ফাইভার (Fiverr) কি এবং কিভাবে ফাইভারে একাউন্ট তৈরি করবেন

Fiverr

ফাইভার (Fiverr) অনলাইন মার্কেট প্লেসের মধ্যে অন্যতম। এখানে হাজারো বায়ার ও সেলারের আগমন ঘটে। এখানে বিভিন্ন রকমের কাজ পাওয়া যায়। যেমন: ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডিভোলোপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ফেসবুক মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং ইত্যাদি। এই মার্কেটপ্লেস ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইহার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এখানে সেলারেরা তাদের কাজের সেম্পল হিসাবে গিগ তৈরি করে রাখে। বায়ারদের যে গিগ পছন্দ হয় তাদের সাথে কন্টাক্ট করে কাজের ওর্ডার করে থাকে। কাজ শেষে ফাইবারের মাধ্যমে ডলার পেমেন্ট দিয়ে থাকে। ফাইভার ২০% কেটে রেখে বাকী ডলার বা টাকা সেলারদের পেমেন্ট করে থাকে। এই পোস্ট বিগানারদের জন্য খুব হেলপফুল হবে। আজকে আমরা আলোচনা করবো ফাইভার (Fiverr) কি এবং কিভাবে ফাইভারে একাউন্ট তৈরি করবেন।

ফাইভার (Fiverr) কি :

ফাইভার একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখানে অনলাইনের মাধ্যমে সার্ভিস ক্রয় বিক্রয় করা হয়ে থাকে। সেলাররা সার্ভিস বিক্রয় করে থাকে। আর বায়াররা সার্ভিস ক্রয় করে থাকে। এখানে দুই ভাবে সার্ভিস বা সেবা ক্রয় বিক্রয় করা হয়ে থাকে। এক, গিগের মাধ্যমে সেলাররা সার্ভিস বা কাজ সেল করে থাকে। দুই, বায়ররা পোস্ট দিয়ে থকে যে এই এই ভাবে কাজ করে দিতে হবে। সে মোতাবেক চুক্তিবদ্ধ হয়েও কাজ করা যায়। তবে গিগের মাধ্যমে সার্ভিস প্রদান করাই হচ্ছে ফাইভারে অসল কার্যক্রম। মোটকথা ফাইভার হচ্ছে অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখানে গিগের মাধ্যমে সেলাররা তাদের সার্ভিস বা কাজ বিক্রয় করে থাকে। আর বায়াররা তা ক্রয় করে থাকে। এই মার্কেটপ্লেসে যারা কাজ করে তাদেরকে বলা হয় ”সেলার”। আর যারা সেলারদের দ্বারা কাজ করিয়ে নেয় তাদেরকে বলা হয় “বায়ার”। তবে সেলার বা বায়ার যাই হোক না কেন তাদের সবাইকে ফাইভারে একটি একাউন্ট থাকতে হবে।

পড়ুন : গিগ কিভাবে তৈরি করবেন

কিভাবে ফাইভারে একাউন্ট তৈরি করবেন :

ফাইভারে একাউন্ট তৈরি করতে হলে আপনার একটি একটিভ জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে। জিমেইল একাউন্ট থাকলে ভালো। না থাকলে এই লিংকে গিয়ে একটি জিমেইল একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারেন। লিংকটি হলো https://www.ictcorner.com/email/ . এবার যে কোন ব্রাউজার ওপেন করুন। ব্রাউজারে www.fiverr.com লিখে সার্চ করুন। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

ফাইভার ড্যাশবোড :

Fiverr Dashbord

এখানে উপরে ডান পাশে কর্নারে Join বাটনে ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Fiverr 2 : Fiverr 2

এখানে Continue with Facebook or Continue with Google যে কোন একটির মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে পারবেন। আবার আপনার অন্য কোন জিমেইল একাউন্ট দিয়ে একাউন্ট খুলতে পারেন। তাহলে আয়তাকার বৃত্তে একটি জিমেইল আইডি লিখুন। তারপর Continue বাটনে ক্লিক করুন। এবার নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Fiverr 3 : fiverr 3

এখানে উপরে আয়াতাকার ঘরে User name এর জায়গায় আপনার পছন্দ মতো একটি নাম লিখুন। নামটার ভিতরে কোন পেস থাকবে না। নামটা যেন ইউনিক হয়। কারো সাথে যেন মিল না হয়। আমি সাজেস্ট করবো নামটা এরকম ধরনের লিখুন। এটা কিন্তু না, এরকম ধরনের নাম লিখুন Rahim1234 । অর্থাৎ আপনার নামের শেষে কিছু সংখ্যা এড করুন। যাতে সে সংখ্যা আপনার মনে থাকে। তাহলে কারো সাথে মিল পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তারপর নিচের ঘরে একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ডটি বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং #৳ এগুলোর সমন্বয়ে তৈরি করুন। পাসওয়ার্ড অবশ্যই ৮ ক্যারেক্টারের বেশি হতে হবে। এবার জয়েন বাটনে ক্লিক করুন। এখন আপনার ইমেইলে একটি ইমেইল গেছে তা একটিভ করুন। তারপর আপনি একটি ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। বাস আপনার ফাইভার একাউন্ট তৈরি হয়ে গেল। এবার প্রোফাইল সাজিয়ে গিগ তৈরি করে কাজ শুরু করতে পারেন। উল্লেখ্য একটা কথা মনে রাখবেন আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য কোন ডাইরীতে লিখে রাখুন। যাতে পড়ে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারেন। ভুলে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন।

পড়ুন : কিভাবে ব্লগ সাইট তৈরি করবেন

পরিশেষে কথা হচ্ছে Fiverr কি জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে ফাইভার মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে। ফাইবার একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। এখানে কাজের অভাব নেই। কিন্তু আপনাকে কাজ জানতে হবে। অনলাইনে কোন একটি বিষয়ে বা কাজে পারফেক্ট স্কীল থাকতে হবে। বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেস প্রতিযোগীতাপূর্ন। প্রতিযোগীতায় টিকে আপনাকে কাজ করতে হবে। ফাইভারে কাজের জন্য ভালো মানের গিগ তৈরি করতে হবে। গিগ এস ই ও করতে হবে। সোসাল মিডিয়ায় বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। সর্বোপরি বায়ারকে গিগ ইমেজের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতে পারলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই আসুন ফাইবারে একাউন্ট তৈরি করি এবং গিগ তৈরি করি। যার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করি।

Related posts

Leave a Comment