দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং (Daraz Affiliate) করে ইনকাম করুন

Daraz Affiliate

অনলাইন মার্কেটিং ইনকাম করার অন্যতম ক্যাটাগরি হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। আর বাংলাদেশে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার অন্যতম প্লাটফর্ম হচ্ছে দারাজ এফিলিয়েট (Daraz Affiliate) মার্কেটিং। অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সহজে ইনকাম করা যায়। অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করার অনেক সাইট রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং, আলীবাবা এফিলিয়েট মার্কেটিং, ইবে এফিলিয়েট মার্কেটিং, বি ডি শপ, দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি। আজকে আমরা আলোচনা করবো দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে ইনকাম করা যায়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি :

এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আমার আগের একটি আর্টিকেলে লিখেছি। এখানে কিছু ধারনা দেওয়ার জন্য লিখছি। এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্ট বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা বলা হয়ে থাকে। ধরুন, আমাজান একটি এফিলিয়েট মার্কেটিং কোম্পানী। সেখানে রেজিষ্ট্রেশন করে তার প্রোডাক্টের ছবি এবং লিংক নিয়ে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি প্লাটফর্মে প্রচার করলেন। প্রচার করার ফলে যখন কোনো ব্যাক্তির নিকট ঐ প্রোডাক্ট ভালো লাগবে তখন সে নিশ্চয় ক্রয় করতে চাইবে। যখন আপনার প্রচারকৃত লিংকের মাধ্যমে কোন কাস্টমার ঐ প্রোডাক্ট ক্রয় করবে তখন আপনি সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাবেন। এই ভাবে প্রোডাক্ট বিক্রয় করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা বলা হয়ে থাকে।

পড়ুুন :

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন

দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং (Daraz Affiliate) কি :

দারাজ একটি এফিলিয়েট মার্কেটিং প্লাটফর্ম। তার নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট নেই। তারা অন্যের প্রোডাক্ট বিক্রয় করে থাকে। অন্যের প্রোডাক্ট বিক্রয় করে দেয়ার ফলে যে অর্থ আসে তা থেকে তাদের নির্ধারিত অংশ কেটে নিয়ে বাদ বাকি প্রোডাক্ট উৎপাদনকারী বা মার্চেন্টকে দিয়ে দেয়। দারাজ কোম্পানি তাদের নির্ধারিত অংশ থেকে সেলারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন দিয়ে থাকে। এই ভাবে দারাজ কোম্পানী তাদের এফিলিয়েট মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। দারাজের প্রায় দেড় লক্ষ প্রোডাক্ট বা পন্য রয়েছে। আপনি তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারেন। প্রোডাক্টের ধরনের উপর ভিত্তি করে কমিশন দেওয়া হয়ে থাকে। আপনি যদি ফ্যাশান রিলেটেড প্রোডাক্ট বিক্রি করে থাকেন তাহলে সর্বোচ্চ 12% কমিশন পেতে পারেন। আবার কোনো কোনো প্রোডাক্টের উপর 5%, 7%, বা 8% হিসাবে কমিশন দেওয়া হয়ে থাকে। ধরুন, আপনি দিনে 10000 টাকার প্রোডাক্ট বা পন্য বিক্রয় করলেন। আপনাকে 8% হিসাবে কমিশন দেওয়া হলো তাহলে আপনার কমিশন হবে 10000 ‍X 8% = 800 টাকা। এভাবে আপনি দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে 10 থেকে 20 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন।

দারাজ এফিলিয়েট একাউন্ট খোলার নিয়ম :

দারাজ হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম অনলাইন এফিলিয়েট মার্কেট প্লেস। দারাজ এফিলিয়েট পার্টনার বা দারাজ এফিলিয়েট সেলার হতে হলে আপনাকে দারাজে এফিলিয়েট একাউন্ট খোলতে হবে। দারাজ এফিলিয়েট একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। প্রথমে কোনো ব্রাউজার ওপেন করে তাতে এই লিংক বসে https://www.daraz.com.bd এন্টার করুন। তাহলে নিচের মতো ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Daraz,bd :

Daraz.bd

উপরের ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো আয়াতাকার বৃত্তে Daraz Affiliate Program এ ক্লিক করুন। তাহলে নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Daraz Affiliate :

Daraz Affiliate

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো SIGN UP NOW বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Daraz Affiliate Signup :

Daraz Affiliate Signup

এই ইন্টারফেসে Account Type খেকে শুরু করে সকল ফরমেটে তথ্য দিয়ে সাবমিট করতে হবে।

  • Account Type : একাউন্ট টাইপে আপনি যদি ইনডিভিজুয়েল বা সতন্ত্র হয়ে থাকেন তাহলে প্রথম ঘরে ক্লিক করুন। আর যদি কোন কোম্পানির ক্ষেত্রে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে দ্বিতীয় ঘরে ক্লিক করুন। নতুনদের ক্ষেত্রে ইন্ডিভিজুয়েল তথা প্রথম ঘরে ক্লিক করুন।
  • Full Name : এই ঘরে আপনার নাম বা বিজনেস নেম দিন।
  • Business Registration Number : বিজনেস রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের ঘরে যদি রেজিষ্ট্রেশন থাকে তাহলে রেজিষ্ট্রেশন নম্বার দিন। আর যদি রেজিষ্ট্রেশন নম্বার না থাকে তাহলে জিরো জিরো (00) করে দিন।
  • Email Address : ইমেল এড্রেস এর ঘরে আপনার একটিভ ইমেল দিন। আগে শপিং একাউন্টে ইমেল দেওয়া থাকলে সেম ইমেইল দিন।
  • National Registration Number : ন্যাশনাল রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার বা জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিন।
  • Country : Country বা দেশের নামের ক্ষেত্রে আপনার দেশের নাম দিন।
  • City : City এর ক্ষেত্রে আপনার জেলা শহর বা বিভাগীয় শহন দিন।
  • Postal Address : পোস্টাল এড্রেসের ঘরে আপনার পোস্ট অফিসের ঠিকানা লিখুন।
  • Phone Number : ফোন নাম্বারের ঘরে আপনার রিয়াল ফোন নম্বার দিন। কোন ফেক ফোন নম্বার দিবেন না।
  • Tell us about your traffic : Tell us about your traffic এর ঘরে আপনার সাইটে কোন ক্যাটাগরি থেকে ট্রাফিক বা ভিজিটর আসে। সে সম্পর্কে দু’ চার লাইন কিছু লিখুন।
  • Monthly Traffic Size : এই ঘরে ডান পার্শের কম্বো বক্স থেকে আপনার সাইটে মাসে কত ট্রাফিক বা ভিজিটর আসে তা সিলেক্ট করে দিন।
  • Traffic type : কোন মাধ্যম থেকে আপনার Traffic আসতে পারে তা সিলেক্ট করে দিন।
  • Tax ID : টেক্স ইনফরমেশন বা টেক্স আইডি ঘরে আপনার টিন নম্বার বসিয়ে দিন।
  • Tax / Legal Information – Vat rate : এই ঘরে (00) জিরো জিরো করে দিন।
  • Tax / Legal Information – Vat applicable : Yes ঘরে ক্লিক করুন।
  • Bank Information : ব্যাংক ইনফরমেশন হচ্ছে আপনার যে নামে একাউন্ট খোলা আছে সে নাম দিন। সঠিক একাউন্ট নেম দিন কোনো ভূল ইনফরমেশন দেবেন না।
  • Bank Name : Bank Name হচ্ছে যে ব্যাংকে আপনার ব্যাংক একাউন্ট খোলা আছে। সেই ব্যাংকের নাম দিন। যেমন : সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ইত্যাদি।
  • Bank Information : আপনার একাউন্টকৃত ব্যাংকের ফোন নম্বার সহ তথ্যাদি দিন।
  • Bank Information – country : আপনার ব্যাংক কোন দেশের। সে দেশের নাম দিন। বাংলাদেশ হলে বাংলাদেশ, ভারত হলে ভারতের নাম দিন বা ব্যাংকটি যে দেশের সে দেশের নাম দিন ।
  • Bank Information – Beneficiary Address : এই ঘরে যে নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা তার ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
  • Bank Information – Bank Address : এই ঘরে ব্যাংক যে ঠিকানায় অবস্থিত তার ঠিকানা লিখতে হবে।
  • Bank Information – Bank Account Number : এই ঘরে আপনার ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার বসাতে হবে।
  • Bank Information – Bank IBAN : প্রতিটি ব্যাংকের IBAN থাকে। তা ব্যাংক থেকে শুনে নিয়ে আই বি এ এন নাম্বার বসাবেন।
  • Bank Information – Bank Code : ব্যাংকের কোড নম্বার বসাবেন।
  • Bank Information – Bank Swift code : প্রতিটি ব্যাংকের সুইফট কোড থাকে। তাদের সুইফট কোড বসাবেন।
  • Bank Information – Bank Account Country : ব্যাংকটি কোন দেশের। সে দেশের নাম লিখুন।
  • উপরের সব গুলো তথ্য আবার ভালো করে চেক করে দেখুন। তারপর Submit Form বাটনে ক্লিক করুন। বাছ আপনার একাউন্ট খোলা হয়ে গেল। দু -তিন দিনের মধ্যে দারাজ কোম্পানী আপনার সকল তথ্য জাচাই বাছাই করে ফোনে বা ইমেলে আপনাকে জানাবে।

দারাজে আপনার একাউন্ট এপ্রোভ হয়ে গেলে আপনি দারাজের একজন এফিলিয়েট পার্টনার হয়ে গেলেন। তারপর ইমেল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করুন। তারপর AD MEDIA তে ক্লিক করে TYPE সিলেক্ট করে ADJUST এ ক্লিক করুন। তারপর সার্চ ট্যাবে ক্লিক করার পর একটি লিংক দেখতে পাবেন CLICK URL এ ক্লিক করে লিংকটি কপি করুন। এখন এই কপিকৃত URL বিভিন্ন জায়গায় প্রোমট করে ক্যাম্পেইন চালাতে পারেন। যখন ঐ লিংকের মাধ্যমে কেউ কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করবে তখন আপনার একাউন্টে কমিশন যোগ হতে থাকবে। মোট কথা দারাজ থেকে আপনার পছন্দকৃত প্রোডাক্টের লিংক নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রোমোট করুন। যখন আপনার প্রোমটকৃত লিংকের মাধ্যমে কেউ কোনো জিনিস ক্রয় করবে তখন আপনার ইনকাম হতে থাকবে।

পড়ুন :

কিভাবে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন

পরিশেষে কথা হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে এফিলিযেট মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ভাবে বুঝতে হবে। তাহলে সহজে ইনকাম করতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে একটি ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এছাড়া ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রোডাক্ট সম্পর্কে পোস্ট তৈরি ও ভিডিও তৈরি করে প্রোমোট করতে হবে। অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে বাংলাদেশি সাইট গুলোর মধ্যে দারাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং (Daraz Affiliate) সাইট হলো সবচেয়ে বেস্ট সাইট। আপনি ইচ্ছ করলে দারাজে এফিলিযেট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারেন।

Related posts

Leave a Comment