কম্পিউটার কি এবং Computer কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত

Computer

আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও অন্যতম প্রযুক্তি হলো Computer।যা ব্যবহার করে আমরা বিশ্বের সকল খবরা খবর আদান প্রদান, সরবরাহ ও সংরক্ষন করতে পারি।এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে তথ্য আদান প্রদান করতে পারি।যার মাধ্যমে লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও, গ্রাফিক্স যাবতীয় কার্জ সম্পাদন করতে পারি। ইহা প্রযুক্তির অন্যতম হাতিয়ার।প্রশ্ন হচ্ছে কম্পিউটার কি এবং Computer কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত।এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কম্পিউটার কি :

গ্রীক শব্দ Compute থেকে Computer শব্দটি এসেছে। যার অর্থ গননাকারী যন্ত্র।কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটাকে আর শুধু গননাকারী যন্ত্র বলা যায় না।কম্পিউটার হচ্ছে এমন এক ইনেকট্রনিক্স যন্ত্র যার মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত প্রক্রিয়াকরন, তথ্য সংরক্ষন, আউটপুন প্রদর্শন ও প্রদান করা যায়।ইহার মাধ্যমে জটিল হিসাব নিকাশ থেকে শুরু করে স্থির বা চলন্ত ছবি দেখা, শব্দ শোনা, তথ্য আদান প্রদান করা সহ যাবতীয় কার্জ সম্পাদন করা যায়।এক কথায় বলা যায়, যে ইলেকট্রনিক যন্ত্র তথ্য প্রক্রিয়াকরন করে সবার সামনে উপস্থাপন করে তাকে কম্পিউটার বলে।

কম্পিউটারের ইতিহাস :

প্রাগৈতিহাসিক যুগে গননার যন্ত্র হিসাবে উদ্ভাবিত প্রচেষ্টাকে কম্পিউটারের ইতিহাস বলে ধরা হয়। প্রাচীন কালে মানুষ একসময় সংখ্যা বুঝানোর জন্য ঝিনুক, নুড়ি, দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করতো।পরবর্তীতে গননার কাজে বিভিন্ন কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার করা হলেও এ্যাবাকাস ( Abacus ) নামক একটি প্রাচীন গননা যন্ত্রকেই কম্পিউটারের প্রথম যন্ত্র হিসাবে ধরা হয়। এটা ব্যাবিলনে ২৪০০ খ্রি: আবিস্কৃত হয়।এ্যাবাকাস ফ্রেমে সাজানো গুটি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পরিবর্তন করে গননা করা হতো।ইহা প্রথম খ্রি: পূর্ব ৪৫০/৫০০ সালে মিশরে বা চীনে গননার যন্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়।পরবর্তীতে ১৬১৬ সালে স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার গণনার কাজে ছাপা বা দাগ কাটাকাটি অথবা দন্ড ব্যবহার করেন।এসব দন্ড জন নেপিয়ার ( John Napier ) এর অস্থি নামে পরিচিত।পরবর্তীতে নেবনিজের যন্ত্রের ভিত্তিতে চাকা ও দন্ড ব্যবহার করে গুন ও ভাগের ক্ষমতা সম্পন্ন যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করা হয়।যার নাম রিকোনিং ( Rechoning Mechine ) যন্ত্র।

Charles Babbage

উনিশ শতকের শুরুর দিকে আধুনিক একটি যন্ত্রের নির্মাণ ও ব্যবহারের ধারনা বা প্রচার করেন চার্লস ব্যাবেজ।যে যন্ত্র কোন বুদ্ধিমত্তা ব্যতিরেকে গানিতিক হিসাব করতে পারতো।তিনি এটির নাম দেন ডিফারেন্স ইন্জিন ( Difference Engine )।এই ডিফারেন্স ইন্জিন নিয়ে কাজ করার সময় ১৮৩৩ সালে তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইন্জিন নামে আরো উন্নত ও সার্বজনীন একটি যন্ত্রের ধরনা লাভ করেন।কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও র্অথের অভাবে কোনোটির কাজই তিনি শেষ করে যেতে পারেননি।এই সূত্র ধরে পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও কোম্পানীর প্রচেষ্টায় বর্তমানে আধুনিক কম্পিউটারের প্রচলন হয়।যার সুফল আমরা ভোগ করতেছি।তাই চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে।বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটারের আসে ১৯৬৪ সালে।

কম্পিউটার কত প্রকার :

গঠন ও বৈশিষ্ট অনুযায়ী প্রথমত কম্পিউটার ৩ প্রকার যথা:

১. এনালগ Computer

২. ডিজিটাল Computer

৩. হাইব্রিড Computer

১. এনালগ Computer :

এনালগ কম্পিউটার হলো এমন এক ধরনের কম্পিউটার যা ইলেকট্রিক, যান্ত্রিক বা হাইড্রলিকের ভৌত এবং চলমান পরিমাপ মডেল হিসাবে কাজ করে।এনালক কম্পিউটার যা সংখ্যার সাথে পরিচালনা করে সরাসরি পরিমাপযোগ্য পরিমানে প্রতিনিধিত্ব করে বা তুলনা করে। যেমন : ভোলটেজ বা ঘুর্ণন ইত্যাদি।এনালগ কম্পিউটারে পরিমাপ করে ফলাফল বের করা হয় বলে এর সূক্ষ্মতা কম, মোটামুটি ০.১%।এনালগ কম্পিউটারের উদাহরন হলো মটরগাড়ীর স্পীডমিটার, টেম্পারেচার মিটিার, ফুয়েল মিটার ইত্যাদি।

২. ডিজিটাল Computer :

ডিজিটাল কম্পিউটা বাইনারি সংখ্যা বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের উপস্থিতিকে ১ এবং ০ দ্বারা প্রকাশ করার মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে। বর্তমানে সকল কম্পিউটার ডিজিটাল কম্পিউটারের অন্তর্ভূক্ত।একসময় ডিজিটাল কম্পিউটার শুধু যোগ, বিয়োগ, গুন ও ভাগের কাজে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে ইহা জটিল তথ্য প্রক্রিয়াকরনের কাজ করে থাকে।

৩. হাইব্রিড Computer :

হাইব্রিড কম্পিউটার হচ্ছে এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিটারের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার বিশেষ কম্পিউটার।বৈজ্ঞানিক গবেষনার কাজের জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।ইহা এনালগ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদর্শন করে থাকে। আবহাওয়া অফিস হাইব্রিড কম্পিউটারে সাহায্যে এনালগ পদ্ধতিতে বয়ুচাপ, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপ করে তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে গননা করে আবহাওয়ার সংবাদ প্রচার করে থাকে।

ডিজিটাল কম্পিউটার :

আকার আয়তন ও ব্যবহারের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় যথা :

১. সুপার কম্পিউটার

২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার

৩. মিনি কম্পিউটার

৪. মাইক্রো কম্পিউটার

১. সুপার কম্পিউটার :

সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার হচ্ছে সুপার কম্পিউটার।এই কম্পিউটারে অনেক জটিল ও সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে।আকার আকৃতি ও ক্ষমতার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় কম্পিউটার হলো সুপার কম্পিউটার।মহাকাশ ও বৈজ্ঞানিক গবেষনা, নভোযান, জঙ্গি বিমান এবং ক্ষেপনাস্ত্র নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।কয়েকটি সুপার কম্পিউটারের নাম উল্লেখ করা হলো : CRAY X-MP, CRAY-1. CYBER- 205 ইত্যাদি।

২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার :

মেইনফ্রেম কম্পিউটার তুলনামুলক ভাবে সুপার কম্পিউটার থেকে শক্তিশালী কম হয়।তবে সাধারন কম্পিউটার থেকে মেইনফ্রেম কম্পিউটার অনেক শক্তিশালী ও আকারে বড়।এই কম্পিউটার বানিজ্যিক কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্যাংক, বীমা ও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে তথ্য আদান প্রদান, সংরক্ষন এবং গবেষনা কাজে এটা ব্যবহার করা হয়।ইহার উদাহরন হলো : IBM 9100, IBM 370, IBM 4341 ইত্যাদি।

৩. মিনি কম্পিউটার :

মিনি কম্পিউটার শিল্প বানিজ্য ও গবেষনা কাজে ব্যবহৃত হয়। সাধারন কম্পিউটারের চেয়ে মিনি কম্পিউটার আকারে বড় হয়। মিনি কম্পিউটারে টার্মিনাল লাগিয়ে এক সাথে ৫০ জন ব্যবহার করতে পারে।কিছু মিনি কম্পিউটারের নাম হলো: PDF -11, IBMS / 36, NCRS/9290 ইত্যাদি।

৪. মাইক্রো কম্পিউটার :

মাইক্রো অর্থ ক্ষুদ্র বা ছোট।মাইক্রো কম্পিউটারের অপর নাম পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি ( PC )। সাধারনত আমরা যেসব কম্পিউটার ব্যবহার করি তা হলো মাইক্রো কম্পিউটার।এতে থাকে মাদারবোর্ড। যাতে থাকে মাইক্রো প্রসেসর, র‌্যাম, রম, হার্ডডিস্ক, সিডি ড্রাইভসহ অনেক যন্ত্র নিয়ে মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয়।

মাইক্রো কম্পিউটারের প্রকারভেদ :

মাইক্রো কম্পিউটারকে ২ ভাগে ভাগ করা যায় :

১. ডেস্কটপ কম্পিউটার :

ডেস্ক বলতে বুঝায় টেবিল। তাই যে কম্পিউটার টেবিলের উপর রেখে ব্যবহার করা হয় তাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলা হয়। একটি মাদারবোডে যা যা থাকে তা নিয়ে ডেস্কটপ কম্পিউটার গঠিত। যেমন : সিপিইউ, মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস ইত্যাদি।দামে সস্তা হওয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এই কম্পিউটার খুব জনপ্রিয়।

২. ল্যাপটপ কম্পিউটার :

ল্যাপটপ বলতে বোঝায় কোলের উপর। তাই যে কম্পিউটার কোলের উপর রেখে ব্যবহার করা হয় তাকে ল্যাপটপ কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে।এটি সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করা যায়।তাই এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক।এছাড়া এটা ব্যাটারী চালিত হওয়ায় বিদ্যুত না থাকলেও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়।ফলে চার্চ থাকলে এটা যে কোনো স্থানে নিয়ে ব্যবহার করা যায়।ডেস্কটপের চেয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

ভাবছেন ফেসবুক থেকে আয় করবেন তাহলে ক্লিক করুন অথবা ফেসবুক মার্কেটিং করতে চাইলে লিংকে ক্লিক করুন : https://www.ictcorner.com/facebook-marketing/

কম্পিউটার বিভিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত :

১. মেমোরি :

একটি কম্পিউটারের যে অংশে তথ্য জমা থাকে তাকে মেমোরি বলা হয়ে থাকে। মেমোরিতে বিভিন্ন তথ্য জমা রাখা যায়। প্রয়োজনের সময় সেখান থেকে নিয়ে ইচ্ছমত ব্যবহার করা যায়।

২. গানিতিক যুক্তি অংশ :

এই অংশে কম্পিউটারে যে তথ্য দেওয়া হয় তা প্রক্রিয়করন হয়ে মনিটরে ফলাফল প্রদর্শন করে থাকে।অর্থৎ কম্পিউটারে দেয়া তথ্য গুলো গানিতিক যুক্তি অংশে প্রক্রিয়াকরন করা হয়।

৩. নিয়ন্ত্রন অংশ :

নিয়ন্ত্রন অংশ হচ্ছে একটি কম্পিউটারের সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় সাধন করে যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রন করে থাকে তা হলো নিয়ন্ত্রন অংশ।

৪. ইনপুট ইউনিট :

যার মাধ্যমে কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করানো হয় তাকে ইনপুট বলে।ইনপুট ইউনিট হচ্ছে :কি -বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, জয়েস্টিক, লাইট পেন, ডিজিটাল ক্যামেরা, পাঞ্চকার্ড রিডার, অপটিক্যাল মার্ক রিডার, পিপার টেপ রিডার ইত্যাদি।

৫. আউটপুট ইউনিট :

যার মাধ্যমে কম্পিউটারের ফলাফল প্রদান করা হয় তাকে আউটপুট বলা হয়।আউটপুট ইউনিট হচ্ছে : মনিটর, স্পিকার, প্রিন্টার ইত্যাদি।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগ সাইট তৈরি করুন : https://www.ictcorner.com/website/

পরিশেষে বলা যায় কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ইহার ফাংশন ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে এবং এর কাজও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।বর্তমান প্রযুক্তিতে কম্পিউটারের ভুমিকা ব্যাপক। ইহা প্রথমে গননাকারী যন্ত্র হিসাবে আবির্ভূত হলেও বর্তমানে জটিল থেকে জটিলতর কার্য সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

Related posts

3 Thoughts to “কম্পিউটার কি এবং Computer কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত”

  1. কম্পিউটার কি এবং Computer কত প্রকার ও কি কি সম্পর্কে বিস্তারিত ভালো একটা লেখা।
    আপনার লেখাটি অনেক ভালো ভাবে সাজানো।
    অনেক শিক্ষণীয়। এখান থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম।
    এই লেখাটি শেয়ার করার জন্যে ধন্যবাদ।

Leave a Comment