এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) কিভাবে করবো

Affiliate Marketing

এফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliate Marketing ) অনলাইনে ইনকামের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। অনলাইনে সেল জেনারেট করে আয় করার একটি অন্যতম উপায়। বর্তমানে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সাররা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করছে। আপনিও ইচ্ছা করলে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন। এই করোনা কালিন সময়ে মানুষ ঘরে বসে সব কিছু পেতে চায়। তাই মানুষ অনলাইনের স্মরনাপন্ন হয়। অনলাইনে কেনাকাটা করতে চায়। আপনি চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে কোন কোম্পানীর পন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন। আজকে আমরা আলোচনা করবো এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) কিভাবে করবো।

এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) কি :

কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস মার্কেটিং করা, প্রচার করা বা ক্রেতা তৈরি করা হচ্ছে মার্কেটিং করা। আর এই মার্কেটিং যখন অনলাইনে করবেন তখন তাকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং। আর এই ডিজিটাল মার্কেটিং স্কীলটা যখন নিজের কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য বিক্রয় বা প্রোমট করবেন তখন তাকে বলা হয় ইন্টারনেট মার্কেটিং। আর এই ডিজিটাল স্কীলটা যখন অন্য কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের কমিশন ভিত্তিক প্রোমশন করবেন তখন তাকে বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং। মোটকথা এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোনো কোম্পানীর পন্য সেল জেনারেট করার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।

এফিলিয়েট প্রোডাক্টের ধরন :

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রোডাক্ট মূলত: দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন :

১. ডিজিটাল প্রোডাক্ট : ডিজিটাল প্রোডাক্ট হচ্ছে যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস গুলো ছোয়া যায় না বা ধরা যায় না। যেমন : ই-বুক, থিম, ডোমেন, হোস্টিং ইত্যাদি। এ গুলো সেল জেনারেট করতে চাইলে নেট কানেকশন ভালো থাকতে হবে। এ গুলো অনলাইনের মাধ্যমে সেল জেনারেট করতে হবে।

২. ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট : ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হচ্ছে দৃশ্যমান। যা ধরা যায় বা ছোয়া যায়। দৈনন্দিন বা প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করে থাকি। যেমন : ইলেকট্রিক প্রোডাক্ট, ইলেক্ট্রনিক্স প্রোডাক্ট, বিউটি প্রোডাক্ট, ফ্যাশান প্রোডাক্ট ইত্যাদি। এই সমস্ত প্রোডাক্ট সেল করতে চাইলে ডেলিভারি পদ্ধতি ঠিক আছে কিনা সে বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এ গুলো অনলাইন এবং অফলাইনের মাধ্যমে সেল জেনারেট করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সাথে কারা জড়িত :

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সাথে ৪ শ্রেনির শেয়ার হোল্ডার জডিত। তাদের সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

মার্চেন্ট বা রিটেইলার (Merchant or Retailer) : মার্চেন্ট বা রিটেইলার হচ্ছে কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা বিজ্ঞাপন দাতা। যারা কোনো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করে থাকে।

পাবলিশার ( Publisher) : পাবলিশার হচ্ছে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে। কোম্পানীর পন্য সেল জেনারেট করে কমিশন বেজ কাজ করে।

ক্রেতা ( Customer) : ক্রেতা হচ্ছে যারা কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্রয় করে থাকে।

মার্কেট প্লেস ( Market Place ) : মার্কেট প্লেস হচ্ছে যে সব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেল জেনারেট করা হয়ে থাকে। যেমন : আমাজান, আলিবাবা, ইভেলি ইত্যাদি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) কিভাবে করবো :

ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের মধ্যে অন্যতম হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আপনার একটি ওয়েব সাইট, ইউটিউব চ্যানেল, সোসাল মিডিয়া পেজ থাকতে হবে। সোসাল মিডিয়া পেজ হলো : ফেসবুক পেজ, ইনিস্ট্রাগ্রাম পেজ, টুইটার, লিংকদিন, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি সাইট গুলোতে আইডি থাকতে হবে। এ গুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে বিভিন্ন ক্যাটাগারির মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হবে। নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. নিশ সিলেক্ট করা :

এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে প্রথমে নিশ সিলেক্ট করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে নিশ কি ? অনলাইনের ভাষায় কোনো ’ বিষয় ‘ কে নিশ বলা হয়ে থাকে। আপনি কোন বিষয়ের উপর মার্কেটিং করতে চান তা প্রথমে বাছাই করতে হবে। খুব ভেবে চিন্তে নিশ সিলেক্ট করতে হবে। যাতে নিশটি সর্বজন গ্রাহ্য হয় অর্থাৎ যাতে সবার কাছে গ্রহন যোগ্যতা থাকে। নিশ বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন : হেলথ এন্ড ফিটনেস, প্রযুক্তি, ভ্রমন, খেলাধুলা বিষয়াক ইত্যাদি ধরনের হতে পারে।

২. প্রোডাক্ট নির্বাচন করা :

প্রোডাক্ট নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। আপনার নিশ রিলেটেড প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন। যে প্রোডাক্ট বাজারে সচারাচর দেখা যায় এবং সবাই ব্যবহার করে। অর্থাৎ যে প্রোডাক্টের কদর বা গ্রহন যোগ্যতা বেশি এমন প্রোডাক্ট সিলেক্ট করুন। প্রোডাক্ট ভালো মানের হলে সেল বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। যত বেশি সেল হবে ততো ইনকাম হবে। তাই ভেবে চিন্তে প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন। আপনি যে কোনো প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করতে পারেন। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বা ডিজিটাল প্রোডাক্ট। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট অনলাইন ও অফলাইনে দুই ভাবে বিক্রি করা যায়। কিন্তু তুলনামূলক দাম কম হয়ে থাকে। আর ডিজিটাল প্রোডাক্ট শুধু অনলাইনে বিক্রি করা হয়ে থাকে। তাই এর দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।

৩. ওয়েবসাইট তৈরি করা :

এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইটের প্রয়োজন হয়। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার ডট কম দ্বারা সহজে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে নিতে পারেন। প্রথমত ফ্রি ব্লগসাইট দ্বারা কাজ শুরু করতে পারেন। পরে ডোমেন হোস্টিং ক্রয় করে কাজ করতে পারেন। ফ্রি ব্লগ সাইট তৈরি করতে চাইলে সহজে ব্লগার ডট কমের ব্লগ স্পট দ্বারা তৈরি করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে হলে এই লিংকে গিয়ে ভিজিট করে দেখতে পারেন। লিংকটি হলো : https://www.ictcorner.com/free-blog/

৪. এস ই ও করা :

ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট তৈরি করা হলে তা এস ই ও করতে হবে। এস ই ও দুই ভাবে করা যায়। এক, অনপেজ এস ই ও, দুই, অফপেজ এস ই ও । নতুনদের জন্য এস ই ও করাটা একটু কঠিন হবে। যদি সম্ভব হয় কাউকে দিয়ে করিয়ে নিবেন। আর ইচ্ছা করলে নিজে নিজেও করতে পারবেন। নিচের দুটি আর্টিকেল ভালোভাবে পড়ে নিবেন। তাহলে সহজে এস ই ও করতে পারবেন। ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইটকে গুগুল টপে আনতে হলে এস ই ও করা আবশ্যক। নিচের দুটো আর্টিকেল “কিভাবে অনপেজ এস ই ও করবেন” এবং ”কিভাবে অফপেজ এস ই ও করবেন” এস ই ও এর ক্ষেত্রে দারুন হেলপফুল হবে।

পড়ুন :

কিভাবে অনপেজ এস ই ও করবেন

কিভাবে অফপেজ এস ই ও করবেন

৫. কনটেন্ট তৈরি করা :

কন্টেন্ট হচ্ছে ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইটে যা কিছু উপস্থাপন করেন তাই কন্টেন্ট। তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে আপনাকে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে আর্টিকেল লিখতে হবে। প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ তৈরি করতে হবে। প্রোডাক্টের গুনাগুন বর্ণনা করা, তার উপকারিতা কি, তার মূল্য কত ইত্যাদি বিষয়ে লিখে রিভিউ তৈরি করতে হবে। এই ধরনের রিভিউ বা আর্টিকেল লিখাই হচ্ছে কন্টেন্ট। তাই আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালো মানের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।

৬. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা :

ইউটিউব সম্পর্কে আমাদের সবারই কম বেশি মোটামুটি ধারনা রয়েছে। ইউটিউবে ভিডিও দেখা যায়। এই ভিডিও এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারি। তাই আপনাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকেতে হবে। ইউটিউব চ্যানেলে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে হবে। আপনার প্রোডাক্টের গুনাগুন বর্ননা করে ছবিসহ ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে হবে। তাতে সেল জেনারেট বা বিক্রয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৭. ফেসবুক পেজ তৈরি করা :

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সোসাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্ট উপস্থাপন করতে পারবেন। আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানাতে পারবেন। সেখানে প্রোডাক্ট লিংক সেট করে দিতে পারেন। আপনার প্রোডাক্ট বা পন্য ভালো লাগলে তারা এই লিংকের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টের পেজে যাবে এবং পন্যের অর্ডার করতে পারবে। তাতে সেল জেনারেট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

৮. ইমেইল মার্কেটিং করা :

ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে ইমেইলের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারকে বিস্তারিত জানাতে পারেন যে বর্তমানে দারুন অফার চলতেছে। আমার কোম্পানির এই এই পন্যের অফার আছে, সাশ্রয়ী মুল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে। আপনি ইচ্ছা করলে সুযোগ গ্রহন করতে পারেন ইত্যাদি সম্পর্কে জানিয়ে ইমেইল করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে প্রচুর পরিমানে ইমেইল কালেক্ট করতে হবে। আপনি কি ইমেইল কালেক্ট নিয়ে চিন্তিত ? না চিন্তার কোন কারন নেই। ইমেইল কলেক্ট করার সহজ প্রক্রিয়া রয়েছে। আপনি আস্তে আস্তে পরে জানতে পারবেন। ইউটিউবে ইমেইল কলেক্ট নিয়ে প্রচুর ভিডিও পাবেন। সেখান থেকে জেনে নিতে পারবেন।

৯. ডিজিটাল মার্কেটিং করা :

ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে অনলাইনে মার্কেটিং করা। অনলাইনের মাধ্যমে পন্য ক্রয় বিক্রয় করাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। আপনি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট বা পন্য সেল জেনারেট করে এফিলেয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। আপনার প্রোডাক্ট বা পন্য সম্পর্কে ফেসবুক, ইনিস্টাগ্রাম, টুইটার, লিংকদিন ইত্যাদি সোসাল মিডিয়া সাইট গুলোতে প্রাচার করে প্রোডাক্টের লিংক বসিয়ে দিন। এই লিংকের মাধ্যমে প্রোডাক্ট বিক্রি করে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

১০. মার্কেট প্লেস চুজ করা :

এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে মার্কেট প্লেস চুজ বা পছন্দ করতে হবে। আপনি একটি বা দুইটি মার্কেট প্লেস চুজ করতে পারেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য অনলাইনে প্রচুর মার্কেট প্লেস রয়েছে। যেমন : আমাজান, আলিবাবা, শিয়ারসেল, ফ্লিপকার্ট, ক্লিক ব্যাংক, থিমফরেস্ট, ইবে, ইভেলি, দারাজ, বিডি সপ ইত্যাদি মার্কেট প্লেস রয়েছে। আপনি এ গুলোর মধ্যে থেকে একটি বা দুটি মার্কেট প্লেস চয়েস করে এফিলেয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

আরো পড়ুন :

ডাটা এন্ট্রি কিভাবে করবেন

ইউটিউব চ্যানেল থেকে কিভাবে আয় করবেন

শেষ কথা :

এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) করতে হলে আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর থাকতে হবে, প্রচুর সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো ধর্য্য থাকতে হবে। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে দ্রুত সফলতা পাওয়া যায় না আস্তে আস্তে সফলতা আসে। একদিন দেখবেন ভালো পরিমান প্যাসিভ ইনকাম আসছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে। সঠিক প্রোডাক্ট বাছাই করতে হবে। যে প্রোডাক্ট বাজারে ভালো পরিমান সেল হয় এবং মানুষ সহজে ক্রয় করতে আগ্রহী হয় এমন প্রোডাক্ট বাছাই করুন। সর্বশেষ কথা হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইলে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ভালো ধারনা নিয়ে বুঝে শুনে এবং কাজের স্কীল ডিভলোপ করে কাজ শুরু করুন।

Related posts

Leave a Comment