সিপিএ মার্কেটিং কি ? সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing) কিভাবে করব

CPA Marketing

অনলাইন আয়ের সহজ মাধ্যম গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সিপিএ মার্কেটিং। সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing) বিগিনারদের জন্য অনলাইন ইনকামের একটি দারুন সোর্স। এখান থেকে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা যায়। সিপিএ মার্কেটিং হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের একটি পার্ট। এফিলিয়েট মার্কেটিং বড় পরিসরে কাজ করতে হয়। আর সিপিএ মার্কেটিং ছোট পরিসরে কাজ করতে হয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করে কমিশন ভিত্তিক আয় করা যায়। আর সিপিএ মার্কেটিং কোন একশন ফুলফিল করার মাধ্যমে আয় করা যায়। সিপিএ মার্কেটিংয়ে সাইন আপ করা, ইমেইল সাবমিট করা, জিপ কোড সাবমিট করা, ডাউনলোড করা ইত্যাদি কাজ ফুলফিল করতে পারলেই ইনকাম করা সম্ভব। সিপিএ মার্কেটিংয়ে এই কাজ গুলো কিভাবে করা যায় সে বিষয় গুলো নিয়ে আজকে আলোচনা করবো। প্রশ্ন হচ্ছে সিপিএ মার্কেটিং কি ? সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing) কিভাবে করব।

সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing) কি :

CPA শব্দের এভরিভেশন বা পূর্ন রুপ হচ্ছে Cost Per Action. অর্থাৎ প্রতি একশান কম্পিলিট করার বিনিময়ে কমিশন। সিপিএ মার্কেটিংয়ে কোন একশন কম্পিলিট করতে পারলে বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পাওয়া যায়। সে অর্থ গড়ে ১ ডলার থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। সিপিএ মার্কেটে ছোট ছোট কাজ করতে হয়। কাজ গুলো হচ্ছে – রেজিষ্ট্রেশন করা, ইমেইল কালেক্ট করা, জিপ কোড সাবমিট করা, ফরম পূরুন করা, সফটওয়ার ইনিস্টল বা ডাউনলোড করা ইত্যাদি। এই কাজ গুলো ফুলফিল করতে পারলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ ইনকাম করতে পারবেন। কোন একশন কম্পিলিট করাকে লিড কালেক্ট করা বলে। সহজ ভাষায় বলা যায় কোন লিড বা একশন কম্পিলিট করার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে সিপিএ মার্কেটিং বলে।

সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মধ্যে পার্থক্য :

অনেকে সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিংকে একই মনে করে থাকেন। কিন্তু না সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্ট বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। আর সিপিএ মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানীর লিড কালেক্ট করে দেওয়ার বিনিময়ে যে অর্থ পাওয়া যায় তাকে সিপিএ মার্কেটিং বলে। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি হলে অর্থ পাবেন। আর সিপিএ মার্কেটিংয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি হোক বা না হোক লিড কালেক্ট হলেই অর্থ পাবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে লিংকের মাধ্যমে কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করলে কমিশন পাবেন। আর সিপিএ মার্কেটিংয়ে লিংকের মাধ্যমে একশন ফুলফিল করলে কমিশন পাবেন। উদাহরনের মাধ্যমে বুঝানো চেষ্ট করছি। ধরুন এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি কোনো কম্পানির একটি কম্পিউটার বা লেপটপ বিক্রি করবেন। তখন আপনি ঐ কোম্পানীর লিংক প্রোমট করলেন। আপনার লিংকের মাধ্যমে যখন কেউ এই পন্য ক্রয় করবে তখন আপনি কমিশন পাবেন। আর সিপিএ ক্ষেত্রে আপনি কোন কোম্পানির লিংক প্রামোট করলেন। কেউ শুধু রেজিস্ট্রেশন করলো। প্রোডাক্ট ক্রয় করলো না। আপনি এই রেজিষ্ট্রেশনের বিনিময়ে কমিশন পাবেন। এবার বুঝতে পেরেছেন। তাই তুলনামুলক ভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চেয়ে সিপিএ মার্কেটিং করা অনেক সহজ।

সিপিএ মার্কেটিং করার যোগ্যতা :

সিপিএ মার্কেটিং করতে তেমন কোন যোগ্যতার প্রয়োজন নাই। এর জন্য ৩ মাস বা ৬ মাসের ট্রেনিং করতে হবে না। আপনি ইচ্ছা করলে অনলাইন থেকে শিখে নিতে পারবেন। গুগুলে অনেক আর্টিকেল পাবেন এবং ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন। সে গুলো দেখে শিখে নিতে পারবেন। শুধু প্রয়োজন :

১. ইন্টারনেট সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান এবং মোটামুটি ইংরেজী জানা থাকতে হবে।

২. অনলাইন থেকে আয় করার ইচ্ছা শক্তি এবং ধর্য্য থাকতে হবে।

৩. দিনে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় দিতে হবে।

যদি নিতান্তই বুঝতে না পারেন তাহলে ১ থেকে ২ মাসের একটি সিপিএ মার্কেটিং কোর্স করে নিবেন।

সিপিএ মার্কেটিং কোথায় করবেন :

সিপিএ মার্কেটিং করার বিভিন্ন নেটওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। যে গুলোতে মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে হাজারো সিপিএ নেটওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে অফার প্রোমট করার আগে আপনাকে জানতে হবে কি কি অফার পাওয়া যায়। এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে সাধারনত: তিন ধরনের অফার পাওয়া যায়। সে গুলো হলো :

১. পে পার লিড : এই অফার গুলোতে সাধারনত সাইন আপ করা, ইমেইল সাবমিট করা, জিপকোড সাবমিট করা ইত্যাদি কাজ পাওয়া যায়।

২. পে পার ডাউনলোড : এই অফার গুলোতে সফটওয়ার ডাউনলোড করা, বিভিন্ন গেম ডাউনলোড করা ইত্যাদি কাজ পাওয়া যায়।

৩. পে পার সেল : এই অফার গুলোতে যে ধরনের প্রোডাক্ট থাকে তা সেলের বিনিময়ে কমিশন পাওয়া যায়। যেমন : হেলথ রিলেটেড প্রোডাক্ট, ইনসিওরেন্স রিলেটেড ইত্যাদি ধরনের প্রোডাক্ট থাকে যা সেল করে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন পাওয়া যায়।

এবার আসুন কোথায় সিপিএ মার্কেটিং করবেন। যে নেটওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস গুলোতে সিপিএ অফার প্রোমোট করবেন তার নাম নিচে উল্লেখ করা হলো :

1. Ad work Media.com

2. CPA Grip.com

3. CPA Lead.com

4. Max bounty.com

5. Click booth.com

6. Jv Zoo.com

7. Peer Fly.com

উপরে সিপিএ সাইট গুলোতে অফার প্রোমট করে সিপিএ মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন। তবে নতুনদের জন্য উপরের প্রথম তিনটি সাইটের মধ্যে যে কোন একটি মার্কেটপ্লেস নিয়ে কাজ শুরু করুন। পরে কাজের অগ্রগতি হলে অন্য মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করতে পারবেন। আমার সাজেস্ট হলো প্রথমে CPA Grip নিয়ে কাজ শুরু করুন। পরে আস্তে আস্তে অন্যান্য মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করবেন।

সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing) কিভাবে করব :

সিপিএ মার্কেটিং অফার প্রোমট করার দুই ধরনের মেথড রয়েছে। এক, পেইড মেথড, ‍দুই, ফ্রি মেথড। পেইড মেথড হচ্ছে টাকা বা ডলারের বিনিময়ে যে অফার প্রোমট করবেন তাকে পেইড মেথড বলে। আর মেনুয়ালী ভাবে ফ্রি যে অফার গুলো প্রোমট করবেন তাকে ফ্রি মেথড বলে। সিপিএ অফার বিভিন্ন ভাবে প্রোমট করা যায। আমরা ফ্রি মেথডে কিভাবে অফার প্রোমট করা যায় সে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

১. নেটওয়ার্ক বা মার্কেটপ্লেস সিলেক্ট করা :

সিপিএ অফার প্রোমট করতে হলে প্রথমে নেটওয়ার্ক বা মার্কেটপ্লেস সিলেক্ট করতে হবে। যেমন ; সিপিএ লিড, সিপিএ গ্রিপ, এডওয়ার্ক মিডিয়া ইত্যাদি। এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে রেজিষ্ট্রেশন করে সেখান থেকে অফার বা লিংক নিয়ে বিভিন্ন জায়গার শেয়ার করতে হবে। এই লিংক গুলোর মাধ্যমে যদি কেউ কোন অফার ফুলফিল করে তার বিনিমেয়ে নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাওয়া যাবে।

২. ব্লগসাইট বা ল্যান্ডিংপেজ :

সিপিএ অফার প্রোমট করতে হলে একটি ব্লগ সাইট বা ল্যান্ডিংপেজের প্রয়োজন হয়। একটি ব্লগসাইট তৈরি করতে হলে ডোমেন হোস্টিয়ের প্রয়োজন হয়। আপনি ডোমেন ও হোস্টিং ক্রয় করে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে নিতে পারেন। যার মাধ্যমে সিপিএ অফার প্রোমট করে আয় করতে পারবেন। আপনি ইচ্ছা করলে ফ্রি ব্লগসাইট তৈরি করেও অফার প্রোমট করে আয় করতে পারেন। কিভাবে একটি ফ্রি ব্লগসাইট তৈরি করবেন জানতে হলে লিংকে ক্লিক করুন। লিংক – https://www.ictcorner.com/free-blog/

৩. ইমেইল মার্কেটিং :

ইমেইলের মাধ্যমে অফার প্রোমট করে সিপিএ মার্কেটিং করতে পারবেন। আপনি যে কান্ট্রির অফার প্রোমট করবেন সে কান্ট্রির বিভিন্ন ব্যক্তির ইমেইল কালেক্ট করতে হবে। ইমেইল কালেক্ট করার বিভিন্ন সফটওয়ার রয়েছে। সেই সমস্ত সফটওয়ারে মাধ্যমে ইমেইল কালেক্ট করে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ইমেইলের মাধ্যমে লিংক প্রোমট করে আয় করতে পারেন।

৪. সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং :

সোসাল মিডিয়া সাইট গুলো অত্যন্ত শক্তিশালী সাইট। সোসাল মিডিয়া সাইট গুলোর মাধ্যমে সিপিএ লিংক প্রোমট করে আয় করতে পারেন। সোসাল মিডিয়া সাইট গুলো হচ্ছে ফেসবুক, টুইটার, লিংকদিন, রেডিট, পেন্টারিস্ট ইত্যাদি। এই সাইট গুলোতে সিপিএ মার্কেটপ্লেস থেকে লিংক নিয়ে প্রোমট করতে হবে। সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে বেশি সেল জেনারেট করা সম্ভব।

৫. ইউটিউব মার্কেটিং :

ইউটিউবের মাধ্যমে সিপিএ মার্কেটিং করতে পারেন। সিপিএ প্রোডাক্টের ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করে সেখানে লিংক প্রোমট করে আয় করতে পারেন। ইউটিউবে অসংখ্য লোকের আগমন ঘটে। তাদের আপনার ভিডিও ভালো লেগে থাকলে আপনার প্রোডাক্টের লিংকে ক্লিক করবে। এভাবে আপনার অফার ফুলফিল করা সম্ভব। তাতে আপনার আয়ের সম্ভবনা বেড়ে যাবে।

পড়ুন :

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন

শেষ কথা :

অনলাইন ইনকামের সহজতম কাজ হচ্ছে সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing)। সিপিএ মার্কেটিংয়ে সফলতা পেতে হলে আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর থাকতে হবে। আপনার সাইটকে সুন্দর ভাবে সাজাতে হবে এবং এস ই ও করতে হবে। এস ই ও এর মাধ্যমে আপনার সাইটকে গুগুল টপে আনতে হবে। তাহলে আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর আসবে এবং লিড ফুলফিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। মনে রাখবেন সিপিএ মার্কেটিংয়ে যত লিড কালেক্ট হবে ততো বেশি আয় হবে। লিড মানে হচ্ছে একশন কম্পিলিট করা। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সিপিএ মার্কেটিংয়ের কাজ অন্যান্য কাজের তুলনায় সহজ হওয়ায় সবার এ কাজের ‍প্রতি আগ্রহ বেশি। তাই আপনিও চেষ্টা করলে এ কাজ করে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন।

Related posts

Leave a Comment