গিগ (Gig) কি ? কিভাবে ফাইভার গিগ (Fiverr Gig) তৈরি করা যায়

Fiverr Gig

গিগ একটি অফারের নাম। ফাইভারে কাজ করতে হলে ফাইভার গিগ (Fiverr Gig) তৈরি করতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মের মধ্যে অন্যতম মার্কেট প্লেস হচ্ছে ফাইভার ডটকম। ফাইভারে ৫ ডলার থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত কাজ পাওয়া যায়। এখানে প্রায় সব ধরনের কাজ পাওয়া যায়। যেমন: গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডিভোলপমেন্ট, এসইও, ভিডিও ইডিটিং, ফেসবুক মার্কেটিং, বুকমার্কিং ইত্যাদি। কিন্তু এই কাজ গুলো করতে গেলে আপনাকে গিগ তৈরি করতে হয়। কিভাবে গিগি তৈরি করবেন ? আসুন জেনে নেই কিভাবে গিগ তৈরি করা যায়। আজকের আলোচ্য বিষয় হলো গিগ (Gig) কি ? কিভাবে ফাইভার গিগ (Fiverr Gig) তৈরি করা যায়।

গিগ (Gig) কি :

গিগ মানে হচ্ছে অফার। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনার সার্ভিস বিক্রির জন্য কি কি সুবিধা প্রদান করবেন তা একটি পেজে বর্ননার মাধ্যমে উপস্থাপন করাকে গিগ বলা হয়ে থাকে। ফাইভারে একজন সেলার তার কাজের কি কি সুবিধা প্রদান করবেন তার খুটি-নাটি বিষয় বর্ননা করে অফার তৈরি করাকে গিগ বলা হয়ে থাকে। মোট কথা গিগ হচ্ছে সার্ভিসের গাইড লাইন। একজন ফ্রিল্যান্সার কি কি কাজ পারে, কি কি কাজ করে দিবে, কত দিনের মধ্যে কাজটি করে দিবে, কত ডলারের বিনিময়ে কাজটি করে দিবে তার একটি রুপরেখা তৈরি করাই হচ্ছে গিগ। একটি গিগের মধ্যে একজন ফ্রিল্যান্সারের সার্ভিস সেলের যাবতীয় বর্ননা লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে।

কিভাবে ফাইভার গিগ (Fiverr Gig) তৈরি করা যায় :

ফাইভারে গিগ তৈরি করতে হলে প্রথমে ভাবতে হবে আপনি কি ধরনের কাজ করবেন। তার উপর ভিত্তি করে গিগ তৈরি করতে হবে। কাজের ভিন্নতার কারনে গিগেও কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। মনে রাখবেন একটি ভালো গিগ আপনার ভাগ্যটাকে বদলে দিতে পারে। তাই গিগ তৈরি করতে হবে অত্যন্ত যত্ন সহকারে। প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে টাইটেলের দিকে। কারন টাইটেল হচ্ছে গিগের মূল কান্ডারী। টাইটেল যদি ভালো হয় তবে বায়ার সহজে আপনার গিগ দেখবে এবং কাজ পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যাবে। তারপর অন্যান্য ৪/৫ টি গিগ দেখে ধারনা নিয়ে সুন্দর একটি গিগ তৈরি করুন। মনে রাখাবেন কারো গিগ দেখে হুবহু কপি করার চেষ্টা করবেন না। তাহলে ফাইভার আপনাকে সাসপেন্ড করে দিতে পারে।

এবার আসুন মূল কাজে। প্রথমে ফাইভারে আপনাকে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ রেজিষ্ট্রেশন করে আইডি তৈরি করতে হবে এবং ভেরিফাই করতে হবে। তারপর ক্রেয়েট গিগে যেতে হবে। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। একটি পূর্নাঙ্গ গিগ তৈরি করতে গেলে ফাইভার আপনাকে ৬টি পেজের একটি লিস্ট দিবে। এই ৬টি টপিক আপনাকে সঠিক ভাবে ফুলফিল করে পাবলিশ করতে হবে। ইন্টারফেসে টিক মার্ক দেওয়া টপিক গুলোর কাজ সঠিক ভাবে সম্পূর্ন করতে হবে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

Fiverr Gig Create Page :

Fiverr Gig Create page

1. Overview :

এখানে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া Gig Title এ আপনি যে বিষয়ে গিগ তৈরি করতে চান তা 80 কেরেক্টারের মধ্যে লিখতে হবে। কোন শব্দ দুইবার লেখা উচিত না। বাক্যটি অবশ্যই যথাযুক্ত অর্থবোধক হতে হবে। Category থেকে আপনার বিষয় সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে দিন। Service Type থেকে আপনার সার্ভিস রিলেটড ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে দিন। তারপর Gig Metadata থেকে ইন্ডাসটিরি এক্সপারটিসে বিভিন্ন ক্যাটাগরি টিক চিহ্ন দিন। Language সিলেক্ট করে দিন। তারপর একেবারে নিচে Search Tags থেকে আপনার গিগ রিলেটেড ট্যাগ লিখে দিন। এখানে সর্বোচ্চ ৫টি ট্যাগ লিখতে পারবেন। তারপর Save বাটনে ক্লিক করুন।

2. Pricing :

এখানে আপনার প্যাকেজ নির্ধারন করে দিতে হবে। Basic, Standard, Premium কোন প্যাকেজে কি পরিমান কাজ কত ডলারের বিনিময়ে করে দিবেন তা লিখুন। ডেলিভারি টাইম কত দিন হবে তা সিলেক্ট করে দিন। অন্যান্য সুবিধা কি কি দিবেন তা টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। মনে রাখবেন কাজের সময়টা দু-এক দিন বেশী নেওয়া ভালো। তাতে আপনার কাজ করে দিতে সুবিধা হবে। তারপর সেভ বাটনে ক্লিক করুন।

3. Description & FAQ :

এখানে আপনার কাজের যোগ্যতা কি আছে এবং এই কাজের গুনাগুন কি বা উপকারিতা কি ইত্যাদি বিষয়ে ৪/৫ লাইনের মধ্যে বর্ননা লিখুন। তারপর কি কি সার্ভিস দিবেন তা পয়েন্ট আকারে লিখুন। এছাড়া আপনার সার্ভিসের বিশেষত্ব কি কি আছে লিখুন। ডিসক্রেপশন নিজের থেকে লিখুন কারো থেকে কপি করার চেষ্টা করবেন না। আর সার্ভিস টাইপ গুলো অন্যান্য গিগ দেখে আগে পিছে কিছু লেজ লাগানোর চেষ্টা করুন। Add FAQ এ কিছু লিখতে হবে না। তারপর সেভ বাটনে ক্লিক করুন।

4. Requirements :

রিকোয়ারমেন্টসে আপনার কাজের সুবিধার্থে কি কি প্রয়োজন তা লিখে বায়ারকে জানাতে হবে। যেমন : Website Link, Title, Description, Tag/keyword, Image ইত্যাদি লিখুন। তবে আপনার বিষয় অনুযায়ী রিকুয়ারমেন্ট ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে। এ গুলো বায়ার তার Attachment ফাইলের মাধ্যমে আপনাকে সরবরাহ করবে। এ গুলো আপনার বিষয় রিলেটেড কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়বে। তারপর সেভ বাটনে ক্লিক করুন।

5. Gallery :

গিগ গ্যালারীতে দুই ধরনে রিকুয়ারমেন্ট উপস্থাপন করা যায়। এক, ভিডিও দুই, থাম্বনিল বা ফটো। তবে নতুন সেলারদের ভিডিও এর প্রয়োজন নেই। শুধু একটি থাম্বনিল বা ফটো আপলোড দিলেই হবে। ব্রাউজ করে আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে একটি থাম্বনিল আপলোড করুন। থাম্বনিলের মাপ হতে হবে 550 Px by 370 Px সাইজ। থাম্বনিলের একটি সেম্পল নিচে তুলে ধরা হলো। আপনি আপনার বিষয় রিলেটেড থাম্বনিল তৈরি করে আপলোড করবেন। তারপর সেভ বাটনে ক্লিক করুন।

Bookmark Thumbnail :

Bookmark

6. Publish :

এখানে Almost there লেখা দেখাবে। এখান থেকে আপনার গিগ পাবলিশ করতে হবে। যদি স্কীল টেস্ট চা্য় তাহলে স্কীল টেস্ট দিতে হবে। আর যদি স্কীল টেস্ট না চায় তাহলে পাবলিশে ক্লিক করলে আপনার গিগ পাবলিশ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনার গিগ এখন লাইভে দেখাবে। লেখা দেখাবে It’s Alive. বাছ আপনার গিগ তৈরি হয়ে গেল। এখন আপনার গিগ মার্কেটিং করুন। তাহলে বায়ারের নজরে পড়বে এবং কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

পড়ুন :

কিভাবে ডাটা এন্ট্রি করবেন

কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং করবেন

পরিশেষে বলা যায় একটি ফাইবার গিগ (Fiverr Gig) আপনার ভাগ্যের দুয়ার খুলে দিতে পারে। যদি গিগটি সঠিক ভাবে পাবলিশ করতে পারেন। ফাইবারে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। ফাইবার একটি জনপ্রিয় মার্কেট প্লেস। এখানে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করছে। হাজার হাজার ডলার আয় করছে। সর্বপরি কথা হচ্ছে ফাইবারে কাজ করতে গেলে সঠিক স্কীল থাকতে হবে। আপনাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যে কোন একটি বিষয়ে বিশেষ পারদর্শি হতে হবে। তাহলেই আপনি সফলতা বয়ে আনতে পারবেন। তার জন্য প্রয়োজন আপনার ধর্য্য আর অধ্যাবসায়। চেষ্টা চালিয়ে যান সফলতা একদিন আসবেই আসবে ইনশাল্লাহ।

Related posts

Leave a Comment