“ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজ ৫টি (5 Easy Tasks of Freelancing)”

ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজ

আপনি কি একজন শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী বা গৃহিনী। অনলাইন থেকে আয় করতে চান ! তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। আপনি এই পোস্টটি ফলো করলে পাট টাইমে ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীনপেশা বা মুক্তপেশা। ফ্রিল্যান্সিং কঠিন কাজ হলেও ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজও রয়েছে। আজ আমি এমন ধরনের কাজ নিয়ে আলোচনা করবো যে ধরনের কাজ করলে আপনি ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ তরুন ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইনের মাধ্যমে বিদেশী রেমিটেন্স নিয়ে আসছে। সরকারী চাকুরি পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক শিক্ষিত বেকার ছেলে মেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে গ্রহন করছে। আপনিও চাইলে এ পেশাকে গ্রহন করে অনলাইন থেকে সহজে আয় করতে পারেন। আজকে আমি ”ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজ ৫টি (5 Easy Tasks of Freelancing) ” সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

ফ্রিল্যান্সিং কি :

ফ্রিল্যান্সিং কি ? এ বিষয়ে আমার আগের একটি পোষ্টে তুলে ধরেছি। এখানে কিছু ধারনা দেয়ার জন্য লিখছি। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মুক্ত পেশা। অন্যের অধীনে না থেকে নিজের পছন্দ মতো সময়ে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং হলো মুক্তভাবে কাজ করা অর্থাৎ নিজের ইচ্ছা মতো সময়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করা। তবে ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তা হলো বায়ারের নির্দেশ মোতাবেক ৩ দিন, ৫ দিন বা ৭ দিনের মধ্যে কাজটি করে জমা দিতে হবে। সরকারী চাকুরীর মতো ১০টা টু ৪টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট টাইমে আবদ্ধ থাকা না। দিনের যে কোন সময়ে কাজ করে বায়ারের কাজ জমা দেওয়াই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করা। আর যারা ফ্রিল্যান্সিং করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদেরকে ফ্রিল্যান্সার বলা হয়ে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের পূর্বশর্ত :

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে কিছু পূর্ব প্রস্তুতি থাকতে হবে। সে গুলো হচ্ছে :

  • কম্পিউটারে বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে।
  • ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে।
  • মোটামুটি ইংরেজী জানা থাকতে হবে।
  • কাজের স্কীল বা দক্ষতা থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজ ৫টি :

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের ক্ষেত্র ব্যাপক। ফ্রিল্যান্সিং এর অসংখ্য কাজ রয়েছে। কাজের কোনো অভাব নেই। কিন্তু আপনাকে সঠিক কাজ জানতে হবে। কাজের সঠিক স্কীল বা দক্ষতা থাকতে হবে। অনেক কঠিন কঠিন কাজ রয়েছে। যেমন: ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েব ডিভলোপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি হাজারো রকমের কাজ রয়েছে। কিন্তু না আজ কোনো কঠিন কোন কাজ না। আমি আপনাদের সামনে সহজ ৫টি কাজ সম্পর্কে তুলে ধরবো। যদি এই পাাঁচটি কাজের মধ্যে একটি কাজে পারফেক্ট স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তাহলে আপনার সাফল্য আসবেই। এই আর্টিকেল নতুনদের জন্য খুব উপযোগী হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন আপনার কাজের স্কীল বা দক্ষতা বাড়াবে।

১. ব্লগিং করা :

ব্লগিং হচ্ছে অনলাইনে লেখা লেখি করা। আপনার যদি কোন বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকে সে বিষয়ে লেখা লেখির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন। ব্লগিং হচ্ছে অনলাইন ডাইরি বা দিনলিপি। এখানে আপনি মনের মাধুরি মিশিয়ে আপনার জানা বিষয় গুলো সম্পর্কে লেখা লেখি করতে পারেন। আপনি যে কোন বিষয়ে লেখালেখি করতে পারেন। যেমন : রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভ্রমন, ইতিহাস ঐতিহ্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। তবে সে বিষয়ে আপনার ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে।

ব্লগিং করতে গেলে আপনার একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। আপনি ব্লগার ডট কম বা ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম দ্বারা একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে নিতে পারেন। নতুনদের জন্য ব্লগার ডট কম দ্বারা ফ্রি ব্লগসাইট তৈরি করে আয় শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে ডোমেন ক্রয় করে সেটাপ করে নিতে পারবেন। ব্লগার ডট কম দিয়ে ব্লগ সাইট তৈরি করতে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন। লিংকটি হলো – https://www.ictcorner.com/free-blog/ . এই লিংকে ক্লিক করে আর্টিকেলটি পড়ে নিবেন। তাহলে সহজে নিজেই একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবেন। যেখানে লেখা লেখি করে আয় করতে পারবেন। আপনার ব্লগে ভালো ভালো কিছু আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করুন। যখন মোটামুটি ভিজিটর আসবে তখন এডসেন্সে আবেদন করুন। এডসেন্স আবেদন এপ্রোভ করলে আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হতে থাকবে। এই বিজ্ঞাপনে কেউ ক্লিক করলে আপনার ডলার আর্নিং শুরু হবে।

২. এসইও করা :

এসইও করা হচ্ছে সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন করা। SEO এর এভরিভেশন হচ্ছে Search Engine Optimization . এসইও করলে কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট গুগুল টপে বা গুগুলের ফাস্ট পেজে আসে। এছাড়া কোন কন্টেন্ট বা আর্টিকেল সঠিক ভাবে এসইও করা হলে তা গুগলে প্রথমে পেজে আসা সম্ভব। এসইও হচ্ছে গুগুলের একটি এলগরিদম পদ্ধতি। যার মাধ্যমে কোন সাইট বা কন্টেন্টকে সার্চ ইন্জিন গুগুলের প্রথম পেজে নিয়ে আসে। এই এস ই ও এর কাজ শিখে আপনি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে নিতে পারেন। এস ই ও শিখতে হলে আপনাকে টেকনিক্যাল এস ইও , অনপেজ এস ই ও এবং অফপেজ এস ই ও এর কাজ শিখতে হবে। এই তিনটি কাজ সঠিক ভাবে শিখতে পারলে অনলাইনে কাজ করতে পারবেন এবং মোটামুটি ভালো পরিমান আয় করতে পারবেন। এই তিনটি কাজ শিখতে হলে নিচের তিনটি আর্টিকেল পড়ে কাজ গুলো শিখে নিতে পারেন। বুঝতে কোনো সমস্যা হলে ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন দেখে নিবেন।

পড়ুন :

কিভাবে টেকনিক্যাল এস ই ও করবেন

কিভাবে অনপেজ এস ই ও করবেন

কিভাবে অফপেজ এস ই ও করবেন

৩. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা :

ইউটিউব হচ্ছে ভিডিও শেয়ারিং সফটওয়ার। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য ভিডিও আপলোড করা হয়। এই ভিডিও গুলোর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও জ্ঞান মূলক তথ্য জানতে পারি। গুগুলে সার্চ করে যেমন বিভিন্ন তথ্য জানতে পারি, ইউটিউবে সার্চ করে তেমনি বিভিন্ন তথ্য জানতে পারি। তাই গুগুলের পরই ইউটিউবের স্থান। ইউটিউব সম্পর্কে জানতে বা শিখতে হলে আপনাকে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল কিভাবে তৈরি করবেন, জানতে হলে এই লিংকে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন। লিংকটি হলো – https://www.ictcorner.com/youtube-channel/ . ইউটিউব চ্যানেল তৈরি হয়ে গেলে আপনাকে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে হবে। যে কোন নিশ নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করুন। আপনার চ্যানেলে যখন ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম হবে তখন চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারবেন। মনিটাইজ করা হলে আপনি এডসেন্সের এড দেখাতে পারবেন। এই এডে কেউ ক্লিক করলে আপনার একাউন্টে ডলার জমা হতে থাকেবে। এভাবে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

৪. ফেসবুক মার্কেটিং করা :

ফেসবুক মার্কেটিং করা জানতে হলে আগে জানতে হবে মার্কেটিং কি ? মার্কেটিং হচ্ছে যখন কোন পন্যের প্রচার বা প্রচারনা করা হয় তখন তাকে মার্কেটিং করা বলে। আর ফেসবুকে যখন কোন পন্যের প্রচার বা প্রচারনা করা হয় তখন তাকে ফেসবুক মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। ফেসবুক মার্কেটিং করতে হলে আপনার ফেসবুক আইডি থাকতে হবে। এই আইডির আন্ডারে একটি ফেসবুক পেজ ও একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলতে হবে। এই ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপনার পন্যের বা প্রোডাক্টের প্রচার বা প্রচারনা করতে হবে। তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনার প্রোডাক্ট বা পন্য সম্পর্কে জানতে পারবে। যখন কোনো প্রোডাক্ট পছন্দ হবে তখন তারা ক্রয় করবে। এই ভাবে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট বা পন্যের প্রচার করে বা মার্কেটিং করে আপনার ব্যবসাকে প্রোমট করতে পারবেন। ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে এই লিংকে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন। লিংকটি হলো – https://www.ictcorner.com/facebook-marketing/

৫. এফিলিয়েট মার্কেটিং করা :

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানীর পন্য বিক্রয় করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের পন্য সাধারনত: দুই ধরনে হয়ে থাকে। এক. ডিজিটাল প্রোডাক্ট, দুই. ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট। ডিজিটাল প্রোডাক্ট হচ্ছে যে প্রোডাক্ট ধরা যায় না বা ছোয়া যায় না। যেমন : ডোমেন হোস্টিং, থিম, সি-প্যানেল ইত্যাদি। আর ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হচ্ছে যে প্রোডাক্ট ধরা যায় বা ছোয়া যায় তাকে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বলা হয়ে থাকে। যেমন: ইলেকট্রনিক প্রোডাক্ট, ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্ট, বিউটি প্রোডাক্ট ইত্যাদি। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে আপনাকে নিশ সিলেক্ট করতে হবে। নিশ রিলেটেড প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে হবে। সেই প্রোডাক্ট গুলোকে সোসাল মিডিয়ায় বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। তাহলে সেল জেনারেট বেশি হবে। আর এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য উপযুক্ত মার্কেট প্লেস সিলেক্ট করতে হবে। যাদের গ্রহন যোগ্যতা বেশি। মার্কেটপ্লেস গুলো হলো : আমাজান, আলিবাবা, দারাজ, ইভেলি, বিডিসপ, আলিএক্সপ্রেস ইত্যাদি। এ গুলোর মধ্যে থেকে পছন্দনীয় একটি বা দুটি মার্কেটপ্লেস সিলেক্ট করে নিয়ে তাদের প্রোডাক্ট বা পন্য মার্কেটিং করতে পারেন। মনে রাখবেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে একটি ব্লগসাইট, একটি ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজ থাকতে হবে। এ গুলোর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট বা পন্য সেল জেনারেট করা সম্ভব হবে।

শেষ কথা :

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে যে কোনো একটি কাজের স্কীল বা দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি যদি উপরের যে কোন একটি কাজে সঠিক ভাবে পারদর্শী হতে পারেন তাহলে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং। আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে পারবেন। আমি ফ্রিল্যান্সিংয়ের হাজারো কাজের মধ্যে থেকে ’ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজ ৫টি (5 Easy Tasks of Freelancing)’ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আপনার বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে জানাবেন আশা করি উত্তর পাবেন। নতুবা ইউটিউবে গিয়ে উপরের যে কোনো বিষয় লিখে সার্চ করলে অসংখ্য ভিডিও দেখতে পাবেন। সেখান থেকেও জেনে নিতে পারবেন। পাশাপাশি এই আর্টিকেলের তথ্য গুলো জানা থাকলে আপনার অনেক হেলপ হবে বলে আশা করি। ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment