ইউটিউব (Youtube) কি এবং কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করবেন

ইউটিউব থেকে আয়

ইউটিউব একটি ভিডিও শেয়ারিং সফটওয়ার। ইহার যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালে। সে থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত দুর্দান্ত গতিতে ছুটে চলছে। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ইউটিউব চিনে না এমন মানুষ খুবই কম আছে। ইউটিউবে বিভিন্ন রকমের ভিডিও আপলোড করা হয়। প্রতিদিন অসংখ্য ভিডিও আপলোড হচ্ছে। আপনি আমার মতো অসংখ্য ইউটিউবাররা এই সব ভিডিও আপলোড করছে। এই সব ভিডিও আপলোড করে আয় করছে। ইউটিউব থেকে আয় করতে চাইলে একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। সেখানে ভিডিও আপলোড করে আয় করতে পারবেন। আজকে আমরা আলোচনা করবো ইউটিউব (Youtube) কি এবং কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করবেন

ইউটিউব কি :

ইউটিউব হচ্ছে অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। জাওয়েদ করিম, চড হারলি, স্টিভচেন- এই ৩ জন মিলে ২০০৫ সালে এই পরিসেবাটি চালু করেন। ২০০৬ সালে গুগুল এটিকে ক্রয় করে নেন। সে থেকে ইহা গুগুলের একটি প্রোডাক্ট হিসাবে পরিগনিত হয়। এই তিন জন উদ্ভাবকের মধ্যে জাওয়েদ করিম ছিল বাংলাদেশী বংশদ্ভোত। ইউটিউব গুগুলের একটি ফ্রি সার্ভিস। এখানে যে কেউ যে কোনো প্রকারের ভিডিও আপলোড করতে পারে। আর এই ভিডিও গুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সর্ব সাধারনের জন্য উন্মোক্ত করে দেওয়া হয়ে থাকে। মোটকথা ইউটিউব হচ্ছে অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। এখানে যে কেউ ভিডিও আপলোড করতে পারে এবং যে কেউ তা সার্চ করে দেখতে পারে।

ইউটিউব থেকে আয় করার পদ্ধতি :

ইউটিউ থেকে আয় করতে চাইলে আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। চ্যানেলটিকে সুন্দর করে সাজাতে হবে। চ্যানেলকে ভেরিফাই করতে হবে। চ্যানেলে কিছু ইউনিক ভিডিও আপলোড করতে হবে। চ্যানেলটিকে মনিটাইজ করতে হবে। এই কাজ গুলো সঠিক ভাবে করতে পারলে আশা করা যায় আপনার চ্যানেল থেকে আয় করতে পারবেন।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি :

ইউটিউট চ্যানেল তৈরি করতে হলে আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট থাকেত হবে। এই জিমেইল আইডি দিয়ে আপনার ব্যক্তিগত চ্যানেল খুলতে পারবেন। আবার ইচ্ছা করলে ব্রান্ড চ্যানেলও খুলতে পারবেন। আয় করতে হলে একটি ব্রান্ড চ্যানেল থাকতে হবে। তাই আপনার চয়েজকৃত বিষয় রিলেটেড নাম দিয়ে একটি ব্রান্ড চ্যানেল খুলুন। আর একটি ব্রান্ড চ্যানেল কিভাবে খুলবেন তা জানতে হলে এই লিংকের https://www.ictcorner.com/youtube-channel/ মাধ্যমে আর্টিকেলটি পড়ুন। এখানে বিস্তারিত ভাবে দেওয়া আছে কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে এবং কাস্টমাইজ করতে হবে।

চ্যানেল ডিজাইন করা :

আপনার চ্যানেলকে সুন্দর ভাবে ডিজাইন করতে হবে। ডিজাইন করতে হলে আপনার চ্যানেলে লোগো সেট করতে হবে এবং চ্যানেল আর্ট সেট করতে হবে। এই দুটো জিনিস ক্যানভা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন। না পারলে কাউকে দিয়ে তৈরি করে নিবেন। অথবা ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন সেখান থেকে দেখে দেখে তৈরি করতে পারবেন। এছাড়া ডিসক্রেপশন এবং কিওয়ার্ড সেট করে অপটিমাইজ করতে হবে।

চ্যানেল ভেরিফাই করা :

চ্যানেল ভেরিফাই একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। আপনার চ্যানেল ভেরিফাই না করলে বড় বড় ভিডিও আপলোড করতে পারবেন না। আপনার চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারবেন না। তাই আপনার কান্ট্রি এবং সঠিক মোবাইল নম্বার দিয়ে আপনার চ্যানেলকে ভেরিফাই করতে হবে। চ্যানেল ভেরিফাই করতে গেলে আপনার মোবাইল নম্বারে একটি কোড যাবে সেই কোডটি যথা স্থানে বসে ভেরিফাই করতে হবে।

ইউনিক ভিডিও আপলোড করা :

ভিডিও হচ্ছে ইউটিউব চ্যানেলের প্রান। ভিডিও না থাকলে আপনার চ্যানেল মূল্যহীন। ভিডিও না থাকলে আপনার চ্যানেলের কোনো দাম নাই। তাই আপনার চ্যানেলে ইউনিক ভিডিও আপলোড করুন। মনে রাখবেন কখোনো কারো ভিডিও কন্টেন্ট কপি করে পেস্ট করবেন না। তাতে যে কোন সময় আপনার চ্যানেল সাসপেন্ড হতে পারে। বা আপনার চ্যানেল মনিটাইজ বাতিল হতে পারে। তাই নিজে ভিডিও তৈরি করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করুন। আপনি আপনার মোবাইল দিয়ে ভিডিও তৈরি করে তা আপলোড করতে পারেন।

মনিটাইজ করা :

আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে চাইলে আপনার চ্যানেলকে মনিটাইজ করতে হবে। মনিটাইজ করতে হলে আপনার চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। তবেই আপনি চ্যানেলকে মনিটাইজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ সার্বিক দিক বিচার বিশ্লেষন করে সকল দিক ঠিক থাকলে আপনার চ্যানেলকে মনিটাইজ করবে।

পড়ুন : ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকাম করুন

ইউটিউব থেকে আয় করার মাধ্যম বা উপায় :

বর্তমানে ইউটিউব থেকে আয় করা একটি অসাধারন মাধ্যম। এখান থেকে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সাররা আয় করছে। তাই ইউটিউব বর্তমান প্রজন্মের কাছে অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে ইউটিউব থেকে আয় করার কিছু মাধ্যম বা উপায় রয়েছে। সে গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. এডসেন্স থেকে আয় :

ইউটিউব থেকে আয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এডসেন্স। বাংলাদেশের অধিকাংশ ইউটিউবাররা এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করে থাকে। এডসেন্স হচ্ছে বিজ্ঞাপন দাতা সংস্থা। অবশ্য ইহার নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট নেই। ইহা বিভিন্ন কোম্পানী থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে বিভিন্ন ইউটিউবার বা ব্লগারদের দ্বারা পাবলিশ করে থাকে। ইউটিউব চ্যানেল আপনার চ্যানেলকে মনিটাইজ দিলে আপনি এডসেন্সে আবেদন করতে পারবেন। এডসেন্স এপ্রোভ করলে আপনার চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকবে। এই বিজ্ঞাপনে যখন কেউ ক্লিক করবে তখন আপনার চ্যানেলের আয় হতে থাকবে।

২. স্পন্সার করা :

স্পন্সার হচ্ছে কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্টের গুনো গান করে প্রচারের বিনিময়ে আয় করা। আপনার চ্যানেল যখন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং আপনার চ্যানেলে যখন প্রচুর সাবস্ক্রাইবার ও ভিউয়ার আসবে তখন বিভিন্ন কোম্পানী আপনার চ্যানেলে মাধ্যমে স্পন্সার করতে চাইবে। তখন গুগুলের রোল মেনে বিভিন্ন কোম্পানীর প্রোডাক্টের প্রচার করতে পারবেন। এই ধরনের স্পন্সারের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানী থেকে আয় করতে পারবেন।

৩. এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা :

এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানীর পন্য বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে কোন কোম্পানীর পন্যের প্রচার করতে পারেন। কোন পন্যের রিভিও দিতে পারেন। আপনার এই লিংক ধরে কেহ কোন পন্য ক্রয় করলে সেখান থেকে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাবেন। এভাবে আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে এ্র্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করতে পারেন।

৪. নিজের প্রোডাক্ট মার্কেটি করা :

আপনার নিজের কোন প্রোডাক্ট থাকলে তা আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন। আপনার নিজের পন্যের রিভিও তৈরির মা্ধ্যমে ভিডিও তৈরি করে চ্যানেলে আপলোড করুন। তা আপনার ভিউয়ারদের পছন্দ হলে ক্রয় করতে পারে। এভাবে নিজের পন্যের সেল জেনারেট করে আয় করতে পারেন। নিজের চ্যানেলের মাধ্যমে নিজের পন্য সেল জেনারেট করতে সুন্দর সুন্দর ভিডিও তৈরি করে আপলোড করুন। এভাবে সহজে মার্কেটিং করে আয় করুন।

৫. নিজের ফ্যান-ফান্ডিং :

নিজের ফ্যান ফান্ডিং থেকে আয় করতে পারেন। আপনার চ্যানেলে যদি কিছু Loyal অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন তাহলে তারা আপনার চ্যানেলকে Grow করতে ফান্ড দিতে পারে। এই ফান্ড আপনার চ্যানেলকে আরো উৎসাহ যোগাবে। আপনার ফ্যানদের জন্য ভালো ভালো ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে পারবেন। এ রকম ফ্যান ফান্ডিং তৈরির মাধ্যমে অনেকে আয় করছে। আপনিও ভালো ভালো ভিডিও তৈরি করুন নিজের ফ্যান ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আয় করুন।

আরো পড়ুন :

ফেসবুক মার্কেটিং করে আয় করুন

ডাটা এন্ট্রি করে আয় করুন

পরিশেষে কথা হচ্ছে ইউটিউব থেকে আয় করতে চাইলে আপনাকে সুন্দর সুন্দর ভিডিও তৈরি করতে হবে। ভিডিও গুলো আপনার চ্যানেলে আপলোড করতে হবে। চ্যানেলকে সঠিক ভাবে এস ই ও করতে হবে এবং সঠিক কিওয়ার্ড সেট করতে হবে। তবেই আপনার চ্যানেল বা ভিডিও সবার উপরে দেখা যাবে। ফলে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ও ভিউয়ার বৃদ্ধি পাবে। ভিউয়ার বৃদ্ধি পেলে আপনার চ্যানেলের এডে ক্লিক বেশি পরবে। যত বেশি ফ্যান ফলোয়ার বাড়বে তত বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবন থাকবে।

Related posts

Leave a Comment