আমাজন কি ! আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট (Amazon Affiliate Account) কিভাবে খুলবো

Amazon Affiliate Account

আমাজন একটি বনের নাম। যাকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়ে থাকে। এই বনের নাম অনুসারে বর্তমানে একটি ওয়েব সাইটের নামকরন করা হয়। তার নাম আমাজন ডট কাম। আমাজন একটি শপিং ওয়েবসাইট। এখানে অনলাইনের মাধ্যমে পন্য কেনা বেচা করা হয়। এখানে হাজার হাজার প্রোডাক্ট রয়েছে এবং হাজার হাজার কর্মী রয়েছে। কোন কর্মী সরাসরি জড়িত আবার কোন কর্মী এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করছে। এই কোম্পানী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই কোম্পানী প্রথমে বই কেনা বেচার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে বিভিন্ন প্রোডাক্ট সেল জেনারেট করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজকে আমরা আলোচনা করবো আমাজন কি ! আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট (Amazon Affiliate Account) কিভাবে খুলবো ।

আমাজন কি :

আমাজন একটি এফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েব সাইট। যা একটি অরন্যের নামে নামকরন করা হয়। পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে তাকালে সবুজে আচ্ছন্ন ঘেরা একটি অরন্য দেখা যায়, যার নাম আমাজন। আমাজন শব্দের অর্থ নারী যোদ্ধা বা তেজোদ্বীপ্ত দ্বির্ঘাঙ্গী রমনী। এই নামটি স্প্যানিস পর্যটক ফ্রান্সেসকো দ্য ওরেলানার দেওয়া নাম। এই আমাজন কোম্পানী বা এফিলিয়েট ওয়েব সাইট ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে বই কেনা বেচার মধ্যে দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে লক্ষ লক্ষ প্রোডাক্ট বিক্রি করছে। আমাজন ওয়েবসাইট বা কোম্পানীর মালিকের নাম জেফ বিজোস। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে একজন। বর্তমানে আমাজন কোম্পানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াসিংটনে অবস্থিত। আমাজন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট।

আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট (Amazon Affiliate Account) কিভাবে খুলবো :

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট (Amazon Affiliate Account) প্রয়োজন। আমাজন এফিলিয়েট ওয়েবসাইটে একাউন্ট তৈরি করতে হলে আপনার কিছু জিনিস প্রয়োজন হয়। তাহলো একটি জিমেইল আইডি, স্ট্রং পাসওয়ার্ড, এন আই ডি এবং সঠিক ফোন নম্বার। কারন এন আই ডি অনুসারে আপনার নাম, ঠিকানা, জিপ কোড লিখতে হবে। আপনার নাম, ঠিকানা সঠিক না থাকলে সমস্যায় পড়তে পারেন। আপনার আর্নিং যোগ হবে না। তাই আপনার এন আইডি অনুসারে সকল তথ্য পুরুন করবেন। এবার আসুন কিভাবে আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট তৈরি করবেন।

প্রথমে একটি ব্রাউজার ওপেন করবেন। তাতে www.amazon.com লিখে সার্চ করবেন। তখন একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। সেখানে একটু নিচের দিকে গেলে দেখতে পাবেন Make Money with Us লিখা আছে। তার আন্ডারে Become an Affiliate লিখা আছে। এই বিকাম এন এফিলিয়েটে ক্লিক করুন। তখন নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 1. :

Account 1

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া Sign up এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 2 :

Account 2

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া Create your Amazon Account এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 3 :

Account 3

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া প্রত্যেকটা ঘর পরুন করুন। Your name এর জায়গায় আপনার নাম দিন। Email এর জায়গায় আপনার ইমেইল নম্বার দিন। Password এর জায়গার নন্যুতম ৬ ক্যারেকটারের একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিন। Re- enter Password এ জায়গায় আগের পাসওয়ার্ড দিন। তারপর Create your Amazon Account ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 4 :

Account 4

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া ঘরে OTP কোড বসাতে হবে। এখন আপনার দেওয়া ইমেলে একটি OTP কোড গিয়েছে। ইমেইল থেকে ওটিপি কোডটি কপি করে নিয়ে এসে এই ঘরে বসিয়ে দিন। তারপর Create your Amazon Account এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 5 :

Account 5

Account 6 :

Account 6

উপরের ইন্টারফেস দুটি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পুরুন করুন। এখানে যে ঘরে স্টার চিহ্ন দেওয়া আছে তা অবশ্যই পুরুন করতে হবে। অন্য গুলো অপশনাল। প্রয়োজনে ব্যবহার করবেন। Payee name এর জায়গায় আপনার নাম দিন। এড্রেস এর জায়গার আপনার ঠিকানা পুরুন করে দিন। সিটি দিন, জিপ কোড অর্থাৎ আপনার পোস্ট কোড দিন। কান্ট্রি সিলেক্ট করুন। আপনার দেশের কোড সহ সঠিক মোবাইল নম্বার দিন। The payee listed above এর ঘর পুরুন করুন। তারপর নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 7 :

Account 7

এই ইন্টারফেসে লাল তীর চিহ্ন দেওয়া Enter Your Website ঘরে আপনার ওয়েব সাইটের নাম দিবেন। ওয়েবসাইট না থাকলে ইউটিউবের ইউ আর এল দিবেন অথবা ফেসবুক পেজের ইউ আর এল দিবেন। অথবা Enter Your Mobile App ঘরে মোবাইল এপস থাকলে এপসের ইউ আর এল বসিয়ে Add বাটনে ক্লিক করুন। উপরের দুইটির মধ্যে যে কোন একটি এড করে দিলেই হবে। তারপর নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন। তার পরের স্টেজে No বাটনে ক্লিক করে Confirm করে দিন। তারপর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

পড়ুন :

কিভাবে ফ্রি ব্লগসাইট তৈরি করবেন

Account 8 :

Account 8

Account 9 :

Account 9

এবার উপরের ইন্টারফেস দুটি আপনার ক্ষেত্রে একটি দেখাবে। এই ইন্টারফেসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত পূরুন করুন। প্রথম ঘরে Associate street ID তে একটি ইউনিক নাম দিন। এই নাম আপনার আমাজন আইডি নেম হবে। Your website List : ঘরে কিছু লিখতে হবে না। What are your websites or Mobile apps about : এর ঘরে আপনি যে ওয়েব সাইটের নাম দিয়েছেন তা সম্পর্কে ‍দুই তিন লাইন কিছু লিখে দিন। which of the following topics …… : ঘরে আপনার পছন্দ মতো কিছু সিলেক্ট করে দিন। what type of Amazon do you you intend to list on your website or Apps : ঘরে আপনি সব গুলোতে টিক মার্ক করে দিন। What type are your websites or Mobile app : ঘরে আপনার পছন্দ মতো কিছু সিলেক্ট করে দিন। How do you drive traffic your website : ঘরে আপনার সাইটে কোন কোন টপিক থেকে ভিজিটর আসে তা সিলেক্ট করে দিন। এখানে Social Network এবং SEO সহ আর দু একটি সিলেক্ট করে দিতে পারেন। তারপরের ঘর গুলোতে আপনার পছন্দ মতো তথ্য গুলো সিলেক্ট করে দিন। কেপচার ঘরে দেখে দেকে হুবহু কেপচা পূরুন করে দিন। শেষের ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে Finish ঘরে ক্লিক করুন। তারপর নিচের মতো ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

Account 10 :

Account 10

এই ইন্টারফেসে লাল চিহ্ন দেওয়া দেখতে পাচ্ছেন আপনাকে Congrats জানাচ্ছে। আপনার আমাজন একাউন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই পর্যন্ত আমাজন একাউন্ট তৈরির কাজ। এখন আপনি প্রোডাক্টের লিংক তৈরি করে প্রমোশন করতে পারবেন। আপনি ফেসবুক, ইনিষ্টগ্রাম, ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন জায়গার লিংক প্রমোট করে ইনকাম করতে পারবেন। তবে এখানে আরো কিছু কাজ যোগ করতে হবে। সে কাজ গুলো করলে আপনি আমাজন থেকে টাকা হাতে পাবেন। সে গুলো হলো আপনার ট্যাক্স ভেরিফাই করতে হবে এবং পেইনিয়র একাউন্ট খুলতে হবে। পেইনিয়র একাউন্ট আমাজনের সাথে এড করলে আপনি টাকা তুলতে পারবেন।

আরো পড়ুন :

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন

কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং করবেন

শেষ কথা :

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। এখানে কাজ করতে হলে একটি Amazon Affiliate Account খুলতে হবে এবং ধর্য্য ধরে কাজ করতে হবে। রাতারাতি কোন সফলতা আসবে না। এর জন্য আপনাকে সময় ব্যয় করতে হবে। আপনাকে ফেসবুক ফ্যান পেজ তৈরি করতে হবে, গ্রুপ তৈরি করতে হবে, ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে এবং ব্লগ সাইটি তৈরি করতে হবে। এ গুলোর মাধ্যমে প্রমোশন করতে পারলে ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারবেন। হতাশ হওয়ার কিছু নেই আপনি ইচ্ছা করলে শুধু ফেসবুকের মাধ্যমেও প্রমোশন করে আয় করতে পারবেন। ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment