ইভিএমে ভোট (EVM Vote) দেওয়ার নিয়ম এবং ফলাফল তৈরির নিয়ম

EVM Vote

পৃথিবীতে ইভিএমে ভোটের ( EVM Vote ) প্রথম প্রচলন শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে 1960 সালে। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিধান নানা জলপনা কল্পনা শেষে সরকার 2018 সালে ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিধান তৈরি করে। পর্যাক্রমে জাতীয় সংসদে ভোট থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌর সভা, সিটি কর্পোরেশন এবং ইউনিয়ন কাউন্সিল পর্যন্ত ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রচলন শুরু করলেন। তার প্রমান 2022 সালে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রত্যন্ত দুর্গম চর অঞ্চলে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহন করা হয়। সরকার সফলতার সাথে এই প্রত্যন্ত চর অঞ্চলেও ইভিএমে ভোট গ্রহন করতে সক্ষম হন।

ইভিএমে ভোট (EVM Vote) দেওয়ার নিয়ম :

ইভিএমের (EVM) এভরিভিশন হচ্ছে Electronic Voting Machine . গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক মেশিনের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে ইভিএম। ইভিএমের অপর নাম ই-ভোটিং বলা হয়ে থাকে। এই ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে সহজে আপনার গনতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার কার্যক্রম সম্পূন্ন করতে পারবেন। কাগজের ব্যালটের চেয়ে ইভিএমে ভোট দেওয়া সহজ। কিভাবে এভিএমে ভোট দিবেন ? তার সহজ প্রক্রিয়া আপনাদের সামনে নিচে তুলে ধরা হলো।

ইভিএমে ভোট দিতে হলে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড বা ভোটার নম্বারের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশে প্রায় সবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড রয়েছে। আপনার ভোট দেওয়ার সময় এন আই ডি কার্ড বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড সংগে করে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। এই ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভোট কেন্দ্রের কক্ষে প্রবেশ করে সহকারী পিজাইডিং অফিসারকে দিবেন। সহকারী পিজাইডিং অফিসার আপনার আইডি নম্বার মেশিনে প্রবেশ করলে আপনার ছবি মনিটরের স্কীনে ভেসে উঠবে। মনিটরে আপনার ছবি আপনি দেখতে পাবেন। তারপর আপনার ফিঙ্গার বা হাতের আঙ্গুলের ছাপ মেশিনে দিতে হবে। আপনার হাতের আঙ্গুলের ছাপ ম্যাচিং হলে সহকারী পিজাইডিং অফিসার সাহেব নিশ্চিত বাটন চাপপেন। তাহলে আপনার ব্যালট ইউনিট সচল হবে। তখন আপনি গোপন কক্ষে প্রবেশ করে আপনার পছন্দনীয় মার্কা বা প্রতীকে ভোট প্রদান করতে পারবেন। আপনি গোপন কক্ষে প্রবেশ করে আপনার পছন্দ মত মার্কা বা প্রতীকের পাশে সাদা বাটনে চাপ দিবেন। তারপর সবুজ বাটন চেপে কনফার্ম করবেন। বাছ আপনার ভোট গ্রহন সম্পূন্ন হয়ে গেছে। যদি মনে করেন আপনার ভূল প্রতীকে ভোট পড়েছে তাহলে সবুজ বাটন চাপার আগে লাল বাটন চেপে কেনছেল করতে পারবেন। তখন আবার আপনার পছন্দনীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে সবুজ বাটন চেপে কনফার্ম করবেন। মনে রাখবেন সবুজ বাটন চাপার পর দ্বিতীয়বার ভোট দিতে চাইলে তা কাউন্ট হবে না। সবুজ বাটন চাপার আগে তিন বার পর্যন্ত প্রতীক পাল্টাতে পারবেন। এভাবে গোপন কক্ষে যত গুলো ব্যালট ইউনিট থাকবে ততো গুলোতে একই নিয়মে ভোট দিতে পারবেন।

ইভিএমে ফলাফল তৈরির নিয়ম :

ইভিএমের মাধ্যমে দ্রুততার সহিত ফলাফল তৈরি করা সম্ভব। তবে ফলাফল তৈরি করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। যদি একটু ভূল প্রক্রিয়া হয় তাহলে ভীষন বিপদে পড়তে পারেন। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সহিত সকল প্রক্রিয়া সম্পূন্ন করতে হবে। প্রক্রিয়াটি সহজে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী বিকাল 4 টায় ভোট গ্রহন শেষ হবে। তখন কন্ট্রোল ইউনিটের সাথে সংযোগকৃত ব্যালট ইউনিটের তার এবং মনিটরের ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রতিটি ”কন্ট্রোল ইউনিট” পিজাইডিং অফিসার কর্তৃক মনোনীত নির্ধারিত রুমে নিয়ে আসতে হবে। তারপর সকল প্রতীকের একজন করে এজেন্টের সামনে ফলাফল তৈরি বা প্রিন্ট করতে হবে। প্রথমে ধারাবহিক ভাবে প্রতিটি বুথের কন্ট্রোল ইউনিটে অডিড কার্ড প্রবেশ করিয়ে বুথ ভিত্তিক ফল সংগ্রহ করতে হবে। তারপর সর্বশেষে একটি কন্ট্রোল ইউনিটে অডিট কার্ড প্রবেশ করিয়ে কেন্দ্রের ফলাফল বের করতে হবে। এই কেন্দ্রীয় ফলাফলই হচ্ছে চুড়ান্ত ফলাফল। এই চুড়ান্ত ফলাফল নির্বাচন অফিস কর্তৃক প্রেরিত নির্ধারিত ফরমে লিখে পিজাইডিং অফিসার সিল মোহর দিয়ে কেন্দ্রে ওয়ালে সাটিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতি প্রার্থীকে একটি একটি করে কপি দিতে পারেন। তারপর প্রয়োজনীয় কপি নির্বাচন অফিসে জমা দিবেন। এভাবে ইভিএমের ফলাফল কার্যক্রম সম্পূন্ন করতে পারেন।

পড়ুন :

কিভাবে ওয়েবসাইটকে গুগুলের ফাস্ট পেজে নিয়ে আসবেন

কিভাবে সোসাল মিডিয়া মার্কেটি করা যায়

ইভিএমে ভোট (EVM Vote) গ্রহন প্রক্রিয়ায় সুবিধা-অসুবিধা দুটোই রয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহনে ব্যয় কম হয় এবং দ্রুততার সহিত ফলাফল কার্যক্রম সম্পূন্ন করা যায়। অপরদিকে কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহনে ব্যয় বেশি হয় এবং দ্রুততার সহিত ফলাফল বের করা সম্ভব না। ইভিএমের ক্ষেত্রে ফলাফলে সুক্ষ কারচুপি করার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে বলে অনেকের মত। আমার মতে দুটোতেই কারচুপি করার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। মানুষ সৎ হলে ভালো ফল আশা করা যায়। আর মানুষ অসৎ হলে সবই অসাতলে যেতে পারে। তাই আমরা সবাই সচেতন হবো এবং দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

Related posts

Leave a Comment