আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং (Amazon Affiliate Marketing) কিভাবে শুরু করবো

Amazon Affiliate Marketing

আমাজন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট। বিগ ফোরের মধ্যে একটি। গুগুল, ইউটিউব, ফেসবুক ও আমাজন – এই চারটি বড় সাইটের মধ্যে আমাজন একটি। রিভিনিউ এর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থান। আমাজন হাজার হাজার প্রোডাক্ট সেল করে থাকে। রিভিনিউ আসে মিলিয়ন, মিলিয়ন। আমাজন বিজনেসকে দুই পদ্ধতিতে পরিচালনা করে থাকে। এক, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং (Amazon Affiliate Marketing)। আর দুই, আমাজন সেলার মার্কেটিং (Amazon seller Marketing) এর মাধ্যমে। এই দুটি পদ্ধতিতে আমাজন ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। একটি ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট থেকে বিজনেস করতে চাইলে আমাজন প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে বিজনেস পরিচালনা করতে পারেন। সঠিক ভাবে ইউটিলাইজ করতে পারলে আমাজন মার্কেটপ্লেস থেকে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব। আজকে আমরা আলোচনা করবো – আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং (Amazon Affiliate Marketing) কিভাবে শুরু করবো।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং (Amazon Affiliate Marketing) কি :

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং জানার আগে জানতে হবে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কারো পন্য বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। আর আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে আমাজনের পন্য বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। তবে আমাজনের এফিলিয়েট মার্কেটিং অন্যদের চেয়ে উন্নত। আমাজনে হাজার হাজার পন্য রয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কমিশন দেওয়া হয়ে থাকে। আমাজন তার পন্যের স্তরভেদে সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত কমিশন দিয়ে থাকে। আমাজন মার্কেটিংযের ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট সেলেকশন ভেবে চিন্তে করতে হবে। আমাজন কোনো কোনো প্রোডাক্টের কমিশন দেয় না, আবার কোন পন্যের ১ বা ২ % কমিশন দিয়ে থাকে। আমাদের দেখতে হবে কোন কোন পন্যের কমিশন ৫ থেকে ১০ % দিয়ে থাকে এমন পন্য সিলেক্ট করতে হবে। এছাড়া প্রোডাক্টের মূল্য দেখতে হবে। প্রোডাক্টের মূল্য যেন ৫০ ডলারের নিচে না থাকে। প্রোডাক্টের মূল্য কম থাকলে কমিশন কম আসবে। তাই আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে প্রোডাক্ট সিলেকশন সঠিক ভাবে করতে হবে।

পড়ুন :

কিভাবে ডাটা এন্ট্রি কাজ করবেন

আমাজন বিজনেস পদ্ধতি :

আমাজন কোম্পানীতে মার্কেটিং বা বিজনেস করতে হলে আপনাকে জেনে বুঝে কাজে নামতে হবে। আমাজন তাদের বিজনেস পলিসিকে দুই ধরনের পদ্ধতিতে পরিচালনা করে থাকে। এক, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং, দুই, আমাজন সেলার মার্কেটিং। বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।

১. আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং :

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আগেই বলেছি আমাজনের প্রোডাক্ট সেল বিনিময়ের মাধ্যমে যে ইনকাম করা যায় তা হচ্ছে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং। আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে www.amazon.com থেকে Become an affiliate গিয়ে একাউন্ট খুলে মার্কেটিং করতে হবে। আমাজন লক্ষ লক্ষ এফিলিয়েট কর্মীর মাধ্যমে তাদের প্রোডাক্ট সেল করে থাকে। আমাজনের নিজস্ব প্রোডাক্ট দু’একটা ছাড়া বেশির ভাগ প্রোডাক্ট বিভিন্ন কোম্পানীর। আমজান এই সব কোম্পানীর প্রোডাক্ট এফিলিয়েট কর্মীর মাধ্যমে সেল জেনারেট করে বিজনেস পরিচালনা করে থাকে। আমাজন এই সব কোম্পানীর প্রোডাক্ট বিক্রি করে দেয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ থেকে নিজে কিছু রেখে দেয় বাকী কিছু অংশ এফিলিয়েটারদের কমিশন দিয়ে থাকে। আমাজন তাদের ইনকামের বড় একটি অংশ এফিলিয়েটারদের মাধ্যমে করে থাকে।

২. আমাজন সেলার মার্কেটিং :

আমাজন সেলার মার্কেটিং হচ্ছে – নিজের প্রোডাক্ট আমাজনের মাধ্যমে সেল জেনারেট করে আয় করাই হচ্ছে আমাজন সেলার মার্কেটিং। আমাজন সেলার মার্কেটিং করতে হলে www.amazon.in থেকে Sell on Amazon গিয়ে একাউন্ট খুলে মার্কেটিং করতে হবে। এখানে একাউন্ট খুলে আপনার প্রোডাক্টের রিভিউ তৈরি করে ছবি সম্বলিত সকল তথ্য দিয়ে আমাজন ওয়েব সাইটে আপলোড করতে হবে। আমাজন থেকে আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি হলে আপনার নির্ধরিত অংশ আপনি পেয়ে যাবেন। উদ্বৃত্ত অংশ আমাজন কেটে নিবে। এ পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে হলে আপনার প্রোডাক্ট আপনার কাছে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। অথবা আপনার প্রোডাক্ট আমাজনের কাছে জমা দিয়েও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। উত্তম পন্থা হচ্ছে আমাজনের নিকট জমা দিয়ে মার্কেটিং করা। তাতে কোন ঝুট ঝামেলা থাকে না।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো :

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে হলে প্রোডাক্ট রিসার্চ করতে হবে। আপনি কি ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করতে চান। অর্থাৎ আপনাকে নিশ সেলেক্ট করতে হবে। অনলাইনের ভাষায় নিশ হচ্ছে কোন একটি বিষয়। আপনি কোন নিশের উপর বা কোন বিষয়ের উপর এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান সে বিষয় নির্ধারন করা। এছাড়া ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট তৈরি করা, ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা, ফেসবুক পেজ তৈরি করা এবং ইমেল মার্কেটিং করা ইত্যাদি পদ্ধতি অবল্বন করে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব।

১. নিশ সেলেক্ট করা :

আমাজন মার্কেটিং করতে হলে নিশ অতিব গুরুত্বপূর্ন। প্রথমে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন বিষেয়ের উপর মার্কেটিং করবেন। নিশ বিভিন্ন ধরনে হয়ে থাকে। যেমন : টিকনোলজি , হেলথ এন্ড ফিটনেস, ট্রাভেল, ইলেক্ট্রিক, ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি নিশ সেলেক্ট করে সে বিষয়ে প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করতে পারেন। যে ধরনের প্রোডাক্ট বাজারে বেশি চলে বা মানুষ কেনা কাটা করে বা চাহিদা বেশি। এমন ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করলে ভালো ফলাফল আশা করা যায়। মনে রাখবেন সঠিক প্রোডাক্ট সিলেক্ট করা মার্কেটিংয়ের পূর্বশর্ত।

২. ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট তৈরি করা :

আমাজন মার্কেটিং করতে হলে আপনার একটি ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন। ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট হচ্ছে আপনার একটি ল্যান্ডিং পেজ। যেখানে আপনার কাস্টমাররা আপনার পন্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। আপনি আমাজন থেকে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে সেখান থেকে প্রোডাক্টের ছবি ও রিভিউ নিয়ে সেখানে কিছু মডারেট করে আপনার সাইটে রিভিউ লিখেন। আর আপনার রিভিউর মধ্যে আমাজন থেকে প্রোডাক্ট লিংক সংগ্রহ করে বসিয়ে দিন। যাতে সেই লিংকের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টটি অর্ডার করে কাস্টমাররা ক্রয় করতে পারে। এভাবে মার্কেটিং করে আপনি আমজন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

৩. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা :

ইউটিউট চ্যানেল বর্তমান প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সবাই আমরা কম বেশি ইউটিউব চ্যানেল গুলো দেখে থাকি। ইউটিউব হচ্ছে গুগুলের পরই স্থান। প্রথমে আমরা গুগুলে কোন তথ্য খোজ করে থাকি। সেখানে কান্খিত তথ্য না পেলে ইউটিউবে সার্চ করে থাকি। তাই উইটিউব একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এই ইউটিউবের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টের প্রচার করে আমাজন থেকে আয় করতে পারেন। আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড দিন। এই ইউটিউবের মাধ্যমে আপনার কান্খিত কাস্টমারের নিকট আপনার প্রোডাক্টের গুনাগুন তুলে ধরতে পারবেন এবং সেখানে প্রোডাক্টের লিংক সেট করে দিন। যাতে কাস্টমাররা আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারে। তাদের নিকট ভালো লাগলে তারা ক্রয় করতে পারে। এভাবে মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন।

৪. ফেসবুক পেজ তৈরি করে মার্কেটিং করা :

ফেসবুক চিনে না বা দেখেনি এমন মানুষ পাওয়া খুবই দুস্কর। ফেসবুকে কোটি কোটি মানুষের বিচরন। এই ফেবসুকের মাধ্যমে আমরা অনেক তথ্য জানতে পারি। এই ফেসবুকের মাধ্যমেও আমরা মার্কেটিং করে আয় করতে পারি। তার জন্য কি করতে হবে ? আপনাকে প্রথমে একটি ফেসবুক আই ডি খুলতে হবে। সেই আইডি থেকে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করতে হবে। এই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট প্রোমট করে আমাজন থেকে আয় করতে পারেন। ফেসবুক পেজ তৈরি এবং মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের লিংক ভিজিট করে জেনে নিতে পারেন।

আপনাকে জানতে হবে :

কিভাবে ফেসবুক পেজ তৈরি এবং মার্কেটিং করবেন

৫. ইমেল মার্কেটিং করা :

ইমেল মার্কেটিং করে আমাজন থেকে প্রোডাক্ট সেল জেনারেট করে ইনকাম করতে পারবেন। ইমেল সম্পর্কে সবাই আমরা কম বেশি জানি। ইমেলের মাধ্যমে একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে খবরা খবর বা তথ্য আদান প্রদান করা যায়। এই ইমেলের মাধ্যমে আমাজনের প্রোডাক্টের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সেখানে প্রোডাক্টের লিংক বসিয়ে দিয়ে ইনকাম করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে এ্যাকটিভ ইমেল কালেক্ট করতে হবে। ইমেল মার্কেটিং একটি ইফেক্টিভ মার্কেটিং পদ্ধতি। এই ইমেলের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টের তথ্য পাঠিয়ে সেল জেনারেট করা সম্ভব।

শেষ কথা :

আমাজন এফিলেয়েট মার্কেটিং (Amazon Affiliate Marketing) করতে হলে আপনাকে আমাজন ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে আপনাকে মার্কেটিং শুরু করতে হবে। আমাজন একাউন্ট খুলতে হবে, আমাজনের নিয়ম কানুন বিস্তারিত জানতে হবে। আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে উপরের পদ্ধতি গুলো সঠিক ভবে অনুসরন করতে হবে তবেই ভালো ফলাফল লাভ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ফেসবুক মার্কেটিং সঠিক ভাবে করতে পারলে এই ফেসবুক থেকে ভালো পরিমান আয় করা সম্ভব। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে দ্রুত সফলতা পাওয়া যায় না। এর জন্য আপনাকে ধর্য্যের পরিক্ষা দিতে হবে। ধর্য ধরে কাজ করতে পারলে সফলতা আসবেই ইনশাল্লাহ।

Related posts

Leave a Comment