গুগুল এডসেন্স কি এবং গুগুল এডসেন্স (Adsense) পাওয়ার উপায় ও ইনকাম পদ্ধতি

Adsense

অনলাইনে হাজারো এড নেটওয়ার্কের মধ্যে গুগুল এডসেন্স (Google Adsense) সর্ব সেরা। কারন ইহার পেমেন্ট নিশ্চিত ও নিরাপদ। ইহা এমনি একটি এড নেটওয়ার্ক যেখান থেকে লক্ষ লক্ষ ব্লগার এবং ইউটিউবার ইনকাম করছে। বর্তমানে বাংলা ভাষায় ব্লগ গুগুল এডসেন্স এপ্রোভ করছে। যার ফলে বাংলাদেশের ব্লগাররা প্রতি মাসে এডসেন্স থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার ইনকাম করছে। অনেকে বলেন এডসেন্স পাওয়া সোনার হরিণ। ইহা পাওয়া দুস্কর। কিন্তু না ইহা তেমন কঠিন কোন কাজ না। আপনি সহজে ইহা এপ্রোভ করতে পারবেন। যদি সঠিক ওয়েতে নিজেকে পরিচালিত করতে পারেন। আজকে আমি গুগুল এডসেন্স পাওয়ার সঠিক গাইড লাইন তুলে ধরার চেষ্টা করবো। যদি আপনি এই আর্টিকেল সঠিক ভাবে অনুসরন করতে পারেন তাহলে আপনার ব্লগে এডসেন্স এপ্রোভ করতে পারবেন। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক গুগুল এডসেন্স পাওয়ার গাইড লাইন।

গুগুল এডসেন্স (Google Adsense) কি :

গুগুল এডসেন্স হচ্ছে গুগুলের একটি প্রোডাক্ট। ইহা একটি এডভেরটাইজমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রোগ্রাম। ইহা বিজ্ঞাপনদাতাদের নিকট থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে তাদের অনুমোদিত পাবলিশারদের দ্বারা সেই বিজ্ঞাপন গুলি প্রচার করে থাকে। বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দাতাদের নিকট থেকে যে পরিমান অর্থ পায় তার ৬৮% পাবলিশার্সদের দিয়ে থাকেন। আর বাকীঁ ৩২% নিজের কাছে রেখে দেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এডভেরটাইজার কারা এবং পাবলিশারস কারা ? যারা এড তৈরি করে এডসেন্সকে দেয় তারা এডভেরটাইজার আর এই এড গুলো যে ব্লগ বা ইউটিউ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হয় তারা হচ্ছে পাবলিশারস। গুগুল এডসেন্স এই এডভেরটাইজার এবং পাবলিশারসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এডভেরটাইজ প্রদান করাই হচ্ছে গুগুল এডসেন্সের কাজ।

গুগুল এডসেন্স (Google Adsense) পাওয়ার উপায় :

গুগুল এডসেন্স একাউন্ট এপ্রোভ হতে গেলে কিছু নিয়ম অনুসরন বা শর্তাবলী মেনে চলতে হবে। তবেই গুগুল এডসেন্স একাউন্ট এপ্রোভ হওয়ার সম্ভানা থাকে। শর্তাবলী গুলো জেনে নেই। এই শর্তাবলী অনুসরন করলে আশা করি আপনার সাইটে গুগুল এডসেন্স এপ্র্র্রোভ হবে।

১. একটি ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট থাকতে হবে অথবা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে।

২. একটি জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে এবং ভেরিফাই মোবাইল নম্বার থাকতে হবে। আর বয়স ১৮ বছর হতে হবে।

৩. ইউনিক কন্টেন্ট থাকতে হব। কোন কপি পেস্ট করা যাবে না। কপিরাইট লংঘন করা যাবে না।

৪. সাইটে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে। কন্টেন্ট নিয়ে মতভেদ আছে। একেক জন একেক রকম মতভেদ দিয়েছেন। কেউ বলেছেন ৫০ টি, কেউ বলেছেন ৩০ টি, আবার কেউ বলেছেন ২০ টির উপরে কন্টেন্ট ব্লগে থাকতে হবে। আমার মতে ২০টির উপরে কন্টেন্ট থাকলেই হবে।

৫. সাইটের বয়স নিয়েও মতভেদ আছে। কেউ বলেছেন এক মাস হতে হবে, কেউ বলেছেন ৩ মাস হতে হবে, কেউ বলেছেন ৬ মাস হতে হবে। ভিউ ১০০০০ হতে হবে। সময় বা ভিউ বড় ফেক্টর না তবে আপনার সাইটে আর্টিকেল ভালো হতে হবে। যাতে ইউজারদের উপকারে আসে। মোট কথা সাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি করতে হবে।

৬. ব্লগসাইটে অবশ্যই এই তিনটি পেজ থাকতে হবে। About us, contact us, Privacy Policy ইত্যাদি। এই পেজ গুলো আপনার পরিচয় বহন করে। তাই এই পেজ গুলো থাকা আবশ্যক।

৭ কোন প্রকার Adult কন্টেন্ট থাকা যাবে না। কোন প্রকার উস্কানী মূলক বক্তব্য বা আপত্তিকর মন্তব্য রাখা যাবে না। কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠির উপর আঘাত হানে এমন বক্তব্য থাকা যাবে না।

৮. নিজের সাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক করা যাবে না। ভূলেও এ কাজ করবেন না গুগুল ধরে ফেলবে। আর আপনার সাইটে অন্য কোন কোম্পানীর এড প্রদর্শন করবেন না।

৯. বার বার আইপি চেন্জ করেও ক্লিক করবেন না। তাতেও একাউন্ট ব্যান্ড হতে পারে।

১০. কন্টেন্ট বা আর্টিকেল কত শব্দের হতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলবো নূন্যতম ৫০০ শব্দের হওয়া উচিত। তবে ১০০০ শব্দের উপরে হলে ভালো।

এডসেন্স থেকে ইনকাম পদ্ধতি :

গুগুল এডসেন্স (Google Adsense) থেকে তিনটি উপায়ে অর্থ ইনকাম করা যায়। ইনকাম পদ্ধতি গুলো হচ্ছে নিম্নরুপ :

১. ব্লগ বা ওয়েবসাইট :

পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট রয়েছে। তারা কোন না কোন ভাবে ইনকাম করে থাকে। তবে এশিয়া মহাদেশের বেশির ভাগ ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইটের ইনকাম মাধ্যম হলো গুগুল এডসেন্স। ব্লগ বা ওয়েব সাইট থেকে ইনকাম করতে হলে আপনার ব্লগে বা ওয়েবসাইটে ইউনিক কন্টেন্ট থাকতে হবে। অর্থাৎ ভালো ভালো কন্টেন্ট থাকতে হবে। যা থেকে ইউজাররা উপকার পেতে পারে এবং ঘন ঘন আপনার ব্লগে বা ওয়েবসাইটে আসে। এভাবে যখন আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে তখন গুগুল এডসেন্সে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার পর গুগুল এডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার সাইট রিভিউ করবে। তাদের চাহিদা ফুলফিল হলে তারা এপ্রোভ করবে এবং একটি কোড দিবে। সেই কোড আপনার সাইটের হেডার অফসনের মধ্যে পেস্ট করে সেভ করতে হবে। কিছুক্ষন পর আপনার সাইটে এড শো হতে থাকবে। এই এডে যখন কোন ইউজার ক্লিক করবে তথন গুগুল এলগরিদম পদ্ধতিতে আপনার গুগুল এডসেন্স একাউন্টে ডলার জমা হতে থাকবে। যখন আপনার একাউন্টে ১০০ ডলার জমা হবে তখন আপনি উইথড্রো করতে পারবেন। এভাবে আপনি গুগুল এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

২. ইউটিউব :

ইউটিউব থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইনকাম কর যায়। তার মধ্যে গুগুল এডসেন্স অন্যতম উপায়। বাংলাদেশের ইউটিউবাররা বেশির ভাগই গুগুল এডসেন্স থেকে ইনকাম করে থাকে। ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে গেলে আপনার চ্যানেলে ভালো ভালো কন্টেন্ট বা ভিডিও আপলোড করতে হবে। আপনার চ্যানেলে যখন ১০০০০ ভিউ এবং ৪০০০ ওয়াচ টাইম হবে তখন গুগুল এডসেন্স মনিটাইজ করতে পারবেন। আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এপ্রোভ করলে আপনার চ্যানেলে এড শো হতে থাকবে। আর এডে ক্লিক পড়লে আপনার এডসেন্স একাউন্টে ডলার বা টাকা জমা হতে থাকবে। এভাবে ইনকাম করতে পারবেন।

৩. এডমোব :

এডমোব হচ্ছে গুগুলের একটি সার্ভিস। ইহা হচ্ছে মোবাইল ভিত্তিক। ইহা এন্ড্রয়েড মোবাইলের মাধ্যমে এই সার্ভিস প্রদান করা হয়ে থাকে এপসের মাধ্যমে। মোটকথা এন্ড্রয়েড মোবাইল থেকে এপসের মাধ্যমে আয় করার পদ্ধতির নাম হচ্ছে এডমোব। এই এপসে এডসেন্স কোড বসিয়ে এন্ড্রয়েড মোবাইলের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারেন। এই এডমোবের এডভেরটাইজে ক্লিক পড়লে আপনার এডমোব একাউন্টে ডলার জমা হতে থাকবে এবং ১০০ ডলার হলে উইথড্রো করতে পারবেন। এভাবে এডমোব থেকে এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।

পড়ুন :

ঘরে বসে আয় করতে চাইলে লিংকে ক্লিক করুন : https://www.ictcorner.com/online-income/

ডিজিটাল মার্কেটিং করে আয় করতে চাইলে ক্লিক করুন : https://www.ictcorner.com/digital-marketing/

গুগুল এডসেন্স (Google Adsense) হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এড মিডিয়া। সবাই চায় গুগুল এডসেন্স এপ্রোভ করাতে। কিন্তু ইহা পাওয়া কঠিন তবে দুসাধ্য নয়। তবে পাওয়ার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। প্রবাদ আছে না স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। তেমনি গুগুল এডসেন্স পাওয়ার চেয়ে ধরে রাখা কঠিন। কারন একটু ত্রুটি হলে এডসেন্স সাসপিন্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গুগুল এডসেন্সের নিয়ম মেনে সাইটকে পরিচালিত করতে হবে। তবেই এখানে থেকে ইনকাম করা সম্ভব। সবাইকে ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment