ফেসবুক মার্কেটিং এর বিভিন্ন নিয়ম কানুন জানুন

ফেসবুক মার্কেটিং এর বিভিন্ন নিয়ম কানুন

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি অন্যতম পার্ট হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং। অনলাইন মার্কেটিংয়ে পারদর্শি হতে হলে আপনাকে ফেসবুক মার্কেটিং এর বিভিন্ন নিয়ম কানুন জানতে হবে । ফেসবুক মার্কেটিং ছাড়া অনলাইনে মার্কেটিং বা প্রোডাক্ট সেল করা অসম্ভব। আপনি যদি একজন বিজনেস ম্যান হয়ে থাকেন আর অনলাইনে বিজনেস করতে চান তাহলে আপনাকে ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে খুটিনাটি জানতে হবে। একজন সফল ফেসবুক মার্কেটার বা একজন ফেসবুক মাকের্টিং এক্সপাট হতে হলে আপনাকে কি কি জানতে হবে তা আজকের এই আর্টিকেলে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আপনি যদি ধর্য্য ধরে এই আর্টিকেলটি ভালো ভাবে পড়েন তাহলে একজন সফল ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট হতে পারবেন।

ফেসবুক মার্কেটিং কি :

ফেসবুক মার্কেটিং হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে কোনো পন্য বা প্রোডাক্টের প্রচার প্রচারনা করে সেল জেনারেট করাই হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং। ফেসবুক প্লাটফর্ম বিশ্বের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এখানে আপামোর জনসাধারন বিচরন করে থাকে। ফেসবুক চিনে না এমন লোক খোজে পাওয়া কঠিন। ছোট থেকে বড় পর্যন্ত সবাই কমবেশি ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। তাই ফেসবুক প্রোডাক্ট সেল করার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এখানে আপনার প্রোডাক্ট বা পন্য সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারলে সেল জেনারেট হবেই এবং কাঙ্খিত ফলাফল লাভ করতে পারবেন। সহজ ভাবে বলা যায় ফেসবুকের মাধ্যমে প্রোডাক্ট বা পন্য বিক্রি করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং। আরো বলা যায় ফেসবুকের মাধ্যমে কোনো কোম্পানীর পন্য বা সেবা গ্রহকের কাছে পৌছে দেওয়া এবং কোম্পানীর ব্রান্ডিং বা ভিজিবিলীটি বৃদ্ধি করাই হচ্ছে ফেসুবক মার্কেটিং।

ফেসবুক মার্কেটিং এর বিভিন্ন নিয়ম কানুন :

সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে সহজে কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্ট সেল জেনারেট করা সম্ভব। তবে আপনাকে সঠিক ওয়ে বা পদ্ধতি জানতে হবে। তবেই আপনি একজন সফল ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট হতে পারবেন। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক কি কি পদ্ধতি শিখতে পারলে ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট হতে পারবেন এবং যে কোন মার্কেটপ্লেসে জব করতে পারবেন।

1. প্রোডাক্ট ও অডিয়েন্স বিশ্লেষন :

প্রথমে জানতে হবে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে এবং আপনার প্রোডাক্টের অডিয়েন্স করা। অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট কি ধরনের এবং আপনার প্রোডাক্টের কাস্টমার কোন শ্রেনির লোক। আপনার প্রোডাক্টের বাজার কেমন বা তার চাহিদা কেমন আছে। কোন মার্কেটে সেল জেনারেট বেশি হবে, কারা এর সম্ভব্য ক্রেতা বা কোন বয়সের ক্রেতা বেশি ক্রয় করতে পারে ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আপনাকে বিচার বিশ্লেষন করতে হবে।

2. ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি :

ফেসবুক মার্কেটিং করতে হলে ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি করতে হবে। আপনাকে ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি করা জানতে হবে। আপনার প্রোডাক্ট কি রিলেটেড, সে সম্পর্কে একটি বিজনেস পেজ তৈরি করতে হবে। বিজনেস পেজ প্রোপার ওয়েতে কাস্টমাইজ করতে হবে। সঠিক ভাবে কাস্টমাইজ না করতে পারলে সহজে সবাই আপনার পেজ দেখতে পাবে না। বিজনেস পেজে আপনার কোম্পানীর লোগো সেট করতে হবে, ব্যানার সেট করতে এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করতে হবে। যদি আপনার ফেসবুক পেজ তৈরি সম্পর্কে জানা থাকে তো ভালো। আর যদি জানা না থাকে কোনো সমস্যা নেই। সহজেই একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে নিতে পারবেন নিচের লিংক ফলো করুন।

# কিভাবে ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি করবেন

3. ফেসবুক গ্রুপ তৈরি :

ফেসবুক পেজের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করতে হবে। এই গ্রুপকেও সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করতে হবে। গ্রুপ তৈরি করা একটি সহজ কাজ একটু চেষ্টা করলেই আপনি অনায়াসে একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করতে পারবেন। এই ফেসবুক গ্রুপে আপনার ফেসবুক পেজের পোস্ট শেয়ার করতে হবে। তার আগে আপনার গ্রুপে সদস্য সংখ্য বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রুপে আপনার মূল্যবান পোস্ট শেয়ার করতে হবে। সেখানে অনেকে তাদের মতামত জানাতে পারবে এবং আপনি তাদের মতামতের জবাব দিতে পারবেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে কমোনিকেট ক্রেয়েট করতে পারবেন। তাতে সবার সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো হবে এবং আপনার প্রোডাক্ট সেলের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

4. কনটেন্ট তৈরি :

প্রোডাক্ট সম্পর্কে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। কন্টেন্ট হচ্ছে পোডাক্ট রিলেটেড কোনো লেখা, ইমেজ বা ভিডিও। মনে রাখবেন কনটেন্ট ইজ কিং। কনটেন্ট ছাড়া আপনার প্রোডাক্টের কোনো মুল্য নেই। সঠিক ভাবে পোডাক্ট সম্পর্কে কন্টেন্ট তৈরি করা শিখতে হবে। সেটা ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে হতে পারে বা ইমেজ অপটিমাইজ করার মাধ্যমে হতে পারে। কন্টেন্টই মানুষকে আকৃষ্ট করে থাকে। তাই বলা হয়ে থাকে কনটেন্ট ইজ কিং বা কন্টেন্ট হলো রাজা।

5. ফেসবুক এডস ক্যাস্পেইন :

ফেসবুক এডভ্যারটাইজ করার জন্য ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে। ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্সকে টার্গেট করতে হবে। কারা আপনার প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারে এমন সম্ভব্য ক্রেতা টার্গেট করে এডস ক্যাম্পিইন পরিচালনা করতে হবে। তাই ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইন কি সে সম্পর্কে বিশদ ভাবে আপানাকে জানতে হবে। ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইন কিভাবে তৈরি করতে হয় জানতে হলে নিচের লিংক ফলো করুন।

# কিভাবে ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইন তৈরি করবেন

6. ফেসবুক পিক্সেল সেটাপ :

ফেসবুক পিক্সেল সেটাপ শিখতে হবে। ফেসবুক পিক্সেল হচ্ছে একটি কোড। যা আপনার ওয়েবসাইটে মধ্যে সেটাপ করতে হবে। এর মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনার কাস্টমার কারা, কোথা থেকে আসছে, কোন বয়সের তারা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারা যায়। এই ফেসবুক পিক্সেল সেটাপ শিখতে হবে। কিভাবে ফেসবুক পিক্সেল সেটাপ করতে হয় জানতে হলে নিচের লিংক ফলো করুন।

# কিভাবে ফেসবুক পিক্সেল সেটাপ করবেন

7. ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার :

ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার ফেসবুকের একটি শক্তিশালী টুলস। এর মাধ্যমে অসংখ্য এডস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবেন। ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শুধু একটি মাত্র এড পরিচালনা করতে পারবেন। আর ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজারের মাধ্যমে অসংখ্য এডস পরিচালনা করতে পারবেন। কিভাবে ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার ক্রেয়েট করবেন নিচের লিংক ফলো করুন।

# কিভাবে ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার পেজ ক্রেয়েট করা যায়

ফেসবুক মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে লক্ষনীয় বিষয় গুলো হলো :

  1. একাধিক ফেসবুক আইডি থাকতে হবে। আইডি গুলোকে অবশ্যই রিয়াল হতে হবে। কোনো ফেক আইডি হলে চলবে না। তাই আপনার ভাই, বোনের, বাবা ও মায়ের নামে আইডি খোলে ব্যবহার করতে হবে। প্রতি আইডি ন্যাশলাল কার্ড দিয়ে খুলতে হবে। আপনাকে নুন্যতম 5টি আইডি খোলতে হবে।
  2. একই ফেসবুক আইডি থেকে দিনে সর্বোচ্চ 5 বারের বেশি পোস্ট করা যাবে না। নতুন নতুন অবস্থায় 3টি করে পোস্ট করাই ভালো।
  3. পোষ্টের ক্ষেত্রে একই ডিসক্রেপশন এবং ইমেজ একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না।
  4. একই আইডি থেকে দিনে 5টির বেশি গ্রুপে জয়েন হবেন না।
  5. সবসময় যেখানে সেখানে কমেন্টে লিংক প্রদান না করাই ভালো। কেননা অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে।

শেষ কথা :

পরিশেষে কথা হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং এর বিভিন্ন নিয়ম কানুন জানতে হলে আপনাকে ফেসবুক পেজ, ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক বুস্ট ইত্যাদি তৈরি করা জানতে হবে। ফেসবুক পেজ এবং ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করা ‍অবশ্যই জানতে হবে। ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইন তৈরি করা জানতে হবে। ফেসবুক পিক্সেল সেটাপ জানতে হবে। ফেসবুক এডস ম্যানেজার ক্রেয়েট সম্পর্কে জানতে হবে। সর্বপরি আপনার প্রোডাক্টের মার্কেট ভেলু বা সমসাময়িক বাজার সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। এছাড়া ফেসবুকের পলিসি মেনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে তবেই আপনি একজন সফল ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট হিসাবে নিজেকে দাবি করতে পারবেন। আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment