বলতে আপনার পেশাদারিত্বের পরিচিতির একটি বাক্য লিখে দিন। যেমন আমি লিখেছি – Digital Marketer, SEO Expert and Facebook Marketer. আপনি আপনার যে কাজের পারদর্শী তার উপর ভিত্তি করে একটি বাক্য লিখে দিন। যে এই এই কাজে আমি পারদর্শী। অর্থাৎ আপনি যে নামে পরিচিতি লাভ করতে চান তার উপর ভিত্তি করে একটি স্লোগান লিখুন। যেমন আপনি Graphic Designer, Content Writer, Web Designer ইত্যাদি ধরনে লিখতে পারেন।
  • ডিস্ক্রেপশন : প্রোফাইলের ক্ষেত্রে ডিস্ক্রেপশন হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এই ডিস্ক্রেপশনে থাকতে হবে আপনি কি কি কাজ পারেন বা কি কি কাজের যোগ্যতা আছে। আপনি কি ধরনের কোর্স করেছেন। আপনার সার্টিফিকেট কি আছে। আপনি কি কি কাজের প্রজেক্ট করেছেন ইত্যাদি উল্লেখ সহ বিস্তারিত তুলে ধরতে হবে। মনে রাখবেন ডিস্ক্রেপশন যদি ভালো হয় তাহলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আর একটি কথা ডিস্ক্রেপশন যেন ভুলেও কপি পেস্ট করবেন না। অর্থাৎ কারো সাথে যাতে মিল না হয়। কারো লেখা কপি করবেন না।
  • ল্যাংগুয়েজ বা ভাষা : ল্যাংগুয়েজ হচ্ছে আপনি যে ভাষা প্রোয়োগ করে কাজ করতে চান তা লিখে দিবেন। সাধারনত ইংরেজী ভাষায় লিখে দিবেন। এছাড়া আপনার নিজের কোন ভাষা থাকলে তাও লিখে দিতে পারেন।
  • টেস্ট টেকিন : টেস্ট টেকিন এখানে আপনার স্কিল টেস্টের একটি পরিক্ষা দিতে বলছে। এটা প্রথমে দরকার নেই। যখন কখনো স্কীল টেস্ট চায় তখন স্কীল টেস্ট দিবেন। এটা যখন আপনার গিগ পাবলিশ করতে যাবেন তখন চাইতে পারে। যদি চায় তাহলে দিবেন না চাইলে দিবেন না। আপনাকে ৪০টি প্রশ্ন দিবে ৪০ মিনিট সময় দিবে। ৩০টির সঠিক উত্তর দিতে পারলে আপনি পাশ করতে পারবেন।
  • লিন্কড একাউন্টস : লিন্কড একাউন্টসে আপনার সোসাল মিডিয়ায় যত গুলো লিংক আছে তার লিংক বসিয়ে দিন। যেমন : ফেসবুক লিংক, গুগুল লিংক, টুইটার লিংক ইত্যাদি লিংক বসিয়ে দিন।
  • স্কীলস : স্কীলস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন । আপনার কাজের কি কি স্কীল বা দক্ষতা আছে সে গুলো উল্লেখ করুন। এখানে আপনার কাজের ১০টি স্কীল উল্লেখ করতে পারবেন। আপনি যে কাজ গুলো ভালো পারেন এমন ১০টি বিষয় লিখে দিন।
  • এডুকেশন : এডুকেশন হচ্ছে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা। এখানে আপনার জেনারেল শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন মুখ্য ভুমিকা নেই। আপনার ফিল্যান্সিং বিষয়ে কি কি যোগ্যতা আছে তা উল্লেখ করুন।
  • সার্টিফিকেট : সার্টিফিকেট দেখানোর প্রয়োজন নেই। দেখালেও দেখাতে পারেন। সেটা আপনার ইচ্ছা। আমার মতে না দিলেও সমস্যা নেই।

পড়ুন :

ফাইভারে কিভাবে একাউন্ট তৈরি করবেন

ফাইভারে কিভাবে গিগ তৈরি করবেন

পরিশেষে কথা হচ্ছে ফাইভারে কাজ করতে হলে ফাইভার প্রোফাইল (Fiverr Profile) একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এই প্রোফাইলের মাধ্যমে আপনার কাজের যোগ্যতা, স্কীল বা পারদর্শিতা, কোয়ালিফেকেশন ইত্যাদি জানা যাবে। আর এর উপর ভিত্তি করে বায়ার আপনাকে গুরুত্ব দিবে এবং কাজ পাওয়া না পাওয়া অনেকটা নির্ভশীল। তাই আসুন ফাইভার প্রোফাইল সঠিক ভাবে সেটাপ করি। ফাইভারে কাজ পাওয়ার পথ সুগম করি।

Related posts

Leave a Comment